Saturday, August 3, 2013

লাভ জিহাদের পরবর্তী পরিনাম (ধারাবাহিক, কেইসষ্টাডি-৭)




এ বিষয়টি নিয়ে প্রথমপর্ব লেখার শুরুর আমি আমার নেট বন্ধুদের নিকট অগ্রিম ক্ষমা চেয়ে নিয়েছিলাম এজন্য যে কোন সত্যিকারের ঘটনাপুঞ্জি কথামালা লেখার মাধ্যমে তুলে ধরার যে যোগ্যতা থাকা দরকার, তা আমার নেই বলে আমি মনে করি। এমতাবস্থায় আমার অপরিপক্ক লেখামালায় কোন শব্দচয়ন যদি কারো মনে আঘাত দেয় সেজন্য তা আমার জন্য অপরাধ বৈকি। সে অপরাধরোধ থেকেই মা চাওয়া মূল কারণ। আরো অনুরোধ করেছিলাম পোষ্ট গুলি পড়ে যাদের নিয়ে লেখা গুলো লিখছি সে সব ভিকটিম গুলোকে কোন বন্ধু যেন গালিগালাজ না করেন। কিন্তু দেখলাম অনেকেই আমার অনুরোধ রাখেনি।

লেখার শুরুতে তিনটি পর্বে মেয়ে ভিকটিমের বিষয়ে লিখেছিলাম। দেখলাম অনেক ছেলেবন্ধু ভিকটিম সে সব হতভাগ্য বোনদেরকে একতরফা গালিগালাজ করেছেন। এরপর ধারাবাহিত তিনটি পর্বে লিখেছিলাম ভিন্ন ভিন্ন বয়েসী ছেলেদের নিয়ে, দেখছি এখানেও গালিগালাজ চলছে। সুতরাং মন্তব্যে জায়গায় গালি গালাজ না করবার জন্য আবারো অনুরোধ করছি। আমি পুনরায় অনুরোধ করছি, আপনারা লেখা গুলি পড়ে গালিগালাজ না করে আমাকে মতামত পাঠান এ বিষয়ে লেখা চালিয়ে যাব কি না, কিংবা বস্তুনিষ্ঠ লেখার মান কিভাবে আরো উন্নতিন করা যায়। আমি আমার সকল বন্ধুদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি, এ পোষ্ট গুলি পড়ার পর যদি কারো মনে যদি একটু খানি সচেতনতা অনুভব হয়, তাহলে আমি সার্থক বলে মনে করি। যাহোক, আজ হতে পরবর্তী কটি পর্বে পুনরায় কিশোরী মেয়েদের ভালবাসায় আটকে যাওয়ার কাথা আপনাদের জানানোর চেষ্টা করছি।

প্রায় সব বড় ছোট সকল কবি সাহিত্যিকদের লেখামালায় কিশোরীদের কথা নানা ভাবে এসেছে। রবিঠাকুরতো বলেই ফেলেছেন “কিশোরীর প্রথম প্রেম টেকে না, তবে এপ্রেম পরবর্তী জীবনের কোন কালেই নাকি ভুলে না। তিনি আরো বলেছেন, যে সকল পুরুষ মানুষ যদি কোন কিশোরীর প্রথম প্রেম পেয়েছেন কিংবা অনুভব করতে পেছেছেন, সে পূরুষকে ভাগ্যবানই বলতে হবে। কেননা, ঐ পুরুষটিকে কিশোরী সারা জীবন মনে রাখে। আধুনিক বিজ্ঞানও নাকি তাই বলে। কিশোরী মন নিয়ে নানান গবেষনাও হয়। গবেষনা পত্রে প্রায় একটি মজার ব্যাপার লক্ষ্য করা যায়, তাহলো কিশোরীরা প্রায়ই মধ্য বয়স্ক পূরুষের প্রেমে পড়েন। এরকারণ হলো কিশোরী মন হয় স্বপ্নচারী, আর স্বপ্নচারী মন সর্বদা চমৎকারিত্বে আকৃষ্ট হয়। কম বয়েসী পূরুষ থেকে বেশী বয়স্ক পূরুষ সে চমৎকারিত্ব প্রদর্শনে পারদর্শী হয় । সম্ভবতঃ একারনেই কিশোরীরা অধিকবয়স্ক পূরুষের প্রেমে পড়ে।

আমরা যদি ইতিহাসের দিকে লক্ষ্য করি, তাহলে দেখতে পাব পাকিস্তানের জনক কায়েদে আযম জিন্নাহ স্বয়ং ৪০ বছরের অধিক বয়সে তার সমবয়েসী অগ্নি উপাসক বন্ধুর কিশোরী মেয়েকে রতিকে পটিয়ে বিয়ে করে সেই সময়ে জিন্নাহ অমুসলিম বন্ধু মহলে ধিক্কৃত হয়েছিলেন। কথিত আছে, কিশোরী রতির বাবার সাথে বন্ধুত্বে সুবাধে অমুসলিম রতিদের বাড়ীতে জিন্নাহ সাহেবের অবাধে যাতায়াত ছিলো। জিন্নাহ সাহেব যখন মেয়েটিকে প্রথম বন্ধু বাড়ীতে আবিস্কার করেন, তখন মেয়েটির বয়স ছিলো চৌদ্দ বছর। তবে ঐ সময়ের বিখ্যাত এ আইনজ্ঞ মানুষটি কিশোরীটিকে পটিয়ে সাথে সাথে ধর্মান্তর করিয়ে বিয়ে করে ফেলেননি। বরং তিনি রতির বয়স ১৮ হওয়া অবধি ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করেছিলেন এবং যেদিন রতির বয়স আঠারতে উন্নীত হলো, সেদিনই কায়েদে আযম জিন্নাহ সাহেব রতিকে কোর্টে হাজির করিয়ে এফিডেফিডের মাধ্যমে ধর্মান্তরের ঘোষনাপত্রে স্বাক্ষর করিয়ে কাবিন নামায় স্বাক্ষর করায়\ এঘটনাটি ভারত পাকিস্তান স্বাধীনতা পূর্ব ঘটনা এবং এটি ঐ সময়ের মুসলিম যুব সমাজে ভীষন ভাবে উদ্ভীপ্ত করেছিলো। অনেকেই বলেন, কাযেদে আযম জিন্নাহ সাহেব কর্তৃক বহু ভাবে অসম এ বিয়ের সাথে নাকি সে ১৯৪৭ সালের টু নেশন থিউরী তথা দ্বিজাতি তত্বের একটা সম্পর্ক আছে। আপনাদের জানার জন্য আমি একটু খোলাসা করেই বলি।

আমরা কম বেশী সবাই ভালো করেই জানি ১৭৫৭ সালে বাংলার আম্রকাননে লড ক্লাইভ ও নবাব সিরাজের বাহিনী যুদ্ধের ফলাফলের মাধ্যমে ভারতবর্ষের স্বাধীনতা ইংরাজদের হাতে চলে যায়। বাংলার ইতিহাসখ্যাত এ যুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন নবাবে প্রধান সেনাপতি মীর জাফর আলী খা, যিনি একজন খাঁটি মুসলিম ছিলেন। অন্য দিকে মীর মদন ও মোহন লাল নামীয় নবাবের আরো দুজন হিন্দু সেনাধ্যক্ষ ছিলো যারা, যুদ্ধ করতে করতে গিয়ে প্রাণ বির্ষজন দিয়েছেন। ঠিক এর পরবর্তী ১৯৪৭ সালের অগাষ্ট পর্যন্ত ভারত বর্ষের হিন্দুদের ইতিহাস ছিলো ইংরাজদের বিরুদ্ধে নানা ভাবে বিদ্রোহ করিয়ে এদেরকে ভারত থেকে বিতাড়ন করার এবং ভারতবর্ষ মুক্ত করার চেষ্টার ইতিহাস। একারণেই ইংরাজদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে শহীদ স্বদেশীদের তালিকায় হিন্দু স্বদেশী শহীদ ব্যতীত মুসলিম শহীদ পাওয়া ভার। এর অন্যতম কারণ হলো, ঐ সময়ে মুসলিম আলেম ওলামারা ইংরেজী পড়তে চাইতেন না এবং মুসলিমদের ইংরেজী পড়তে নিরুৎসাহিত করতেন। হিন্দুরা বহু আগেই বুঝে গিয়েছিলো, ইংরেজীদের ভারত হতে তাড়াতে হলে ইংরাজদের বুঝতে হবে এবং এদেরকে বুঝতে হলে ইংরেজী শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়াটা খুব জরুরী। এ সত্য কথাটি তখকার মুসলিম সমাজ বুঝতে অনেক দেরী করে ফেলেছিলো। তবে বলে রাখা ভাল, গুটি কয়েক মুসলিম সে সময়ে বিলাত ফেরত ইংরাজী শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলো এবং এরা ইংরেজী বিরোধী আন্দোলনের অংশীদার হয়েছিলো। ঐ গুটিকয়েকের মধ্যে কায়েদে আযম জিন্নাহ অন্যতম এবং তিনি ইংরাজ বিরোধী আন্দোলনের প্রায় প্রথম ও দ্বিতীয় সারীর নেতাদের দলে ছিলেন।

উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, মিঃ জিন্নাহ তার বন্ধুর কিশোরী কন্যার পেছনে প্রায় ৪ বছর সময়কাল লেগেছিলো। এ সময়ের মধ্যে তিনি স্বদেশী আন্দোলনে সম্পূর্ণ রুপে অনুপস্থিত ছিলেন\ রতির ১৮ বছর পূর্ণ এবং তাঁকে কোর্টে নিয়ে বিয়ে ও মধুচন্দ্রিমা পর্ব শেষ করে তিনি যখন রাজনীতির মাঠে ফেরেন, তখন ভারতবর্ষে ইংরাজ বিরোধী আন্দোলন অনেক দূরে চলে গেছিলো এবং ভারতবর্ষ প্রায় মুক্ত হবার পথে ছিলো। ঠিক ঐ সমুর্তে জিন্নাহ সাহেব তার সেই বিখ্যাত টু নেশন থিওরী এপ্লাই করেন, যা ঐ সময়ের মুসলিম সমাজকে আকৃষ্ট করেছিলো। টু নেশন থিওরী তখনকার সময়ের মুসলিম সমাজকে প্রচন্ড ভাবে আকৃষ্ট করবার পেছনে রতিকে ধর্মান্তরকরে নিকাহ করার ঘটনাও কাজ করেছে। কেননা, ঐ সময়ের মুসলিম যুবসমাজ বুঝে নিয়েছিলো, জিন্নাহ সাহেব তাদের আদর্শ হতে পারে। যাহোক, জিন্নাহ সাহেবের চমর সা¤প্রদায়িক থিওরী ঐ সময়ের সংখ্যা লগিষ্ট মুসলিম সমাজকে আকৃষ্ট করার ফলাফল ভারত ও পাকি¯Íান নামে দুটি বাষ্ট্রের জন্ম কম বেশী সবাই জানেন।

এখানে বলে রাখা ভাল যে, জিন্নাহ সাহেব টু নেশন থিওরী কতটা উপমহাদেশের মুসুলমানদের উন্নতির কথা চিন্তা করেছেন তা তর্কের বিষয়, তবে একটা বিষয় নিশ্চিত ভাবে বলা যায় যে, রাজনীতি মূল বিষয় হলো চকৎকারিত্বের মাধ্যমে জনসাধারনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা ও তাদের সমর্থন আদায় করা। গবেষকদের ধারণা মিঃ জিন্নাহ সে কাজটিই করেছিলেন এবং তিনি সফলও হয়েছিলেন। যদিও টু নেশন থিওরীর পয়দা আজকের পাকিস্তানকে অনেকে ফাক-ই-স্তান বলে গালি দেয় এবং জিন্নাহ সাহেবের সে থিওরীর যন্ত্রনায় নরম মাটির এ বাংলাদেশেও ধর্মীয় উন্মাদনায় মাঝে মধ্যে ত বিত হয়। যেমনটি আমরা দেখলাম গেল ৫ মার্চ হেফাজতি তান্ডব।। চলবে...

চিত্রগুপ্ত
১৯ মে ২০১৩

এপ্রিল ফুল এবং মুসলিমদের পুড়ে মারার ভ্রান্ত গল্প




বাঙালির ধর্মচর্চা যতটা না উপাসনালয় কেন্দ্রীক, তার থেকে অনেক বেশি তথ্য প্রযুক্তি ভিত্তিক। যখন কলেজে পড়তাম, সেই ১৯৯৯ - ২০০০ সনের ঘটনা, তখন ইমেইল পেতাম বার্তা সহ। ঐ ইমেইল ফরোয়ার্ড না করলে গজব আসবে, ধ্বংস হয়ে যেতে হবে ইত্যাদি। এর পর মোবাইল ফোন জনপ্রিয় হবার পর একই ধরনের বার্তা আসতে লাগলো এস.এম.এস এর মাধ্যমে। আর এখন স্যোসাল নেটওয়ার্কিং এর যুগে প্রতিদিন সকালে ফেইসবুক খুলে বসলে ওয়ালে ওয়ালে ছড়িয়ে থাকে শত শত বার্তা। যারা ছড়াচ্ছে, তারা জানারও চেষ্টা করছে না যে সত্য ছড়াচ্ছে নাকি মিথ্যা। তার উপর এক শ্রেনীর স্বল্প শিক্ষিত মোল্লা তার অজ্ঞতাকে তথাকথিত শিক্ষিত হবার মোড়কে ঢেকে সাধারণ মানুষদের করছে আরো বিভ্রান্ত। তারই রেশ ধরে আমরা জানতে পারি এপ্রিল ফুলের ইতিহাসের মুসলিম সংস্করণ। মিথ্যে এবং বানোয়াট গল্প দিয়ে গড়া এই ইতিহাস।
এক শ্রেনীর মোল্লার মতে এপ্রিল ফুলের ঘটনা বড়ই কষ্টের। বড়ই করুণ। এই দিন রানী ইসাবেলা এবং রাজা ফার্ডিনান্ড এর সেনাবাহিনী মুসলিমদের মসজিদে ঢুকিয়ে পুড়িয়ে মেরেছিল। পর্যুদস্ত মুসলিম বাহিনীকে ক্রিশ্চিয়ানরা আত্মসমর্পনের সুযোগ দিয়ে বলেছিল মসজিদে আশ্রয় নাও। এভাবে তারা কৌশলে মুসলিমদের মসজিদে ঢুকিয়ে দরজায় তালা মেরে দিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। মুসলিমরা যখন পুড়ে মরছিল, ক্রিশ্চিয়ানরা তখন উল্লাস করছিল। মুসলিমদের বোকা বানানোর এই দিনটি ছিল এপ্রিলের এক তারিখ। সেই থেকে ক্রিশ্চিয়ানরা এই দিনটি উদ্‌যাপন করে আসে “এপ্রিল ফুল দিবস” হিসেবে।
প্রিয় পাঠক, আমি নিশ্চিত উপরের ইতিহাস আপনি শুনেছেন। শুনেছেন বহুবার। কিন্তু কখনও কি ইতিহাস ঘেঁটে দেখেছেন এর সত্যতা কতটুকু? আসুন আজ আমরা এক সাথে ইতিহাস ঘেঁটে দেখি। জোসেফ ও' কালাহান এর লেখা এবং কর্নেল ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে প্রকাশিত গ্রন্থ A History of Medieval Spain থেকে আমরা দেখতে পাই (বইটা অনলাইনে পড়া যাবে) মুসলিমরা স্পেনে শাসন শুরু করে ৭১১ খৃষ্টাব্দ থেকে। আল ওয়ালিদ ইবন আবদ আল মালিক প্রথম উমাইয়া খেলাফতের পক্ষ থেকে স্পেনে শাসন প্রতিষ্ঠা করে এবং কিছু অংশ নিয়ে গঠিত এলাকাকে উমাইয়া খেলাফতের প্রদেশ হিসেবে ঘোষণা করে। তবে তারা ৭৫০ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকে। এরপর ক্ষমতায় আসে করডোবার আমিরাত (৭৫০ থেকে ৯২৯ খৃষ্টাব্দ), করডোবার খেলাফত (৯২৯ থেকে ১০৩১ খৃষ্টাব্দ) এবং আলমনজুর (৯৩৮ থেকে ১০০২ খৃষ্টাব্দ)। শেষের জন আসলে একজন শাসক যিনি মুসলিম শাসনকে স্পেনে সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিলেন। তবে ইতিহাসে এর পরে দুশো বছর একচ্ছত্র আধিপত্য দেখাতে পারে নি কোন সুনির্দিষ্ট মুসলিম শাসক। মুসলিমদের স্পেন শাসন আবার পাকাপোক্ত হয় মূলতঃ ১২৩৮ সনে যখন গ্রানাডার আমিরাত প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই থেকে মুসলিমরা স্পেনের গ্রানাডা ভিত্তিক একটা খুবই শক্তিশালী রাজ্য হিসেবে পরিচিতি পায়।

স্পেনে যখন মুসলিমরা শাসন করছে তখন বিভিন্ন রাজারা যা করতে পারেন নি, একজন নারী হয়ে রানী ইসাবেলা তা করে দেখিয়েছিল। সে মুসলিমদের বিতাড়িত করেছিল স্পেন থেকে। প্রশ্ন জাগতে পারে, কে এই ইসাবেলা? হ্যা, এই সেই ইসাবেলা যে কলম্বাসকে আমেরিকা আবিষ্কারে পাঠিয়েছিল। পরবর্তীতে তাঁর দূরদৃষ্টি সম্পন্ন সিদ্ধান্ত গুলো স্পেনের ইতিহাসকে নূতন রূপ দিয়েছিল। ইসাবেলা অনুভব করেছিল মুসলিমদের হারাতে হলে স্পেনের ছোট ছোট রাজ্যগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আই. এল. প্লাঙ্কেটের লেখা Isabel of Castile গ্রন্থ থেকে আমরা জানতে পারি ইসাবেলা রাজনৈতিক শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে তার কজিন এ্যারাগনের রাজা ফার্ডিনান্ডকে বিয়ে করেছিল। এই বিয়েও খুব একটা সহজ ছিল না কেননা সে সময় কাজিনকে বিয়ে করতে খোদ পোপের অনুমতি প্রয়োজন ছিল। শেষ পর্যন্ত ইসাবেলা সেটাও জোগাড় করেছিল এবং ১৯ অক্টোবর ১৪৬৯ সনে তারা বিয়ে করে।

বিয়ের পর ইসাবেলা-ফার্ডিনান্ড এর প্রধান মিশন হয়ে দাঁড়ায় মুসলিমদের পরাজিত করা। ১৪৮২ সনের ১ ফেব্রুয়ারি রাজা-রানী ভ্যালাডোলিড প্রদেশের মেডিনা ডেল ক্যাম্পোতে এসে পৌঁছান গ্রানাডা আক্রমনের লক্ষ্য নিয়ে। জন এ্যাডওয়ার্ড তার লেখা পিয়ারসন এডুকেশন থেকে প্রকশিত গ্রন্থ Ferdinand and Isabella. -তে এ দিনটিকে গ্রানাডা যুদ্ধের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এ্যাডওয়ার্ডের ঐ ইতিহাস গ্রন্থ থেকেই জানা যায় যে এ সময় ইসাবেলা ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে তার সেনাবাহিনীতে সৈন্য নিতে শুরু করে এবং তাদের কামান বিভাগকে আরো সুগঠিত করে সাজাতে তৎপর হয়। গ্রানাডা আক্রমনের মূল সমস্যা ছিল প্রকৃতি। অঞ্চলটা এমন ভাবে দুর্গম প্রকৃতি দ্বারা বেষ্টিত ছিল যে সেখানে নূতন করে গিয়ে আক্রমন করতে হলে অসাধারণ সেনাবাহিনী প্রয়োজন। ইসাবেলা দারুণ ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে দশ বছর ধরে যুদ্ধ করে তবেই মুসলিমদের স্পেন ছাড়া করতে পেরেছিল।

এ্যাডওয়ার্ডের বর্ণনা মতে, ইসাবেলা একবারে গ্রানাডা দখল করার মত উচ্চাভিলাস দেখায় নি। বরং সে মুসলিস সাম্রাজ্যটাকে ভেঙ্গে ভেঙ্গে একটু একটু করে দখল করে। ১৪৮৫ সনে রন্ডো এবং ১৪৮৬ সনে গ্রানাডার লজা দখল করে ইসাবেলার সেনাবাহিনী। লজা দখলের সময় গ্রানাডার শাসক দ্বাদশ মোহাম্মদকেও তারা বন্দি করে কিন্তু পরে ছেড়ে দেয়। ১৪৮৯ সনে দখল করে বাজা। এভাবে আস্তে আস্তে গ্রানাডার একেকটা অঞ্চল দখল করতে করতে শেষ পর্যন্ত ১৪৯১ সনে মূল গ্রানাডা আক্রমণ করে ঘেরাও করে ইসাবেলার সেনাবাহিনী। ফলে শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে দ্বাদশ মোহাম্মদ আত্মসমর্পণ করে।

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে প্রকাশিত পেগি লিসের লেখা গ্রন্থ Isabel the Queen অথবা জন এ্যাডওয়ার্ডের লেখা পিয়ারসন এডুকেশন থেকে প্রকশিত গ্রন্থ Ferdinand and Isabella অথবা আই. এল. প্লাঙ্কেটের লেখা Isabel of Castile গ্রন্থ অথবা জোসেফ ও' কালাহান এর লেখা কর্নেল ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে প্রকাশিত গ্রন্থ A History of Medieval Spain থেকে আমরা দেখতে পারি ১৪৯২ সনের ২ জানুয়ারি ইসাবেলা এবং ফার্ডিনান্ড গ্রানাডায় প্রবেশ করে এবং দ্বাদশ মোহাম্মদের কাছ থেকে শান্তি পূর্ণ ভাবে নগরের চাবি গ্রহণ করে।

ইতিহাসের এই পর্যায়ে আমরা দেখতে পাচ্ছি, প্রথমতঃ কোন রকম অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঐ দিন ঘটে নি। এবং দ্বিতীয়তঃ দিনটি ১ এপ্রিল ছিল না বরং দিনটি ছিল ২ জানুয়ারি। অর্থাৎ যে দিনকে মোল্লারা মুসলিমদের পুড়িয়ে মারার দিন হিসেবে চিহ্নিত করে, তার তিন মাস আগেই গ্রানাডা বিজয় করে ক্রিশ্চিয়ানরা। এটা ঠিক, অত্যাচার তারা করেছিল। এ্যাডওয়ার্ডের বর্ণনা থেকে জানা যায় মুসলিমদের সবচেয়ে বড় মসজিদটাকে তারা চার্চ বানিয়েছিল এবং অন্য ধর্মের মানুষদের ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু এ কাজ যুগে যুগে সব ধর্ম ভিত্তিক শাসকরাই করেছে। তুরষ্কের সবচেয়ে বড় যে মসজিদটা রয়েছে সেটা এক কালে চার্চ ছিল।

এখন দেখা যাক এপ্রিল ফুলের ইতিহাস কী ছিল। এ্যানসাইক্লোপেডিয়া ব্রিটানিকা থেকে জানা যাচ্ছে যে এপ্রিল ফুলের উৎপত্তি মূলতঃ রোমান উৎসব হিলারিয়া থেকে যা হতো ২৫ মার্চ। তবে দিনটি পরবর্তিতে বিভিন্ন জাতির মধ্যে বিভিন্ন ভাবে উৎসবের দিন হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে। ইংরেজি সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজ হিসেবে ধরা হয় ১৩৯২ সনে প্রকাশিত চসারের কেন্টারবেরি টেলস। সেখানে মার্চের ৩২ তারিখ হিসেবে এপ্রিল ফুলের উল্লেখ রয়েছে। “মিউজিয়াম অব হোক্স” এর ওয়েব সাইটে বিভিন্ন এপ্রিল ফুলের ঘটনা তালিকাবদ্ধ করা হয়েছে। সেখানে দেখা যায় ইতিহাসে এপ্রিল ফুলের বড় দৃষ্টান্ত ১৬৯৮ সনে লন্ডনে ঘটে, যখন বহু মানুষকে বোকা বানিয়ে টাওয়ার অব লন্ডনে নিয়ে যাওয়া হয়। মূল কথা, এ দিনটি ইউরোপের বিভিন্ন জাতি বসন্তের শুরুর দিকের একটা উৎসব হিসেবে উদ্‌যাপন করে।

অতএব, উপরের আলোচনা থেকে এতটুকু দেখা যাচ্ছে যে স্পেনের ক্রিশ্চিয়ান সম্প্রদায়ের গ্রানাডা বিজয় এবং এপ্রিল ফুলের মধ্যে সামান্যতম সম্পর্কও নেই। অথচ মুসলিমদের পুড়িয়ে মারার এই মিথ্যেটা যুগ যুগ ধরে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টির লক্ষ্যে এক শ্রেনীর মৌলবাদী মোল্লা আমাদের সমাজে ছড়িয়ে দিচ্ছে। এ ধরনের মানুষের উদ্দেশ্য কখনওই ভালো হতে পারে না। এরা ধর্মকে ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থে। এদের কাছে ধর্ম একটা পণ্য। ক্ষমতা বিস্তারের পণ্য। এদের এখনই রোধ না করা হলে আমাদের সমাজে এরা ক্যান্সারের মত ছড়িয়ে পড়বে। এদের বিনা রেফারেন্সে বলা বক্তব্যকে সোস্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে বা ইমেইলে ছড়িয়ে দিয়ে আপনার ধর্মকে আপনিও পণ্য বানানো থেকে বিরত থাকুন।

কৃতজ্ঞতা ঃ সচলায়তন ব্লগ

সালমান খানঃ সত্যিকারের মুক্তমনা


 
মূর্তিপূজার অভিযোগে সালমান খানকে দুই দুই বার
ফতোয়া দিয়েছে কয়েকটি ইসলামি সংগঠন। মাদাম
তুসো জাদুঘরে সালমানের মোমের মূর্তি স্থাপিত হওয়ার পর প্রথম
ফতোয়া পেয়েছিলেন তিনি। পরে গণেশ চতুর্থী পূজায় অংশ
নিলে আবারও ফতোয়া জারি করা হয় তাঁর ওপর।
ইসলামে মূর্তিপূজা নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও এ ধরনের
কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে ইসলামি আইন ভঙ্গের অভিযোগ
তোলা হয়েছে সালমানের বিরুদ্ধে।
নিজের ধর্মে মরনও ভাল তাই আমরা সনাতনিরা কখন নিজ ধর্ম

 থেকে বিচ্যুতিকে সমর্থন করি না । আবার কেউ নিজের ইচ্ছাতে
 বিচ্যুত হলে তাকে হত্যা হুমকি বা এ ধরনের কোন ফাতোয়াও 
দেই না। আর এটাই সনাতন ধর্মের অহঙ্কার্

দেশের শত্রু তাঁরা

তাঁদের কেউ কেউ জীবন দিয়েছেন দেশের জন্য, কেউ কেউ আজীবন লড়াই করে গেছেন দেশ ও মানুষের স্বার্থে, কেউবা মেধা দিয়ে দেশকে সমৃদ্ধ করেছেন। অথচ তাঁদের সহায়-সম্পত্তি আজও চিহ্নিত হয়ে আছে অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে, যা শত্রু সম্পত্তিরই নামান্তর। দেশের মানুষ যাঁদের নিয়ে গর্ব বোধ করে, তাঁদের জমিজমা রেকর্ড করা হয় শত্রু সম্পত্তি হিসেবে। পাকিস্তান আমলে যে আইনের বলে এ কাজ করা হয়েছিল, পরে সেই আইনের নাম বদল করে অর্পিত সম্পত্তি আইন রাখা হলেও বিষয়বস্তু একই থেকে যায়। বিভিন্ন সময়ে শত্রু সম্পত্তি কিংবা অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে যাঁদের জমিজমা রেকর্ড করা হয়, তাঁদের মধ্যে আছেন চট্টগ্রাম বিদ্রোহের নায়ক স্বাধীনতা সংগ্রামী মাস্টারদা সূর্য সেন, দেশপ্রিয় যতীন্দ্র মোহন সেনগুপ্ত, বিপ্লবী রবি নিয়োগী, কবি নবীন চন্দ্র সেন, দার্শনিক ড. গোবিন্দ চন্দ্র (জি সি) দেব, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত, শহীদ অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু ও রবীন্দ্রনাথের স্নেহধন্য গোবিন্দ সিংহ মজুমদারসহ আরো অনেক বিশিষ্টজন।
ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম করে জীবন উৎসর্গ করেছেন মাস্টারদা সূর্য সেন (১৮৯৪-১৯৩৪)। চট্টগ্রাম বিদ্রোহের নায়ক হিসেবে মাস্টারদার নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে উপমহাদেশের সব স্তরের মানুষ। ১৯৩০ সালে চট্টগ্রামে ব্রিটিশদের অস্ত্রাগার লুট করে তিনি বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছিলেন।
অথচ রাষ্ট্রীয় নথিতে তিনি দেশের শত্রু। চট্টগ্রামের রাউজান থানার নোয়াপাড়া গ্রামে সেই মহান বিপ্লবীর বাড়ি-ঘর চিহ্নিত করা হয়েছে শত্রু সম্পত্তি হিসেবে। কারণ তিনি 'শত্রু রাষ্ট্র' ভারতের বাসিন্দা! নোয়াপাড়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ রাধা রানী দেবী কালের কণ্ঠকে বলেন, 'ব্রিটিশদের চোখে মাস্টারদা শত্রু হিসেবে চিহ্নিত হওয়া স্বাভাবিক। পাকিস্তানি শাসকদের কাছেও তিনি শত্রু বলে গণ্য হতে পারেন। কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশে তিনি কেন শত্রু হিসেবে গণ্য হবেন?'
নোয়াপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, মাস্টারদা সূর্য সেনের বাড়ি ১৯৭৬ সালের ৮ নভেম্বর শত্রু (অর্পিত) সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করে সরকার, যার নথি নম্বর-২৩৯। সে নথিতে সূর্য সেনের হাল সাকিন দেখানো হয়েছে ভারত। অথচ ১৯৩৪ সালে তাঁকে ফাঁসি দেওয়া হয়। রাউজান থানার নোয়াপাড়া মৌজার প্রত্যর্পণযোগ্য সম্পত্তির তালিকা থেকে জানা যায়, নোয়াপাড়া মৌজায় সূর্য সেনের জমির বিএস (বাংলাদেশ সার্ভে) দাগ নম্বর-১৮৫৪৭, ১৮৫৪৮, ২০২১২, ১৮১৪৮, ১৮২৪০, ১৮১৪৫, ১৮১৪৬, ১৮৫৪৫ ও ১৮৪৮৭। সেখানে জমির পরিমাণ মোট ৮৩ শতাংশ।
তা ছাড়া একই মৌজার বিএস ১৮৫৪১, ১৮৫৪৪, ২০১০৯, ১৮৫৩৯, ১৮৫৪৩, ১৮৬৩৮, ২০১০৮, ১৮৬৩৮ ও ২০১০৭ নম্বর দাগে সূর্য সেনের পরিবারের আরো দুই একর সোয়া আট শতাংশ জমি রয়েছে। ওই জমির শ্রেণী উল্লেখ করা হয়েছে বসতভিটি, পুকুর, পথ, নাল ও খাই (ছোট জলাধার) হিসেবে। ওই জমি ১৯৬৭ সালের ৩০ জানুয়ারি শত্রু (অর্পিত) সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়, যার নথি নম্বর-৩৫৯। নোয়াপাড়ার পথেরহাট বাজারে ইউনিয়ন তহসিল অফিসে গিয়ে সহকারী ভূমি কর্মকর্তা রঞ্জিত কুমার পালের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এরই মধ্যে সূর্য সেন ও তাঁর পরিবারের সব সম্পত্তি মাস্টারদা সূর্য সেন স্মৃতি সংসদের নামে লিজ দেওয়া হয়েছে। সম্পত্তির ওপর সূর্য সেনের স্মৃতিস্তম্ভ ও হাসপাতাল গড়ে তোলা হয়েছে। তবে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন পাস না হওয়া পর্যন্ত এসব সম্পত্তি শত্রু বা অর্পিত হিসেবেই তালিকাভুক্ত থাকবে বলে তহসিলদার রঞ্জিত কুমার পাল জানান।
বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে মর্যাদা দেওয়ার জন্য পাকিস্তান গণপরিষদে ১৯৪৮ সালের ২৫ আগস্ট প্রথম দাবি তুলেছিলেন কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত (১৮৮৬-১৯৭১)। মুক্তিযুদ্ধের সময় ২৯ মার্চ তাঁকে ও তাঁর ছেলেকে ময়নামতি ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে পাক-হানাদার বাহিনী। তাঁর লাশের হদিস পাওয়া যায়নি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রামরাইলে তাঁর বাড়ি শত্রু সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করে সরকার। 'যাঁর রক্তে দেশ স্বাধীন হলো, তাঁর বাড়ি কিভাবে শত্রু সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত হলো' সে প্রশ্ন কুমিল্লার সংস্কৃতি কর্মী জাবেদ আখতারের।
জানা যায়, কুমিল্লা শহরে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের বসতবাড়ি জাল দলিলপত্রের মাধ্যমে দখলের চেষ্টা করা হয়। এ ব্যাপারে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের নাতনি আরমা দত্ত বলেন, 'অনেক চেষ্টা-তদবির করেও দাদুর বাড়ি শত্রু সম্পত্তির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যায়নি। এত বড় দেশপ্রেমিকের বাড়ি-ঘর শত্রু সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করার মতো লজ্জা আর কী হতে পারে?'
ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের নেতা দেশপ্রিয় যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত, রবি নিয়োগী ও কবি নবীন চন্দ্র সেনের জমিজমাও শত্রু সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্যপরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত বলেন, 'আসলে শত শত কোটি টাকার সম্পত্তি দখল করে নেওয়ার জন্যই তাঁদের শত্রু হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।' তিনি বলেন, 'যত বড় দেশপ্রেমিক কিংবা বিপ্লবী হোক না কেন, তাঁদের একমাত্র অপরাধ তাঁরা ভিন্ন ধর্মাবলম্বী ছিলেন। এ একটি মাত্র কারণেই এ দেশের অসংখ্য মানুষকে শত্রুর তালিকায় ফেলে তাঁদের সম্পত্তি কেড়ে নেওয়া হয়েছে।' সমাজবিজ্ঞানী ড. অনুপম সেন বলেন, 'রাষ্ট্র সবচেয়ে বেশি অবিচার করেছে জে এম সেন অর্থাৎ যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্তের প্রতি। তিনি ছিলেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন সেনের প্রধান অনুসারী এবং ব্যারিস্টার। ১৯২১ সালে স্বাধীনতার জন্য তিনি অসহযোগ আন্দোলনে জড়িয়ে নিজের আইন পেশা পরিত্যাগ করেন। তাঁর স্ত্রী নেলী সেনগুপ্ত ছিলেন ভারতীয় কংগ্রেসের সভাপতি। এমন সম্মান দেশের খুব কম মহিলার ভাগ্যেই জুটেছে। অথচ তিনি জীবিত থাকাকালে রহমতগঞ্জের বাড়ি থেকে তাঁকে নির্মমভাবে উচ্ছেদ করে সে বাড়ি দখল করে নেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। সেখানে তিনি শিশুবাগ নামে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে এখনো সে বাড়িটি দখল করে রেখেছেন। ১৯৩৩ সালে রাঁচী জেলে অন্তরীণ থাকা অবস্থায় দেশপ্রিয় মারা গেলেও তাঁকে দেশের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁর বাড়ি ১৯৬৫ সালের আইনে শত্রু সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়।'
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্থাপত্যশৈলীর কারুকাজ করা দোতলা বাড়ির ফটকে 'শিশুবাগ' লেখা সাইনবোর্ড টাঙানো আছে। এর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে নাম আছে সামসুদ্দীন মোহাম্মদ ইসহাকের।
সিলেটের চৌহাট্টার 'সিংহবাড়ী' দেশবাসীর কাছে রবীন্দ্র ও নজরুল স্মৃতিধন্য হিসেবে পরিচিত হলেও সে বাড়ি বর্তমানে শত্রু সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত। সিংহবাড়ীর অন্যতম উত্তরসূরি সুজেয় সিংহ মজুমদার জানান, তাঁর দাদু গোবিন্দ সিংহ মজুমদারের আমন্ত্রণে কবিগুরু ও বিদ্রোহী কবি সিলেটে এসে সিংহবাড়ীতে অবস্থান করেন। সে বাড়ি শত্রু সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত। তিনি জানান, ৯৫.৬০ শতাংশ জমির ওপর সিংহবাড়ী গড়ে উঠেছে। এ সম্পত্তির ওয়ারিশসূত্রে মালিক উপেন্দ্র নারায়ণ সিংহ মজুমদার, সুধীরেন্দ্র নারায়ণ সিংহ মজুমদার, শুভব্রত সিংহ মজুমদার ও সত্যব্রত সিংহ মজুমদার। তাঁদের মধ্যে সুধীরেন্দ্র নারায়ণ মজুমদার ও শুভব্রত সিংহ মজুমদার ভারতে চলে গেলে তাদের জমি শত্রু সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। উপেন্দ্র নারায়ণ সিংহ মজুমদারের চার ছেলে সঞ্জয় সিংহ মজুমদার, সুজেয় সিংহ মজুমদার, জ্যোতির্ময় সিংহ মজুমদার ও সুধাময় সিংহ মজুমদার নিজবাড়িতে থেকে রেকর্ড ও খারিজ করে বসবাস করছেন। কিন্তু অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন ২০০১-এর তালিকায় পুরো জমিই রয়েছে। এমনকি বাংলাদেশ জরিপে (বিএস) সিংহবাড়ীর ৯৫.৬০ শতাংশ জমিই শত্রু (অর্পিত) সম্পত্তি হিসেবে রেকর্ড করা হয়। ফলে তাঁরা বাড়ির খাজনা দিতে পারছেন না। ৩০ ধারায় রেকর্ড সংশোধনী মামলা করা হলেও সেটলমেন্ট কোর্ট তা আমলে আনছেন না। ২০০৩ সালে এ সিংহবাড়ী সিলেটের মাকসুদ বখতের কাছে লিজ দেওয়া হলে তা নিয়ে সিলেটে ব্যাপক আন্দোলন হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন সে লিজ বাতিল করতে বাধ্য হয়।
শেরপুরে বিপ্লবী রবি নিয়োগীর দুই একর ৩২ শতাংশ জমি ১৯৬৫ সালে শত্রু সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। রবি নিয়োগীর ছেলে রঞ্জিত নিয়োগী ১৯৭৭ সালে আদালতে মামলা করলে ১৯৭৭ সালে রায়ে ওই সম্পত্তি রবি নিয়োগীর হিসেবে ঘোষণা করা হয়। কিন্তু আদালতের রায়ের পরও ১৯৮২ সালে নারায়ণপুর মৌজার বিএস ২৪৬৩, ২৪৬৫ ও ২৪৭৭ নম্বর দাগের সে জমি ফের শত্রু (অর্পিত) সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। ১৯৯৩ সালে মামলা করা হলে আদালত ওই জমি শত্রু সম্পত্তির তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আদেশ দেন। কিন্তু বিএস (বাংলাদেশ সার্ভে) জরিপে দুই একর ৩২ শতাংশ জমির পরিবর্তে দুই একর ৭৫ শতাংশ জমি শত্রু (অর্পিত) সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। এ ব্যাপারে রবি নিয়োগীর ছেলে রঞ্জিত নিয়োগী বলেন, 'জমি শত্রু সম্পত্তি হিসেবে চিহ্নিত করে আমাদের বারবার রাষ্ট্রের শত্রু হিসেবে ঘোষণা করা হচ্ছে। অথচ আমার বাবা দেশের জন্য ৩৪ বছর জেলে কাটিয়েছেন। তিনি কখনো দেশ ছেড়ে যাননি। জন্মস্থান শেরপুরেই তিনি ২০০২ সালের ১০ মে মৃত্যুবরণ করেন।'
কবি নবীন চন্দ্র সেন লেখনীর মাধ্যমে স্বাধীনতা সংগ্রামের বীজ রোপণ করেছিলেন। ১৮৭৫ সালে তিনি 'পলাশীর যুদ্ধ' নামে মহাকাব্য লিখে ব্রিটিশদের রোষানলে পড়েছিলেন। অথচ তিনি তখন ব্রিটিশ শাসকদের অধীনে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের চাকরি করতেন। ওই মহাকাব্য লেখার জন্য তিনি তৎকালীন প্রশাসনের নজরবন্দি ছিলেন। মৃত্যুর ৭৩ বছর পর ১৯৮২ সালের দিকে চট্টগ্রাম শহরের জামাল খান রোডে (চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে) তাঁর বাড়ি শত্রু (অর্পিত) সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। এক সময় তাঁর বাড়িটি জামায়াতে ইসলামীর কিছু নেতা দখল করে নিয়েছিলেন। বর্তমানে সেই বাড়ির প্রায় এক বিঘা জমি বিভিন্ন জন দখল করে আছে বলে স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কবি নবীন চন্দ্র সেনের জ্ঞাতী ভাগ্নে বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. অনুপম সেন বলেন, 'নবীন চন্দ্র সেনের মতো এত বড় কবির বাড়ি শত্রু সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার চেয়ে দুঃখজনক ঘটনা আর কী হতে পারে? রাষ্ট্রের উচিত অচিরেই এ গ্লানি থেকে কবিকে মুক্ত করা।'
বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত জ্যোতি বসুর বারদী মৌজার ৬৮৩ নম্বর সিএস দাগের ৫৩ শতাংশ জমি (বাড়ি) শত্রু সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কাদির নামে এক ব্যক্তি বাড়িটি দখল করে বসবাস করছেন। তবে জ্যোতি বসুর নানা শরৎ চন্দ্র দাসের কাছ থেকে পাওয়া একই মৌজার ৯০৬ নম্বর দাগের ৬১ শতাংশ জমি এখনো জ্যোতি বসু ও তাঁর বড় ভাই সৌরিন্দ্র কিরণ বসুর নামে রেকর্ডভুক্ত আছে।
মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব ও ড. জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতার জমিও শত্রু সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত আছে। গোবিন্দ চন্দ্র দেবের জমি সিলেটের বিয়ানীবাজারের লাউতায় এবং জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতার বাড়ি বরিশালের বানারীপাড়ায়। দুটি বাড়িই বর্তমানে অবৈধভাবে দখলে আছে।
সুত্রঃ কালের কণ্ঠ

১০ বছরে ৯ লাখ হিন্দু কমেছে





২০০১ ও ২০১১ সালের শুমারির জেলাভিত্তিক তথ্য পাশাপাশি রাখলে দেখা যায়, ১৫টি জেলায় হিন্দু জনসংখ্যা কমে গেছে। বিবিএসের কর্মকর্তারা বলেছেন, এসব জেলার হিন্দুরা দেশের অন্য কোনো জেলায় চলে গেছে, পরিসংখ্যান তা বলছে না। অর্থাৎ, অন্য জেলায়ও হিন্দু জনসংখ্যা বাড়েনি। কর্মকর্তারা এদের বলছেন, ‘মিসিং পপুলেশন’ বা ‘হারিয়ে যাওয়া মানুষ’। 
বরিশাল বিভাগের কোনো জেলাতেই হিন্দুদের সংখ্যা বাড়েনি। বরিশাল, ভোলা, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, বরগুনা—এই ছয়টি জেলায় ২০০১ সালের আদমশুমারিতে হিন্দু জনসংখ্যা ছিল আট লাখ ১৬ হাজার ৫১ জন। ২০১১ সালের শুমারিতে সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে সাত লাখ ৬২ হাজার ৪৭৯ জনে।
খুলনা বিভাগের বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা—পাশাপাশি এই তিন জেলায় হিন্দুদের সংখ্যা আগের চেয়ে কমেছে। বিভাগের নড়াইল ও কুষ্টিয়া জেলার প্রবণতা একই। ঢাকা বিভাগের মধ্যে এ তালিকায় আছে গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও কিশোরগঞ্জ জেলা। অন্যদিকে রাজশাহী বিভাগের পাবনা জেলায়ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল রেখে হিন্দু বাড়েনি।
স্বাধীনতার আগের দুটি ও পরের পাঁচটি শুমারির তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মোট জনসংখ্যার তুলনায় হিন্দুদের সংখ্যা ও হার কমেছে। মুসলমানদের সংখ্যা ও হার সব সময়ই বেড়েছে। বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীর হার মোটামুটি একই ছিল বা আছে। 
প্রবীণ রাজনীতিক ও গণঐক কমিটির আহ্বায়ক পঙ্কজ ভট্টাচার্য প্রথম আলোকে বলেন, সাম্প্রদায়িক আবহ তৈরি করে সম্প্রীতি নষ্ট করায় এমনটা ঘটছে। জামায়াতের মতো শক্তিগুলো পরিকল্পিত ও নিয়মিতভাবে নানা ঘটনা ঘটাচ্ছে। সাম্প্রতিককালে চট্টগ্রামের হাটহাজারী, সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ, কুড়িগ্রামের চিরিরবন্দরে ধর্মীয় জিগির তুলে মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরির চেষ্টা লক্ষ করা গেছে। তিনি বলেন, সংখ্যালঘুদের পাশে কেউ দাঁড়াচ্ছে না, তাদের আশ্বস্ত করছে না। নীরবে তাই দেশত্যাগ হচ্ছেই। 
কেন কমছে: একাধিক শুমারির প্রতিবেদনে হিন্দু জনগোষ্ঠীর মধ্যে মোট প্রজনন হার (টোটাল ফার্টিলিটি রেট—টিএফআর) তুলনামূলকভাবে কম বলে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু এর পক্ষে কোনো তথ্য পরিসংখ্যান ব্যুরোর কাছে চেয়ে পাওয়া যায়নি। 
তবে গোপালগঞ্জ, বরিশাল, ভোলার বিভিন্ন গ্রামে কথা বলে জানা গেছে, হিন্দুদের সংখ্যা কমে যাওয়ার বড় কারণ দেশত্যাগ। কয়েকটি জেলার লোকজন বলেছেন, ১৯৪৭ সালে উপমহাদেশ ভাগের সময় থেকে এই ভূখণ্ড ছেড়ে যাওয়া হিন্দু সম্প্রদায়ের একটা স্বাভাবিক প্রবণতা। কেউ বলেছেন, মূল কারণ শত্রু সম্পত্তি আইন। বলেছেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের চাপ ও নির্যাতনে পড়তে হয় হিন্দুদের। অন্যদিকে ভারতে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা দেখা দিলে তার আঁচও লাগে এ দেশের হিন্দুদের গায়ে। 
‘বুক বেঁধে দাঁড়াবার সংস্কৃতি কমে গেছে’—এমন মন্তব্য করেছেন ড. আনিসুজ্জামান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ইমেরিটাস অধ্যাপক বলেন, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার অভাববোধ বাস্তব ও অনুমিত। সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে কিছু লোক নানা ঘটনা ঘটাচ্ছে। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে কিছু নেতা বা রাজনৈতিক দল সংখ্যালঘুদের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দেয়। তবে স্থানীয় পর্যায়ে সেই প্রতিশ্রুতি পালিত হয় না, কর্মী পাওয়া যায় না। 
আতঙ্ক আছে চাঁদশী-ইল্লা-ধানডোবায়: বরিশাল জেলার গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলা থেকে বেশ কিছু হিন্দু পরিবার ২০০১ সালের পর এলাকা থেকে চলে গেছে। 
ধানডোবা গ্রামে গিয়ে জানা যায়, মনোজ বৈদ্য তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে ২০০১ সালের নির্বাচনের দুই দিন পর বাড়ি ছেড়ে চলে যান। আর ফিরে আসেননি। মনোজের প্রতিবেশী সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ওই নির্বাচনের পরদিনই বিএনপির কর্মীরা গ্রামের হিন্দু ও খ্রিষ্টানবাড়িতে আক্রমণ ও লুটপাট করেন। তাঁরা মনোজের বাড়ি থেকে গরু, ধান নিয়ে যান। পানের বরজ নষ্ট করেন।
ইল্লা গ্রামের কালীপদ দফাদার, সুবল দফাদার, মন্টু দফাদার, জয়দেব নন্দীর পরিবারও দেশ ছেড়ে চলে যায় ২০০১ সালের নির্বাচন-পরবর্তী সন্ত্রাসের কারণে। একই কারণে সুতারবাড়ি গ্রামের আদিত্য নাগ ও সুবল দে পরিবার নিয়ে দেশ ছেড়েছেন।
৩ নম্বর চাঁদশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষ্ণকান্ত দে প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর নিজের পরিবার, আত্মীয়, প্রতিবেশীসহ অনেক পরিবারে আক্রমণ, লুটপাট ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছিল। ওই ইউনিয়ন থেকে কোনো পরিবার এলাকা ছেড়ে যায়নি। তবে অনেক পরিবারের অংশবিশেষ দেশে থাকে না। তিনি বলেন, ‘ধরেন, কোনো পরিবারে পাঁচ ভাই আছে, তাদের দুই ভাই দেশে থাকে না।’ 
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজল দেবনাথ বলেন, সম্মান রক্ষায় অনেক বাবা-মা অল্প বয়সে মেয়েকে বিয়ে দিচ্ছেন, অথবা ভারতে রেখে স্কুলে বা কলেজে পড়াচ্ছেন। তবে তিনি দাবি করেন, দেশত্যাগের প্রবণতা কমেছে। শত্রু সম্পত্তি (অর্পিত সম্পত্তি) নিয়ে সরকারের উদ্যোগ পুরোপুরি সফল না হলেও সংখ্যালঘুরা আশা করছে, সম্পত্তি আর হাতছাড়া হবে না বা হাতছাড়া সম্পত্তি ফেরত পাবে। এখন বড় বড় শহরে হিন্দুরা বাড়ি করছে, ফ্ল্যাট কিনছে।
ভোলার পরিস্থিতি: বিবিএস পরিসংখ্যান বলছে, ভোলা জেলায় ২০০১ সালে হিন্দু ছিল ৭২ হাজার ২৭৫ জন। সর্বশেষ শুমারিতে দেখা যাচ্ছে, জনসংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৬১ হাজার ১৬২ জনে। 
ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের নলগোড়া গ্রামের সাধু সিংয়ের বাড়িতে ছিল ছয়টি পরিবার। পরিবারের প্রধান ছিলেন লক্ষ্মী নারায়ণ সিং। লক্ষ্মী নারায়ণ ১৯৯২ সালের পরে জমিজমা বিক্রি করে চলে যান। ওই গ্রামের লোকজন প্রথম আলোকে বলেছেন, ১৯৯২ সালের পর থেকে হিন্দু পরিবারগুলো চলে যেতে শুরু করে। ওই সময় বাররি মসজিদ ভাঙাকে কেন্দ্র করে ভারতে যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়েছিল, তাতে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের শিকার হয় এই গ্রামের মানুষ। 
২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনের পরও অনেক পরিবার চলে গেছে। গ্রাম ঘুরে মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৯২ সালের পর থেকে সুতারবাড়ির চারটি, ডাক্তারবাড়ির ১০, মাঝের সিংবাড়ির ছয়, রাস কমল হাওলাদার বাড়ির সাত, লক্ষ্মীকান্ত হাওলাদার বাড়ির তিন, তীর্থবাস হাওলাদার বাড়ির সাত, পরেশ হাওলাদার বাড়ির সাত, তেলীবাড়ির তিন, রাধেশ্যাম সুতারবাড়ির তিন, মন্টু হাওলাদার বাড়ির এক এবং রাড়ি বাড়ির সব কটি পরিবারসহ গ্রামের ৭৫টি বাড়ির দুই শতাধিক পরিবার চলে গেছে।
উপজেলার নলগোড়া, লেজপাতা ও চরগুমানী—এই তিনটি গ্রাম ছিল হিন্দু-অধ্যুষিত। স্বাধীনতার সময় এই গ্রামে চার শতাধিক বাড়ি ছিল। এই গ্রামগুলোর ১৭২টি বাড়ির কয়েক শ পরিবার চলে গেছে। 
বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের মুলাইপত্তন গ্রামে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত এক হাজারের বেশি হিন্দু পরিবার ছিল। বর্তমানে সেখানে আছে ৪৪টি পরিবার। 
লালমোহন উপজেলার লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নে চারটি গ্রাম ছিল হিন্দু-অধ্যুষিত। ১৯৯১ সাল পর্যন্ত এই ইউনিয়নে চার হাজার ৬০০ হিন্দু ভোট ছিল। ইউনিয়নের অন্নদাপ্রসাদ গ্রামের যাত্রামণি লস্কর বলেন, ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদের ঘটনা ও ২০০১ সালে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে গ্রামগুলোর অধিকাংশ হিন্দু পরিবার এলাকা ছেড়ে চলে যায়। স্থানীয় ইউনিয়ন স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রের দেওয়া তথ্যে বলা হচ্ছে, বর্তমানে ইউনয়নে হিন্দু ভোটারের সংখ্যা ৬০০। 
গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জ জেলায় আওয়ামী লীগের একক প্রাধান্য। সাধারণভাবে ধারণা করা হয়, দলটির সঙ্গে সংখ্যালঘুদের সুসম্পর্ক আছে। স্বাধীনতার পর জেলায় সাম্প্রদায়িক সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনাও উল্লেখ করার মতো নয়। তার পরও এই জেলা থেকে নিয়মিতভাবে হিন্দুরা চলে যাচ্ছে। ২০০১ সালে এই জেলায় হিন্দু ছিল তিন লাখ ৭১ হাজার ৬২৯ জন। ১০ বছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৫৩ হাজার ৭৯৪ জনে।
জেলার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রবীণ সাংবাদিক প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘শত্রু সম্পত্তির’ নির্যাতন চেপে আছে প্রায় ৫০ বছর ধরে। এরপর বড় আঘাত আসে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করার মধ্য দিয়ে। এসব ব্যাপারে আওয়ামী লীগ প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। 
একটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেছেন, উপযুক্ত হওয়ার পরও জেলা আওয়ামী লীগে সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের পদ ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা পায় না। সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজের সংসদে হিন্দু শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ পদ সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস)। ছোট গোপালগঞ্জ শহরে বড় দলের নেতারা সংখ্যালঘুদের বাড়ি-সম্পত্তি দখল করে দিব্যি বসবাস করছেন। এসব দৃশ্য দেখে নিরাপদ বোধ করে না হিন্দুরা।
গোপালগঞ্জের পরিস্থিতি সম্পর্কে কাজল দেবনাথের মন্তব্য, ‘প্রদীপের নিচে অন্ধকার।’
উদ্যোগ নেই: দেশত্যাগ বন্ধের উদ্যোগ এসব এলাকা ঘুরে দেখা যায়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোপালগঞ্জ জেলার একজন চেয়ারম্যান বলেছেন, ‘নিরাপদে জমি-বাড়ি যেন বিক্রি করতে পারে, সে ব্যাপারে কিছুটা সাহায্য করার চেষ্টা করি। থেকে যেতে বলতে পারি না।’
হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ, পূজা উদ্যাপন পরিষদ মাঝেমধ্যে জেলা, উপজেলা পর্যায়ে সভা ও সেমিনার করে। এসব সভা-সেমিনারে দেশ না ছাড়ার, নির্যাতনের প্রতিবাদ করার কথা বলা হয়। কাজল দেবনাথের দাবি, এতে কাজ হচ্ছে।
[প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন নেয়ামতউল্লাহ (ভোলা প্রতিনিধি), সুব্রত সাহা (গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি) ও জহুরুল ইসলাম (গৌরনদী, বরিশাল প্রতিনিধি)]

http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-09-22/news/291536

শেরপুরে হিন্দুদের দেশ ছাড়ার হুমকি দিয়ে ‘চরমপত্র’ বিতরণ

শাহরিয়ার মিল্টন, শেরপুর থেকে: শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলা সদরের হিন্দু -  অধ্যুসিত একটি মহল্লায় গত দু দিন ধরে উসকানি মূলক লিফলেট ‘চরমপত্র’ বিতরণ নিয়ে স্থানীয় প্রায় দেড় শত হিন্দু পরিবারের মধ্যে আতংক দেখা দিয়েছে। লিফলেটে বলা হয়েছে, ‘তোমরা হিন্দু, মুসলিমের চরম শত্রু। তোমরা আসামের মুসলিমদের অন্যায়ভাবে দিনের পর দিন হত্যা করে আসছ। আর তোমরা হিন্দুরা ঝিনাইগাতীর মাটিতে বেঁচে থাকার অধিকার নেই, আমরা দিব না। পরবর্তী চরমপত্র দেয়ার আগেই আংলাদেশ ছেড়ে ভারতবাসী হবে। তা না হলে গণহারে হত্যা করে আসামের মুসলিম নিধনের প্রতিশোধ নেয়া হবে। তোমরা হিন্দুরা আমাদের জাতীয় শত্রু। তোমরা আমাদের জমিতে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে আমাদের জায়গা জমি দখল করেছ। দেখি তোমাদের ভগবান কিভাবে বাঁচায়। ধন্যবাদ- মুসলিম ইয়ং গ্রুপ, শ্মাসান ঘাট।
জেলা পুলিশ বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়কে শংকিত না হতে বললেও ওই চরমপত্র নিয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলা সদর এবং গারো পাহাড় এলাকার সীমান্তে বসবাসরত হিন্দু সম্প্রদায়রা এটি ¯্রফে সাধারণ বিষয় হিসেবে দেখতে চায় না। তারা ইতিমধ্যে শেরপুর জেলা পুলিশ ও স্থানীয় জন প্রতিনিধি ও গণমান্য ব্যাক্তিদের নিয়ে বৈঠক করলেও সাধারণ হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ তাদের ব্যাবসা-বানিজ্য, জমি-জমা এবং তাদের ছেলে মেয়েদের স্কুল ও কলেজে যাতায়াতের বিষয় নিয়ে বেশ শংকার মধ্যে বসবাস করছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, সম্প্রতি ভারতের আসাম রাজ্যে স্থানীয় মুসলমানদের উপর হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ চরম নিপিরন ও হত্যাষজ্ঞের ঘটনা ঘটায়। ওই ঘটনাকে পুজি করে ঝিনাইগাতী সীমান্তে ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ইউনাইটেড লিবারেশন ফন্ট অব আসম বা ‘উলফা’র আস্তানা ও তাদের কার্যক্রম বর্তমান সরকার কঠোর হস্তে দমন করায় তাদের কোন বিচ্ছিন্ন কর্মী বা নেতা বাংলাদেশের ভিতর ভারতের আসামের মতো বিশৃংখলা সৃষ্টির লক্ষে স্থানীয় মুসলমানদের ক্ষেপিয়ে তোলার পায়তারা করা হচ্ছে বলেও অনেকেই ধারনা করছে। তবে উলফার বিষয় নিয়ে পুলিশ প্রশাসন কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। কিন্তু ঝিনাইগাতী হাই স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক ও পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি অনন্ত কুমার রায় লিফলেট বিতরনের সাথে উলফার সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে ধারনা করে বলেন, আমরা এখানে বংশ পরম্পারায় বাবদাদার ভিটে-মাটিতে যুগ যুগ ধরে এই ঝিনাইগাতীতে বসবাস করছি আজ পর্যন্ত স্থানীয় মুসলমান বা অন্য ধর্মাবল্বী কারো সাথেই কোন দাঙ্গা-ফ্যাসাদ তো দুরের কথা সামন্যতম ঝগড়া বিবাদও হয়নি।
এ ব্যাপারে শেরপুরের পুলিশ সুপার মো. আনিসুর রহমান জানান, কথিত চরমপত্র বিতরণের খবর পাওয়ার পরই গত বৃহস্পতিবার আমারা ঝিনাইগাতী উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় জন প্রতিনিধি ও সুধি সমাজের নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠক করেছি। তাদের আশ্বস্থ করেছি যে, এ লিফলেট বিতরণের সাথে যারা জড়িত তাদেরকে দ্রুত খুজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে এবং অহেতুক শংকিত হওয়ার কোন কারণ নাই। এছাড়া উলফার বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

হেফাজতের আগ্রসী মনোভাব,শিকার হিন্দু দম্পতি

হেফাজতের আগ্রসী মনোভাব,শিকার হিন্দু দম্পতি

হেফাজতের আগ্রসী মনোভাব,শিকার হিন্দু দম্পতি
আফগানিস্তান বানানোর প্রথম ধাপ শুরু হলো চট্টগ্রামে , চট্টগ্রাম থেকে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানাচ্ছেন
ব্যাপারটা চিন্তা করুন মনযোগ দিয়ে-----
আপনি আপনার প্রিয়তমা স্ত্রী কে নিয়ে রিক্সা করে যাচ্ছেন। রাস্তায় হেফাজতে ইসলাম নামের কিছু কুলাঙ্গার আপনার রিক্সার গতিরোধ করে দাঁড়াল। আপনার প্রিয়তমা স্ত্রী কে রিক্সা থেকে নামিয়ে ফেলল। বলল আপনার সাথে এই মেয়ের সম্পর্ক কি? আপনি বারবার বলার পরেও ওরা মানতে নারাজ যে এইটা আপনার বৈধ স্ত্রী। কেমন লাগবে আমার।

আসল কথায় আসি এইটা একতা সত্যি ঘটনা। একটু আগে চট্টগ্রামের কাজীর দেউরী মোড়ে এক হিন্দু দম্পতির সাথে এই ঘটনা ঘটে গেল। আমি নির্বাক। কথা হারিয়ে ফেলেছি। বুকের ভিতরে কষ্ট হচ্ছে খুব। বারবার কেউ যেন বলছে কুত্তার বাচ্চা এইটা তোর দেশ না।

এই দেশ ছেড়ে চলে যাব’


এই দেশ ছেড়ে চলে যাব’ রমেন দাশগুপ্ত, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম



ছবি: সোহেল সরওয়ার/বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম


চট্টগ্রাম: ‘এই দেশে থেকে কি করব? এ দেশ তো আমাদের না। না হলে যারা পশু লেলিয়ে দিয়ে মানুষ খুন করতে পারে, তাদের বিচার হবেনা কেন? তারা নিশ্চয় রাষ্ট্রের চেয়েও বেশি প্রভাবশালী। যে রাষ্ট্রে খুনীরা এত ক্ষমতবান হয়, সেই রাষ্ট্রে আমাদের থাকার ইচ্ছে নেই। আমরা এই দেশ ছেড়ে চলে যাব।’

কুকুর লেলিয়ে দিয়ে নির্মমভাবে খুনের শিকার মেধাবী ছাত্র হিমাদ্রি মজুমদার হিমু’র মা গোপা মজুমদার বুধবার দুপুরে বাংলানিউজকে ক্ষুব্ধ কন্ঠে এসব কথা বলেন। বৃহস্পতিবার নৃশংস ওই হত্যাকান্ডের এক বছর পূর্ণ হবে।

হিমুর বাবা প্রবীর মজুমদার বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমি মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছি, বাংলাদেশে আর থাকব না। এদেশকে আর আমাদের নিজের দেশ বলে মনে হয়না। আমার ছেলে ও-লেভেল দিচ্ছে। পরীক্ষা শেষ হলে চলে যাবার জন্য প্রস্তুতি নেব।’

কোন দেশে যাবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কয়েকটাতে ট্রাই করছি। যেটাতে সুযোগ পাই সেটাতেই চলে যাব।’

চাঞ্চল্যকর হিমু হত্যা মামলার এক বছর পার হতে চললেও নৃশংস এ ঘটনার বিচারে দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি হয়নি। পাঁচ প্রভাবশালী আসামীর মধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন ইতোমধ্যে জামিন নিয়ে বেরিয়ে গেছেন। বাকি দু’জনকে গত এক বছরেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

এ অবস্থায় সন্তান হারানোর যন্ত্রণায় অস্থির হিমুর মা-বাবার মধ্যে ছেলে হত্যার সঠিক বিচার না পাবার আশংকা তৈরি হয়েছে। হিমুর অবর্তমানে বেঁচে থাকা তার ছোট ভাই নীলাদ্রির ভবিষ্যত নিয়েও তারা সবসময় উৎকন্ঠার মধ্যে থাকেন। সব মিলিয়ে বড় ধরনের মানসিক চাপ থেকেই মূলত দেশ ছেড়ে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন হিমুর বাবা-মা।

হিমু হত্যা মামলার বাদিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফেরদৌস আহমদও মামলার অগ্রগতিতে হতাশা প্রকাশ করে বাংলানিউজকে বলেন, ‘লাল ফিতার দৌরাত্ম্য আমাদের আদালতেও আছে। মামলার চার্জশীট হয়েছে। পলাতক আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য আদালত ওয়ারেন্ট ইস্যু করেছেন। এরপর পুলিশ প্রতিবেদন আসবে। পলাতক আসামীদের বিরুদ্ধে ক্রোকী পরোয়ানা জারি হবে, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি যাবে। তারপর গেজেট নোটিফিকেশন শেষে চার্জ গঠন অর্থাৎ বিচার শুরু হবে। কিন্তু সব প্রক্রিয়া যেভাবে ধীর গতিতে এগুচ্ছে তাতে খুব শীঘ্রই বিচার শুরুর সম্ভাবনা নেই।’

বুধবার দুপুরে নগরীর হেমসেন লেইনে হিমুর বাসায় যাবার পর সাংবাদিক দেখেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তার মা গোপা মজুমদার। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, ‘হিমু মরে গিয়ে আমাকে মৃত্যুর চেয়েও কঠিন যন্ত্রণায় রেখে গেছে। আমি ভাল কিছু খেতে পারিনা, ভাল করে ঘুমাতে পারিনা। ভাল কোন জায়গায় যেতে পারিনা। সন্তান হারানোর যন্ত্রণা যে কী অসহ্য যন্ত্রণা, মা হিসেবে আমার মনে হয় আমি প্রতি মুহুর্তে মারা যাচ্ছি। আমাকে একেবারে নি:স্ব করে দিয়ে সে চলে গেছে।’

মুছে ফেলা হচ্ছে হিমুর স্মৃতি
ভাল গিটার বাজাত হিমু। খুবই সৌখিন ছিল সে। শার্ট, টিশার্ট, প্যান্ট, হাতের ব্রেসলেট সব সুন্দর জিনিস এনে জমা করত বাসায়। ঘরের দেয়াল জুড়ে ছিল তার ছবি, বিভিন্ন ধরনের চিত্রকর্ম। কিন্তু সেই বাসায় এখন দেয়ালে তেমন কোন পেইন্টিংস নেই। পুরো বাসায় শুধুমাত্র বসার কক্ষে খানিক অন্ধকারের মধ্যে ঝুলছে হিমুর একটি ছবি। পড়ার টেবিলটিও সরিয়ে ফেলা হয়েছে। গিটারটি রাখা হয়েছে চোখের আড়াল করে।

হিমুর বাবা প্রবীর মজুমদার জানালেন, হিমুর কোন স্মৃতি চোখে পড়লেই কাঁদতে থাকেন তার মা। সেজন্য হিমুর পড়ার টেবিলটি তিনি বিক্রি করে দিয়েছেন। গিটারটি মুছে আলমারিতে তুলে রেখেছেন। সব কাপড়চোপড় গরীব লোকজনকে দান করে দিয়েছেন। বাসায় যেন হিমুর কোন স্মৃতি চোখে না পড়ে সেই চেষ্টা তিনি করে যাচ্ছেন নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধে হলেও।

এসব কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন প্রবীর মজুমদারও। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমি সকালে মর্ণিং ওয়াকে যেতে পারিনা। বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদের স্কুলে নিয়ে যেতে দেখলে আমার বুক ভেঙ্গে যায়।’

গোপা মজুমদার বলেন, ‘হিমু চিংড়ি মাছ, খাসির মাংস খেতে খুব ভালবাসত। আমি এখন বাসায় হিমুর পছন্দের কোন খাবার রান্না করতে পারিনা। আমার ছেলে ফল খেতে ভালবাসত। তার বাবা এখন বাসায় কোন ফল আনেনা।’

তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি আমার ছেলেকে (হিমুর ছোট ভাই) বাইরে খেলতে যেতে দিইনা। একা স্কুলে পাঠাইনা। তার বাবাকে ছাড়া গেটের বাইরেও যেতে দিইনা। আমার ছেলেকে আমি মানসিকভাবে অসুস্থ বানিয়ে ফেলছি। কিন্তু আমার সবসময় ভয় হয়, আমার ছেলে একা বের হলে তাকেও যদি নিয়ে গিয়ে মেরে ফেলে।’

এলাকায় মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় ২০১২ সালের ২৭ এপ্রিল নগরীর পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার ১ নম্বর সড়কের ‘ফরহাদ ম্যানশন’ নামের ১০১ নম্বর বাড়ির চারতলায় হিমুকে হিংস্র কুকুর লেলিয়ে দিয়ে নিমর্মভাবে নির্যাতন করে সেখান থেকে ফেলে দেয় অভিজাত পরিবারের কয়েকজন বখাটে যুবক।

গুরুতর আহত হিমু ২৬ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ২৩ মে ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা যান। হিমু পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার ১ নম্বর সড়কের ইংরেজি মাধ্যমের সামারফিল্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের ‘এ’ লেভেলের শিক্ষার্থী ছিল।

এ ঘটনায় হিমুর মামা প্রকাশ দাশ অসিত বাদি হয়ে পাঁচলাইশ থানায় পাঁচজনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। আসামীরা হলেন, ব্যবসায়ী শাহ সেলিম টিপু, তার ছেলে জুনায়েদ আহমেদ রিয়াদ এবং রিয়াদের তিন বন্ধু শাহাদাৎ হোসাইন সাজু, মাহাবুব আলী খান ড্যানি এবং জাহিদুল ইসলাম শাওন।

মামলা দায়েরের এক মাসের মাথায় আসামী শাহাদাৎ হোসাইন সাজুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ২০১২ সালের ১০ অক্টোবর শাহ সেলিম টিপু ও ছেলে রিয়াদ আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠান। কিন্তু সম্প্রতি তিনজনই জামিন পেয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে যান।

এদিকে ওই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পাঁচলাইশ থানা পুলিশ ওই মামলায় এজাহারভুক্ত পাঁচজন আসামীকে অন্তর্ভুক্ত করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। ১৮ অক্টোবর পলাতক আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। কার্যত এরপর থেকে মামলাটি স্থবির হয়ে আছে। পরোয়ানা জারির আট মাস পার হয়ে গেলেও পাঁচলাইশ থানা থেকে এ সংক্রান্ত কোন প্রতিবেদন আদালতে পাঠানো হয়নি।

পাঁচলাইশ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমরা পলাতক আসামীদের গ্রেপ্তারে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি। কিন্তু তাদের পাওয়া যাচ্ছেনা। আশা করছি, এক মাসের মধ্যে আমরা পরোয়ানা প্রতিবেদন আদালতে পাঠিয়ে দিতে পারব।’

অভিযোগ আছে, আসামী ধনাঢ্য ব্যবসায়ী শাহ সেলিম টিপু গুরুত্বপূর্ণ সরকারী পদে থাকা নগর আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতার ঘনিষ্ঠজন। মূলত রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই পুলিশ পলাতক আসামীদের গ্রেপ্তার করতে পারছেন না। বিভিন্ন কুটকৌশলে স্থবির হয়ে আছে চাঞ্চল্যকর মামলাটিও।

হিমু’র মা গোপা মজুমদার বাংলানিউজকে বলেন, ‘শাহ সেলিম টিপু রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হলেও সে একজন খুনী। আর খুনীর কোন রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারেনা। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভ‍াবে রাষ্ট্রের আইন প্রভাবশালীর কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। আর এ কারণে আমরা বিচার পাচ্ছিনা।’

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিবেদনঃ সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতায় প্রাণহানি অব্যাহত রয়েছে





বাঁশখালীর সেই ১১ হত্যাকাণ্ড( জাতি কি ভুলে গেছে সে কাল রাতের কথা??)



বিগত চারদলীয় জোট সরকার আমলে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর সাধনপুর শীলপাড়ায় পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের শিকার সেই তেজেন্দ্রলাল শীলের পরিবারটির কথা মনে পড়ে কি। পরিকল্পিতভাবে ঘরে অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে মারা হয় ঐ পরিবারের চারদিন বয়সের এক শিশু ও নারীসহ ১১ জনকে। সে ভিটেমাটি এখনও শূন্য পড়ে আছে। সেখানে ওঠেনি নতুন ঘর। বাড়ি যাবার অবস্থা সৃষ্টি না হওয়ায় বিচার না পাওয়া পরিবারটির বেঁচে থাকা সদস্যদের কাটছে পরবাসী জীবন। ঘটনার সাড়ে ৮ বছরেও নিষ্পত্তি হয়নি মামলার। পরিবারের সদস্যদের প্রশ্ন মহাজোট সরকার আমলেও মামলা এভাবে ঝুলে থাকলে আর কখন পাওয়া যাবে নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের বিচার।

পরিবারের সদস্য মামলার বাদী বিমল শীল মঙ্গলবার জনকণ্ঠকে বলেন, আমরা তিন ভাই বেঁচে আছি। ঘটনার দিন আমি ছিলাম শ্বশুর বাড়ি। বাকি দুই ভাইয়ের মধ্যে এক ভাই ছিল বিদেশে এবং আরেক ভাই ছিল বাইরে তার কর্মক্ষেত্রে। এ সুবাদেই আমাদের বেঁচে যাওয়া। শূন্য ভিটেতে সাধারণত নতুন ঘর ওঠে। কিন্তু আমাদের পৈত্রিক ভিটেমাটি পড়ে আছে খালি। সেখানে কেউ আর বসবাস করে না। নিজের পৈত্রিক ভিটের সঙ্গে মানুষের আবেগ এবং স্মৃতি জড়িয়ে থাকে। কিন্তু কিছুই করার নেই। এ যেন আমাদের নিয়তি।

বিমল শীল এখন বসবাস করেন চট্টগ্রাম নগরীতে। বাঁশখালীতে তাঁর একটি ওষুধের দোকান ছিল। কিন্তু নিরাপত্তার অভাববোধ থেকে তিনি সেখান থেকে এসে ওষুধের দোকান দেন শহরে। বাকি দুই ভাইয়ের মধ্য একজন এখনও বিদেশে, অপরজন রয়েছেন শিক্ষকতা পেশায়। কারোরই বাড়ি যাওয়া হয় না। কারণ বাড়ি যাওয়া মানেই স্বজন হারানোর বেদনায় ভেঙ্গে পড়া। একান্ত আপন কেউ নেই যাদের জড়িয়ে ধরে সান্ত¡না খুঁজে পাওয়া যাবে। তাছাড়া নেই থাকবার ঘরও।

বিমল শীল জানান, শূন্য ভিটায় ঘর উঠাবার জন্য আমরা সরকারের কাছে আর্থিক সাহায্য চেয়েছিলাম। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, দগ্ধ হয়ে নিহত ১১ জনের নামে একটি সড়কের নামকরণের। নিরাপত্তা চেয়ে লিখিতভাবে আবেদন জানানো হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী বরাবরে। কিন্তু কিছুই মেলেনি এখনও। তবে নিরাপত্তা সংক্রান্ত আবেদনের জবাবে প্রায় দু’মাস আগে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব নজরুল ইসলাম সাক্ষরিত একটি পত্র এসেছে, যাতে আমাদের ছবি ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এসব জমা দিয়েছি। এখন অপেক্ষার পালা। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদনও করেছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক যে, সে সুযোগ এখনও কেউ করে দেয়নি।

মামলার বর্তমান অবস্থা প্রসঙ্গে বিমল শীল বলেন, সর্বশেষ গত ১৯ এপ্রিল আলোচিত এ মামলার দ্বিতীয় দফা চার্জ গঠিত হয়েছে ৩৭ জনের বিরুদ্ধে। এতে বাদ পড়েছেন সাবেক বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী এমপির চাচাত ভাই বিএনপি নেতা আমিনুর রহমান চৌধুরী ওরফে আমিন চেয়ারম্যান। উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এ্যাডভোকেট আবুল হাশেম। এ ব্যাপারে গত ৫ এপ্রিল এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের সঙ্গে সাক্ষাত হয়েছে বলে জানিয়ে বিমল শীল বলেন, তিনি এ ব্যাপারে যথাযথ আইনী সহায়তা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

জেলা পিপি এ্যাডভোকেট আবুল হাশেম মামলার অগ্রগতি প্রসঙ্গে জনকণ্ঠকে বলেন, আমিন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠিত না হওয়া মানে তাঁকে অব্যাহতি দেয়া নয়। আদালতে আসামির উপস্থিতিতে অভিযোগ গঠন করা হয়। সেদিন তিনি (আমিন চেয়ারম্যান) উপস্থিত ছিলেন না বলেই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ পড়ে শোনানো হয়নি। তাছাড়া এ ব্যাপারে উচ্চ আদালতের একটি স্থগিতাদেশও রয়েছে। স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হলে যে কোন সময়ে অন্তর্ভুক্ত হবেন এ আসামি। দফায় দফায় বিচার কাজ বিলম্বিত হওয়া প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি আবুল হাশেম বলেন, প্রথম দফা অভিযোগ যে ধারায় গঠিত হয়েছিল তাতে আমিন চেয়ারম্যানকে সেভাবে অভিযুক্ত করা যায় না। কারণ সেটি ছিল ডাকাতি করতে না পেরে হত্যার মামলা। আমিন চেয়ারম্যান যেহেতু পূর্বে ডাকাতির মতো কোন অভিযোগে অভিযুক্ত হননি, সেহেতু এমন অভিযোগ প্রমাণ করা কষ্টসাধ্য ছিল। এ কারণেই বাদীর পক্ষ থেকে নারাজি দিয়ে ধারা পরিবর্তনের আবেদন করা হয়েছিল। এ আবেদনের প্রেক্ষিতে দ্বিতীয় দফায় চার্জ গঠিত হয়েছে অন্য ধারায়। এতে অভিযোগ আসে সংখ্যালঘু এ পরিবারের সম্পত্তি দখলের লক্ষ্যে ১১ জনকে পুড়িয়ে হত্যা। মামলাটি এখন গতি পেয়েছে বলে উল্লেখ করে পিপি এ্যাডভোকেট আবুল হোসেন বলেন, আগামী মাস থেকেই শুরু হচেছ সাক্ষ্যগ্রহণ।

উল্লেখ্য, ২০০৩ সালের ১৮ নবেম্বর রাতে বাঁশখালীর সাধনপুর শীলপাড়ায় তেজেন্দ্রলাল শীলের বাড়িতে ঘটে এ নারকীয় হত্যাযজ্ঞ। দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে ঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করে একই পরিবারের ১১ জনকে। এ ঘটনায় তৎকালীন বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর চাচাত ভাই আমিন চেয়ারম্যানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। পরে তিনি মামলার আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হলেও এখনও রয়েছেন আদালতে গঠিত অভিযোগের বাইরে। অনিশ্চয়তার মাঝেও তেজেন্দ্রলাল শীলের পরিবারটি রয়েছে বিচার পাওয়ার আশায়। এ সরকারের আমলেই তাদের সে আশা পূরণ হবে কী।

সূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ

স্বজনদের মৃত্যুদৃশ্যের বর্ণনা দিলেন বিমল শীল
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় একই পরিবারের ১১ জনকে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় করা মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রামের ভারপ্রাপ্ত তৃতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ হোসনে আরা বেগমের আদালতে প্রথম দিনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। গতকাল দুপুর ১২টা ২৫ মিনিট থেকে বেলা একটা পর্যন্ত আংশিক সাক্ষ্য দেন মামলার বাদী বিমল শীল। এ সময় তিনি হামলার বিবরণ দেন এবং স্বজনদের মৃত্যুদৃশ্যের বর্ণনা করেন। সাক্ষ্য অসমাপ্ত রেখেই দিনের কার্যক্রম শেষ হয়। ২৩ মে সাক্ষ্যের পরবর্তী দিন ধার্য করেন আদালত। ২০০৩ সালের ১৮ নভেম্বর রাতে বাঁশখালীর সাধনপুর ইউনিয়নের শীলপাড়ায় তেজেন্দ্র লাল শীলের বাড়িতে একই পরিবারের ১১ জনকে পুড়িয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নিহত তেজেন্দ্র লাল শীলের ছেলে বিমল শীল সাক্ষ্যে বলেন, ‘২০০৩ সালের ১৮ নভেম্বর রাতে ঘটনাস্থল বাঁশখালীর সাধনপুরের শীলপাড়া গ্রামের বসতভিটায় আমিসহ মোট ১২ জন ছিলাম। ঘরটি মাটির দেয়ালঘেরা, টিনের ছাউনি ও দুই তলাবিশিষ্ট।’ সাক্ষ্যে বিমল শীল জানান, ঘটনার রাতে ঘরের নিচতলায় পাঁচজন ও দ্বিতীয় তলায় তিনিসহ সাতজন ছিলেন। সাক্ষ্যে তিনি বলেন, রাতের খাওয়া শেষে পরিবারের সবাই দরজা-জানালা বন্ধ করে ঘুমাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, ‘রাত সাড়ে ১২টার দিকে আনুমানিক ৪০ জনের একটি দল দরজা ভেঙে ঘরে ঢোকে। দরজা ভাঙার সময় আমার বাবা নিচের তলায় থাকা সবাইকে নিয়ে দুই তলায় উঠে যান এবং ঝাঁপ ফেলে দেন। সন্ত্রাসীরা ঘরে ঢুকলেও দুই তলায় ওঠার চেষ্টা করেনি।’ বিমল শীল বলেন, ‘আমি ওপর (দ্বিতীয় তলা) থেকে সন্ত্রাসী, সন্ত্রাসী বলে চিৎকার করলে পাড়ার কিছু লোক এগিয়ে আসে। তখন সন্ত্রাসীরা দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে এবং এতে প্রতিবেশীরা ভয়ে চুপ হয়ে যায়। এ সময় সন্ত্রাসী ও প্রতিবেশী কারও কোনো আওয়াজ পাচ্ছিলাম না।’ তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে দাহ্য পদার্থ দিয়ে সন্ত্রাসীরা ঘরের ভেতর নিচতলায় আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন ধরিয়ে দেওয়ার মুহূর্তে আমরা টের পাইনি। এরপর সন্ত্রাসীরা বেরিয়ে গিয়ে নিচতলার সব দরজা-জানালা বন্ধ করে দেয়। সন্ত্রাসীদের ভয়ে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসতে সাহস পায়নি।’
আগুন থেকে নিজের রক্ষা পাওয়ার ঘটনার কথা উল্লেখ করে বিমল শীল সাক্ষ্যে বলেন, ‘মাটির দোতলার ছাদ নিচে ধসে পড়ল। আমার মা, বাবা, ভাই, বোনসহ ১১ জন অগ্নিদগ্ধ হচ্ছিল। আমি ছোট একটা জানালা দিয়ে বাইরে লাফিয়ে পড়ার সময় গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে নিচে পড়ে যাই। এতে আমার ডান পা ভেঙে যায়। ভাঙা পা টেনে নিয়ে ধানখেতে ঢুকে পড়ি। পাড়া-প্রতিবেশীরা আমাকে এক ঘণ্টা পর ধানখেত থেকে উদ্ধার করে।’ সাক্ষ্য গ্রহণ শুরুর আগে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা সাক্ষ্য স্থগিত রাখার আবেদন করলেও আদালত তা নাকচ করে দেন। সাক্ষ্য গ্রহণের সময় হাজতে থাকা তিনজন এবং জামিনে থাকা ১৬ জন আসামি আদালতে হাজির ছিলেন। প্রসঙ্গত, ঘটনার আট বছর পর ২০১১ সালের ৯ জানুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডির এএসপি হ্লা চিং প্রু আদালতে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর আদালত ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষ আগের ধারা বাদ দিয়ে নতুন ধারায় অভিযোগ গঠনের জন্য আদালতে আবেদন করেন। এরপর গত ১৯ এপ্রিল ৩৭ জন আসামির বিরুদ্ধে ‘সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে খুন’—এর অভিযোগ আনা হয়। উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ থাকায় ঘটনার অন্যতম আসামি বিএনপির নেতা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হয়নি।

আদালতে দেওয়া প্রায় এক ঘণ্টার সাক্ষ্যে বিমল শীল ঘটনার বিবরণ ও মামলা তদন্তে পুলিশের ভূমিকার বিষয়ে বর্ণনা দেন। তাঁর অসমাপ্ত সাক্ষ্য আগামী ৩ জুন নেবেন আদালত। এর আগে ১৫ মে তাঁর সাক্ষ্য দেওয়া শুরু হয়। গতকালের সাক্ষ্যে বিমল শীল বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা আমাদের ঘরে ঢুকে মূল্যবান জিনিসপত্র ও স্বর্ণালংকার লুট না করে আগুন লাগিয়ে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেয়। তারা বাইরে ৪০-৫০ মিনিট সশস্ত্র পাহারা বসায়। ঘরের মানুষগুলো পুড়ে কঙ্কাল হওয়ার পর সন্ত্রাসীরা পশ্চিম দিকে চলে যায়।’ প্রসঙ্গত, ২০০৩ সালের ১৮ নভেম্বর রাতে বাঁশখালীর সাধনপুর ইউনিয়নের শীলপাড়ায় তেজেন্দ্র লাল শীলের বাড়িতে একই পরিবারের ১১ জনকে পুড়িয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
নিহত তেজেন্দ্র শীলের ছেলে বিমল শীল সাক্ষ্যে বলেন, ‘সকালে লাশগুলো একের পর এক বের করে ঘরের উঠানে রাখা হয়েছিল। ওইগুলো শনাক্ত করার মতো কোনো অবস্থা ছিল না। ঘরের ভেতর থাকা চার দিন বয়সের শিশু কার্তিক শীলের লাশের কঙ্কাল খুঁজে পাওয়া যায়নি। তার লাশ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আপন ঘরেই হলো কার্তিক শীলের শ্মশান।’
উল্লেখ্য, ওই ঘটনায় বিমল শীলের মা বকুল বালা শীল (৬০), বাবা তেজেন্দ্র লাল শীল (৬৫), বউদি স্মৃতি শীল (৩০), ভ্রাতুষ্পুত্র চার দিন বয়সী কার্তিক শীল, মেসো দেবেন্দ্র শীল (৭০), মেজ ভাই অনিল শীল (৪২), অনিল শীলের দুই মেয়ে রুমি শীল (১১) ও সোনিয়া শীল (৭), অনিল শীলের তিন চাচাতো বোন বাবুটি শীল (২৫), প্রসাদী শীল (১৭) ও এনি শীল (১৫) মারা যায়।
সাক্ষ্যে বিমল শীল বলেন, ‘আমার মা-বাবা, বোন কারও লাশ শনাক্ত করা যায়নি। হাজার হাজার মানুষ দেখতে এসেছিল।’ সাক্ষ্যে বিমল শীল আরও বলেন, ‘সকাল আটটার দিকে বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমাদের বাড়িতে আসেন। ওসিকে ঘটনার কথা বলার পর তিনি প্রাথমিক একটি এজাহার লেখেন। এজাহারের বক্তব্যগুলো আমি পড়ি নাই। আমি শোকে কাতর ছিলাম। আমার চোখে অঝোরধারায় পানি পড়ছিল। তাঁরা আমাকে এজাহার পড়েও শোনাননি। ওসি আমাকে স্বাক্ষর দিতে বলেন। আমি স্বাক্ষর দিয়েছি।’
সাক্ষ্যে বিমল শীল বলেন, ‘২০০৩ সালের ১৯ নভেম্বর এই মামলার তদন্তভার পড়ে সাতকানিয়া সার্কেলের এএসপি ক্লারেন্স গোমেজের ওপর। দুই বছর তদন্ত চলার পরও আমি এবং আমার পরিবারের কারও বক্তব্য তিনি নেননি। আমি পরে তাঁকে টেলিফোনে জিজ্ঞেস করি, আমাকে দরকার আছে কি না। তিনি বলেন, “আপনাকে দরকার নেই। আপনি কাউকে দেখেননি এবং এজাহারে কারও নাম উল্লেখ করেন নি”।’
২০০৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর এই মামলায় ৩১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেওয়া হয় উল্লেখ করে সাক্ষ্যে বিমল শীল বলেন, ‘কিন্তু আমিনুর রহমান চৌধুরী, চেয়ারম্যান আবদুস সবুর, মো. ইউনুস, আবুল কালাম, নুরুন্নবী, আব্দুন নবী, নুরুল ইসলাম ও মেম্বার আব্দুর রশিদ আহাম্মদসহ আটজনের নাম যুক্ত না করায় আমি নারাজি দিয়েছিলাম।’
প্রসঙ্গত, গত ১৯ এপ্রিল ৩৭ জন আসামির বিরুদ্ধে এই মামলায় নতুন করে অভিযোগ গঠন করা হয়। এতে ‘ডাকাতির উদ্দেশ্যে খুন’-এর পরিবর্তে ‘সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে খুন’-এর অভিযোগ আনা হয়। উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ থাকায় ঘটনার অন্যতম আসামি বিএনপির নেতা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠিত হয়নি।

বিশ্ব কি ভুলে গেছে গোধরাতে হিন্দু পুরিয়ে মারার ঘটনা?

গুজরাট দাঙ্গার কথার নিশ্চয় সকলের মনে আছে। তথাকথিত সেকুলারিস্টরা এই দাঙ্গার কথাটাই যেখানে সেখানে প্রচার করে থাকে। ঘটনার সূত্রপাত যে গোধরা ট্রেন পোড়ানোর কাণ্ড থেকে সূত্রপাত সেটা তারা অনেকেই বলতে চান না বা স্বীকার করেন না। আমাদের সকলের মনে রাখতে হবে । 
গুজরাটের দাঙ্গা শুরু হয়েছিল গোধরা স্টেশানে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের করসেবকদের বহনকারী সাবরমতি এক্সপ্রেস ট্রেনের কোচ S6 এ ৫৮জন কে পুড়িয়ে মারার মধ্য দিয়ে। ২০০২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারীর সকাল ৭-৪৩ মিনিটে ট্রেন পোড়ানর ঘটনা থেকে সুত্রপাত ঘটে নিকৃস্টতম দাঙ্গার যাতে প্রান হারায় ৭৯৪ জন মুসলমান এবং ২৫৪জন হিন্দু, ২২৩ জন নিখোজ, এবং ২৫০০ জন আহত হন। গোধরা এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ইতিহাসঃ-ভারতের গুজরাট রাজ্যের পাঁচমহল জেলার ছোট শহর। লোক সংখ্যা ১ লক্ষ ২১ হাজার(২০০১), হিন্দুদের কাছে পবিত্র স্থান।বেশ কিছু মন্দির আছে এখানে।জনসংখ্যার ১৩% ভাগ মুসলমান ।মুসুলমানরা দরিদ্র “ঘাচি”সম্প্রদায়ের। দেশ বিভাগের সময় তারা ছিল মুসলিম লীগের সমর্থক এবং পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্তির পক্ষে।উগ্র লড়াকু হিসেবে এদের খ্যাতি আছে। দেশ বিভাগের সময় পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের হিন্দুরা এখানে এসে বসতি গড়ে।হিন্দু সিন্ধী এবং মুসলিম ঘাঞ্চি দের মধ্যে বৈরিতা চলে আসছে সেই সময় থেকেই।সাম্প্রদায়িক দাংগা হয়েছে -১৯৪৭-৪৮ সালে,১৯৫৩-৫৫ সালে, ১৯৬৫ সালে,১৯৮০-৮১ সালে, ১৯৮৫ সালে। ১৯৮০ সালে দুই সম্প্রদায়ের কলা বিক্রেতার ঝগড়া থেকে দাঙ্গার সুত্রপাত ঘটে যাতে একই পরিবারের ৫জন হিন্দু সিন্ধীকে পুড়িয়ে মারা হয়। ২০০২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারীর সকালে সাবরমতি এক্সপ্রেস ট্রেন প্রায় ৪ ঘন্টা দেরী করে পৌছায় গোধরা স্টেশানে।বিশ্ব হিন্দু পরিষদের করসেবকেরা রাম জন্মভুমি/বাবরী মসজিদে তাদের সম্মেলন শেষে ঐ ট্রেনে ফিরছিলো।স্টেশানের হকারদের (যাদের অধিকাংশ মুসুলমান) বচসা হয় কর সেবকদের । এরপর শুরু হয় ট্রেনে ঢিল ছোড়া। এই সময় গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে একজন মুসলমান তরুনিকে করসবকেরা ট্রেনের কোচে ধরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষন করছে(পরবর্তীতে ভিত্তিহীন প্রমানিত), নির্দ্দিষ্ট ৫ মিনিট যাত্রা বিরতির পর ট্রেন যাত্রা শুরু করে। স্টেশান থেকে প্রায় ১ কিলো মিটার দূরে ফাদিয়া সিগন্যালের কাছে চেইন টেনে থামানো হয়।প্রায় ৫০০ জন মুসলিম এক যোগে হামলা চালায় ট্রেনে। তারপর করসেবকদের কোচএ আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।মারা যায় ২৩ জন পুরুষ, ১৫জন মহিলা এবং ২০ জন ছেলেমেয়ে সর্বমোট ৫৮জন তীর্থযাত্রী। ২৫০ জন বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। তাদের একজনের দাবী প্রায় ৩,০০০ মুসলমান হামলা করেছিল ফাদিয়া সিগন্যাল এ।হামলাকারীরা ছিলো মুসলমানপুলিসের দাবী আনোয়ার কালান্দার নামের এক ছেলে মুসলমান তরুনীর অপহরনের ঘটনা শুনে চেন টেনে ট্রেন থামায়। দি ট্রাইবিউন লিখেছিল “ চেন টেনে ট্রেন থামানোর পর ইটপাটকেল নিক্ষেপকারী বিপুল সংখ্যক লোক, পেট্রোল, পেট্রোল বোমা এবং কেরসিন ঢেলে ট্রেনের কামরায় আগুন ধরিয়ে দেয়। সরকারী তদন্তঃ- “ইউ, সি ব্যানার্জী” তদন্ত কমিশন রিপোর্ট দেয় অগ্নিসংযোগের কোন ঘটনা ঘটে নি। সম্ভবতঃ ট্রেনের কামরার রান্না করার স্টোভ থেকেই অগ্নিকান্ডের সুত্রপাত।গুজরাট হাই কোর্ট কমিশনের রিপোর্ট বাতিল করে দেন।প্রত্যক্ষ দর্শীরা বলেন” পেট্রোলে ভেজান জ্বলন্ত কাপড় ছুড়ে মারা হয়। স্টোভের ১ লিটার মত কেরোসিন একটা কোচকে জ্বালিয়ে দিতে পারে না মন্তব্য করেন তদন্তকারী পুলিস কর্মকর্তা নোয়েল পারমার।। নানাবতি কমিশনঃ-প্রত্যক্ষদর্শী দের সাক্ষ্য সহ নানা তথ্য উপাত্ত নিয়ে তারা রিপোর্টে অগ্নিসংযোগের ঘটনা সঠিক বলে রায় দেন। পরবর্তীতে “ঈন্ডিয়ান মোজাহেদিন” এবং ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলা কারীরা গোধরা হত্যা কান্ডের বদলা নিতে বোমা হামলা এবং হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে বলে দাবী করে 
ট্রেনে হামলার ঘটনা পুর্ব পরিকল্পিত ।ট্রেন পোড়ানোর দায়ে অভিযুক্ত জাবির বেহেরার স্বীকারক্তি অনুযায়ী গ্রেফতার করা হয় মৌলানা হুসেন ওমারজীকে।বেহেরা স্বীকারোক্তি দেয় যে “ ঘটনার আগের দিন রাত এগারোটায় মৌলানা উমরজী গেস্ট হাউস “ আমান”এ মিটিং করেন। গেস্ট হাউজের মালিক “রাজ্জাক কুরকুরে” ঐদিন পার্শবর্তী পেট্রোল পাম্প থেকে ১৪০ লিটার পেট্রোল সংগ্রহ করেন তারা। পেট্রোল পাম্পের মালিক “প্যাটেল “ ভ্রাতৃদ্বয় পেট্রোল কেনার ব্যাপার নিশ্চিত করেন। সেলিম পানওয়ালা স্টেশানে গিয়ে খবর নিয়ে জানেন যে সবরমতি এক্সপ্রেস প্রায় ৪ ঘন্টা দেরী করে আসছে। তারা সেই অনুযায়ী পরিকল্পনার সময় নির্ধারন করেন। ফাদিয়া সিগ্ন্যাল এলাকা মুসুলমান অধ্যুষিত।আমান গেস্টহাউজ সিগন্যাল ফাদিয়ার কাছেই। ওখানেই জমা রাখা হয়েছিলো প্রতিটি ২০ লিটারের জারিক্যান” এ ভরা পেট্রোল।বেহেরা সহ মোট ৬ জন ট্রেনের সংযোগ স্থল কেটে ট্রেন এ জারী ক্যান সহ ঢুকে পড়েন। তারপর জারীক্যান ঢেলে দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে দরজা খুলে লাফিয়ে পড়েন তারা। সকাল বেলা এত বেশী লোকের স্টেশানে উপস্থিত থাকা পুর্ব পরিকল্পনারই ইঙ্গিত দেয়। হামলা কারীরা জানতো ঐ ট্রেনে করসেবকরা ফিরছে এবং তারা নির্দ্দিষ্ট কামরাতেই আক্রমন চালায়। 
হাইকোর্টের রায়ঃ- ট্রেন পোড়ানো মামলার রায় বের হয়েছে ১১ ফেব্রুয়ারী।৩১ জন দোষী সাব্যস্ত হন। এদের মধ্যে ১১ জনের মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয় এবং ২০জনকে, যাবজ্জীবন কারাদন্ডএর শ্বাস্তি দেওয়া হয়। মউলানা উমরজ়ী ছাড়া পান , হাজী বিল্লাহ এবং রাজ্জাক কুরকুর দোষী সাব্যস্ত হন। 
মুসলমানরাই আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে মেরেছে হিন্দু করসেবকদের একথা সেকুলার মিডিয়া চেপে যায়। রেল মন্ত্রী লালু প্রসাধ একটি রাজনৈতিক তদন্ত কমিশন বসিয়ে ষরযন্ত্র তত্ত্বকে নাকচ করে ঘটনাটিকে নিছক দুর্ঘটনা বলে চাপিয়ে দেয়। মুসলিম ভোট ব্যাংক ও দেশের তথাকথিত ধর্ম নিরপেক্ষতার ঝাণ্ডা উত্তোলন করতে গিয়ে এ কাণ্ডটি করে লালু-কংগ্রেসের গং। ভারতে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরী কয়া অনেকেরই প্রয়োজন ছিল । মুসলিম সম্প্রদায়ের কায়েমী গোষ্ঠীর জন্য এই প্রয়োজনটা ছিল আরো বেশী ।ঘটনাটার কৌশলগত গুরুত্ব ছিল অপরিসীম । এক্ষেত্রে নিজেদের মধ্যে সংহতি তৈরী ছাড়াও হিন্দু নেতৃত্বকে অর্বাচীন প্রমাণ করতে তাঁরা ভালভাবেই সফল হয়েছেন । আদালতি প্রমাণ হিন্দুবাদীদের আত্মতৃপ্তি হয়ত তৈরী করেছে ; কিন্তু রাজনৈতিক ক্ষতিটা তাঁরা সহজে পূরণ করতে পারবেন না । আমি জানি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ভারতিয় জনতা পার্টির কিছু মুসলিম ভোটব্যাংক ছিল তাঁরা কি সেটা পূণরুদ্ধার করতে পারবেন? 
সবরমতি এক্সপ্রেসের বদ্ধ কামরায় জীবন্ত পুরে নিহত সেইসব নিঃপাপ পূণ্যার্থী নারী ও শিশুদের আত্মার সদগতি হোক আর মানবরূপী খুনীদের বিচার হোক।সত্যেরই জয় হবে।সত্যমেভ জয়তে।

কেন মুসলিমরা জঙ্গি হচ্ছে? কেন একজন মুসলিম কোন অমুসলিমের বন্ধু হতে পারে না?

প্রথমেই আমরা কোরানের নিচের আয়াতগুলো দেখতে পারি-
9:123: হে ঈমানদারগণ, তোমাদের নিকটবর্তী কাফেরদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাও এবং তারা তোমাদের মধ্যে কঠোরতা অনুভব করুক আর জেনে রাখ, আল্লাহ মুত্তাকীদের সাথে
9:5: অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু
:২৯: তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে।
5:10:
যারা অবিশ্বাস করে এবং আমার নিদর্শনাবলীকে মিথ্যা বলে, তার দোযখী
3:28:মুমিনগন যেন অন্য মুমিনকে ছেড়ে কেন কাফেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করে। যারা এরূপ করবে আল্লাহর সাথে তাদের কেন সম্পর্ক থাকবে না। তবে যদি তোমরা তাদের পক্ষ থেকে কোন অনিষ্টের আশঙ্কা কর, তবে তাদের সাথে সাবধানতার সাথে থাকবে আল্লাহ তাআলা তাঁর সম্পর্কে তোমাদের সতর্ক করেছেন। এবং সবাই কে তাঁর কাছে ফিরে যেতে হবে
9:23:হে ঈমানদারগণ! তোমরা স্বীয় পিতা ভাইদের অভিভাবকরূপে গ্রহণ করো না, যদি তারা ঈমান অপেক্ষা কুফরকে ভালবাসে। আর তোমাদের যারা তাদের অভিভাবকরূপে গ্রহণ করে তারা সীমালংঘনকারী
5:33:যারা আল্লাহ তাঁর রসূলের সাথে সংগ্রাম করে এবং দেশে হাঙ্গামা সৃষ্টি করতে সচেষ্ট হয়, তাদের শাস্তি হচ্ছে এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শূলীতে চড়ানো হবে অথবা তাদের হস্তপদসমূহ বিপরীত দিক থেকে কেটে দেয়া হবে অথবা দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। এটি হল তাদের জন্য পার্থিব লাঞ্ছনা আর পরকালে তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি
2:216:তোমাদের উপর যুদ্ধ ফরয করা হয়েছে, অথচ তা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয়। পক্ষান্তরে তোমাদের কাছে হয়তো কোন একটা বিষয় পছন্দসই নয়, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর হয়তোবা কোন একটি বিষয় তোমাদের কাছে পছন্দনীয় অথচ তোমাদের জন্যে অকল্যাণকর। বস্তুতঃ আল্লাহই জানেন, তোমরা জান না
47:4:অতঃপর যখন তোমরা কাফেরদের সাথে যুদ্ধে অবতীর্ণ হও, তখন তাদের গর্দার মার, অবশেষে যখন তাËেদরকে পূর্ণরূপে পরাভূত কর তখন তাদেরকে শক্ত করে বেধে ফেল। অতঃপর হয় তাদের প্রতি অনুগ্রহ কর, না হয় তাদের নিকট হতে মুক্তিপণ লও। তোমরা যুদ্ধ চালিয়ে যাবে যে পর্যন্ত না শত্রুপক্ষ অস্ত্র সমর্পণ করবে! একথা শুনলে। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তাদের কাছ থেকে প্রতিশোধ নিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তোমাদের কতককে কতকের দ্বারা পরীক্ষা করতে চান। যারা আল্লাহর পথে শহীদ হয়, আল্লাহ কখনই তাদের কর্ম বিনষ্ট করবেন না
9:111:আল্লাহ ক্রয় করে নিয়েছেন মুসলমানদের থেকে তাদের জান মাল এই মূল্যে যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। তারা যুদ্ধ করে আল্লাহর রাহেঃ অতঃপর মারে মরে। তওরাত, ইঞ্জিল কোরআনে তিনি সত্য প্রতিশ্রুতিতে অবিচল। আর আল্লাহর চেয়ে প্রতিশ্রুতি রক্ষায় কে অধিক? সুতরাং তোমরা আনন্দিত হও সে লেন-দেনের উপর, যা তোমরা করছ তাঁর সাথে। আর হল মহান সাফল্য।

এখন বলা হবে উক্ত আয়াতগুলো কোন প্রেক্ষিতে নাজিল হয়েছিল। কথা হলো যে প্রক্ষিতেই নাজিল হোক না কেন উক্ত আল্লাহর আদেশ গুলো কিন্তু উক্ত সময় পরবর্তীতে সব সময়ের জন্যই প্রযোজ্য হবে।কারন আল্লাহর আদেশ অপরিবর্তনীয়।কোরানের মাদানী সূরা গুলো মোহাম্মদের শেষ জীবনের দিকে নাজিল হয়েছিল।সুতরাং নাসিক মানসুক (রহিতকরন বিধি) অনুযায়ী মক্কায় নাজিলকৃত শান্তিপূর্ণ আয়াত গুলো বাতিল হয়ে শেষ দিককার আয়াতগুলোর বিধান অত:পর কেয়ামত অবধি চালু থাকবে
এটা যে সত্যি সত্যি তাই তার বিবরণ আছে কতিপয় হাদিসে যেমন-
ইবনে উমর বর্ণিত- আল্লাহর নবী বলেছেন- আল্লাহ তার রসুল হিসাবে মোহাম্মদকে স্বীকার না করা পর্যন্ত আমি যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি। বুখারি, ভলিউম-, বই-, হাদিস-২৫
উক্ত আয়াতগুলোতে যে বলা হচ্ছে অমুসলিমদের সাথে সব সময় যুদ্ধ করতে হবে, তাদেরকে পাকড়াও করতে হবে , হত্যা করে তাদের মালামাল লুঠ করতে হবে তা মোহাম্মদ সুন্দরভাবে তার হাদিসে বর্ণনা করেছেন কোন রকম রাখ ঢাক প্রেক্ষাপট ছাড়াই।
এসব আয়াত নাজিলের পর আর কোন আয়াত নাজিল হয়নি যা দিয়ে বলা হয়েছে যেমুসলিম অমুসলিমরা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করবে।সুতরাং যে উক্ত আয়াতদ্বারা যে সকল আয়াতের বিধান বাতিল হবে তা হলো

দ্বীন নিয়ে কোন বাড়াবাড়ি নেই। সূরা বারাকা, ০২:২৫৬ (মাদানি সূরা)
উল্লেখ্য সূরাটি মাদানি হিসাবে বর্ণিত হলেও এর দুই তৃতীয়াংশই নাজিল হয় মক্কাতে , বাকি একভাগ মদিনাতে অন্য কথায় সূরা বাকারা প্রথম মাদানি সূরা। অর্থাৎ উক্ত আয়াতটি মক্কাতেই নাজিল হয়েছিল বলে ধরা যায় যদি তা ঠিক নাও হয় তবে উক্ত আয়াতটি মোহাম্মদের মদিনা যাওয়ার পর পরই নাজিল হয়।আর বলা বাহুল্য , তখনও মোহাম্মদ মদিনার শাসক হয়ে ওঠেন নি। আর তাই তার মুখে শান্তির বানী। এছাড়া আর যে সব শান্তির আয়াত উপরোক্ত মাদানি আয়াতগুলো দ্বারা বাতিল
হয়ে গেছে তা হলো -
আর তোমার পরওয়ারদেগার যদি চাইতেন, তবে পৃথিবীর বুকে যারা রয়েছে, তাদের সবাই ঈমান নিয়ে আসতে সমবেতভাবে। তুমি কি মানুষের উপর জবরদস্তী করবে ঈমান আনার জন্য? সুরা ইউনুস, ১০:৯৯ (মক্কায় অবতীর্ণ)
তোমাদের ধর্ম তোমাদের জন্যে এবং আমার ধর্ম আমার জন্যে। সূরা ফুরকান, ১০৯:০৬(মক্কায় অবতীর্ণ)
কোরানে নাসিক মানসুক যে বিধিতে কাজ করে তা হলো-একই বিষয়ে দুই বা ততোধিক আয়াত নাজিল হলে , সর্বশেষ আয়াতের বিধান কার্যকরী থাকবে। উক্ত বিধি অনুযায়ী, মক্কা বা মদিনার প্রাথমিক যুগে সহাবস্থান বিষয়ক যে সব শান্তির আয়াত নাজিল হয়েছিল মদিনার সর্বশেষ আয়াত দ্বারা তা বাতিল হয়ে , অত:পর সর্বশেষ আয়াতগুলোর বিধানই কার্যকর থাকবে।এ বিধি যে কোন রাষ্ট্রেও সমানভাবে ক্রিয়াশীল বিশেষ করে আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে। সুতরাং এতদসংক্রান্ত আলোচনাতে এটাই বোঝা গেল যে, যে প্রেক্ষিতেই আল্লাহ পরবর্তীতে যুদ্ধ, দখল, হত্যা, লুন্ঠন সম্পর্কিত আয়াত নাজিল করুক না কেন , যেহেতু অত:পর আর কোন আয়াত দ্বারাই তা বাতিল করা হয় নি , তাই শেষোক্ত আয়াতগুলোই কেয়ামত অবধি চালু থাকবে, কেননা আল্লাহর বানী অপরিবর্তনীয় ছাড়া কোরানে পরিস্কার করে কথা বলাও হয় নি যে শুধুমাত্র সেই সাময়িক সময়ের জন্য উক্ত আয়াতগুলোর কার্যকরী থাকবে। অত:পর তা বাতিল বলে গণ্য হবে।কোরানে আল্লাহই যেহেতু বার বার বলেছে যে তার বানী সুস্পষ্ট পরিস্কার তাই নিয়ে অহেতুক বিতর্ক করাটাও আল্লাহর সাথে পাল্লা দেয়ার শামিল।
তাহলে একজন নিবেদিত প্রান মুসলমানের দায়িত্ব কি দাড়ায় উক্ত আয়াত অনুযায়ী ? এখন দেখা যাকে বিষয়ে মোহাম্মদের আদেশ কি
আবু হুরায়রা বর্ণিত- আল্লাহর নবী বলেছেন,ভয় সৃষ্টির মাধ্যমে আমাকে বিজয়ী করা হয়েছে।Sahih Bukhari 4:52:220
আবু হুরায়রা বর্ণিত- নবী বলেন, আমাকে সুন্দর কথা বলা ক্ষমতা দেয়া হয়েছে আর দেয়া হয়েছে ভয় সৃষ্টির মাধ্যমে বিজয়ী হওয়া ক্ষমতা। Sahih Bukhari 9:87:127
আবু হুরায়রা বলেন, আল্লাহর নবী বলেছেন- অন্য নবীদের থেকে আমাকে ছয়টি বিষয়ে বেশী অধিকার দেয়া হয়েছে তা হলো-সুনির্দিষ্ট সংক্ষিপ্ত বাক্য ব্যবহার, ভয় সৃষ্টি দ্বারা বিজয়ী হওয়া, গণিমতের মাল বিধিসম্মত করা, দুনিয়াটকে আমার জন্য পরিস্কার, দুনিয়াটাকে প্রার্থনার স্থান করা এবং আমাকে সমস্ত মানব জাতির জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। Sahih Muslim 4:1062
আবু হুরায়রা বর্ণিত, আল্লার নবী বলেছেন- আমাকে ভয় প্রদর্শন করার মাধ্যমে সাহায্য করা হয়েছে। Sahih Muslim 4:1066
হাম্মাম বিন মুনাব্বি বর্ণিত- আবু হোরায়ারা মাধ্যমে আমি জেনেছিভীতি সৃষ্টির মাধ্যমে আমাকে সাহায্য করা হয়েছে। Sahih Muslim 4:1067
যেহেতু নবীর কাজ হলো ভয় সৃষ্টির মাধ্যমে তার ইসলাম প্রচার করা যা তিনি তার জীবদ্দশায় খুব ভাল মতো করেও গেছেন,যাকে বলা হয় পবিত্র জিহাদ।কারন ইসলাম প্রচারের জন্যই যুদ্ধ ভয় প্রদর্শন।তাই নবীর সুন্নাহ পালন করতে গেলে তার উম্মতকেও তো সেটাই অনুসরণ করতে হবে। তাই নয় কি ? একজন নিবেদিত প্রান মুসলমানকে সব সময় অমুসলিমদেরকে ভয় ভীতি প্রদর্শন করতে হবে সে অনুযায়ী নানা রকম নাশকতামূলক কর্মকান্ড চালতে হবে, যাতে তারা এক সময় ভয় পেয়ে ইসলামের পতাকাতলে আগমন করে। মোহাম্মদকে অনুসরণ না করলে সে যে মুসলমানই নয় তা দেখা যায় কোরানে , যেমন-
বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমাকে অনুসরণ কর, যাতে আল্লাহ তোমাদিগকে ভালবাসেন এবং তোমাদিগকে তোমাদের পাপ মার্জনা করে দেন। আর আল্লাহ হলেন ক্ষমাকারী দয়ালু।সূরা আল ইমরান,:৩১
বলুন, আল্লাহ রসূলের আনুগত্য প্রকাশ কর। বস্তুতঃ যদি তারা বিমুখতা অবলম্বন করে, তাহলে আল্লাহ কাফেরদিগকে ভালবাসেন না।সূরা আল ইমরান, :৩২
যে লোক রসূলের হুকুম মান্য করবে সে আল্লাহরই হুকুম মান্য করল। আর যে লোক বিমুখতা অবলম্বন করল, আমি আপনাকে (হে মুহাম্মদ), তাদের জন্য রক্ষণাবেক্ষণকারী নিযুক্ত করে পাঠাইনি। সূরা নিসা,:৮০
এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা। যে কেউ আল্লাহ রসূলের আদেশমত চলে, তিনি তাকে জান্নাত সমূহে প্রবেশ করাবেন, যেগুলোর তলদেশ দিয়ে স্রোতস্বিনী প্রবাহিত হবে। তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। হল বিরাট সাফল্য। সূরা নিসা, :১৩
যে কেউ আল্লাহ রসূলের অবাধ্যতা করে এবং তার সীমা অতিক্রম করে তিনি তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন। সে সেখানে চিরকাল থাকবে। তার জন্যে রয়েছে অপমানজনক শাস্তি। সূরা, :১৪
স্বয়ং আল্লাহ বলে দিচ্ছে যে মোহাম্মদের আদেশ হলো আল্লাহর আদেশ, তাই মোহাম্মদের আদেশ আল্লাহর আদেশ অমান্য করার শামিল। আর সেটা যদি কেউ করে সে মুসলমান থাকে কি করে , সে তো চিরকাল দোজখের আগুনে পুড়ে মরবে।কোন নিবেদিত প্রান মুসলমান যাবে দোজখের আগুনে পুড়তে ?
এবং পরিশেষে যেটা করতে হবে তা হলো মোহাম্মদকে ভালবাসতে হবে নিজের মা বাবা ভাই বোন , ছেলে মেয়ে আত্মীয়স্বজনের চেয়ে বেশী না হলে সে ঈমানদার মুসলমানই নয় যেমন-
বল, তোমাদের নিকট যদি তোমাদের পিতা তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই তোমাদের পত্নী, তোমাদের গোত্র তোমাদের অর্জিত ধন-সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা যা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় কর এবং তোমাদের বাসস্থান-যাকে তোমরা পছন্দ কর-আল্লাহ, তাঁর রসূল তাঁর রাহে জেহাদ করা থেকে অধিক প্রিয় হয়, তবে অপেক্ষা কর, আল্লাহর বিধান আসা পর্যন্ত, আর আল্লাহ ফাসেক সম্প্রদায়কে হেদায়েত করেন না। সূরা আত তাওবা, :২৪
সুতরাং মোহাম্মদকে সবচাইতে বেশী ভাল না বাসলে আল্লাহ তার হেফাজত করবে না, ধরনের ঝুকি নিতে যাবে কোন মুমিন বান্দা?
আল্লাহ কাদেরকে সব চাইতে বেশী ভালবাসে? দেখতে হবে সেটাও
আল্লাহ তাদেরকে ভালবাসেন, যারা তাঁর পথে সারিবদ্ধভাবে লড়াই করে, যেন তারা সীসাগালানো প্রাচীর। সূরা আছ ছফ, ৬১:০৪
একজন সাচ্চা মুসলমানের কাছে সব চাইতে শ্রেষ্ট কাজ কি ? সেটাও জানাটা বিশেষ জরুরী। সেটা জানা যাবে নিচের হাদিস থেকে
আবু হুরায়রা বর্ণিত, আল্লাহর নবীকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, সব চেয়ে ভাল কাজ কোনটি? তিনি উত্তর দিলেন- আল্লাহ তার নবীকে ভালবাসা। তাকে জিজ্ঞেস করা হলোতার পর ? তিনি বললেন- জিহাদে অংশগ্রহন করা। বুখারি, ভলিউম-, বই-, হাদিস-২৫
জিহাদে অংশ নিয়ে জয়ী বা শহিদ হলে কি লাভ হবে তাও আছে হাদিসে, যেমন-
আল্লাহর নবী বলেছেনযে লোক আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে যোগদান করবে শহিদ হলে আল্লাহ তাকে বেহেস্তে প্রবেশ করাবেন বিজয়ী হলে গণিমতের মালসহ তাকে পুরস্কৃত করবেন। বুখারি, ভলিউম-, বই-৯৩, হাদিস-৫৫৫
সর্বশেষে, কোন মুসলমানের মর্যাদা বেশী?
যারা অক্ষম তারা বাদে যারা ঘরে বসে থাকে তাদের মর্যাদা যারা আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করে তাদের সমান নয়। সূরা নিসা-:৯৫

এত কিছুর পরে যদি কোন সাচ্চা বা ঈমানদার মুসলমান কোন কিছু না করে চুপ চাপ বসে থাকে , তাহলে তার অবস্থা কি হবে , সেটা কি একবার কেউ ভেবে দেখেছে? পৃথিবীতে বর্তমানে ৭০০ কোটির বেশী মানুষ বাস করে যার মাত্র ১৫০ কোটির মত মুসলমান। এখনো ৫৫০ কোটি মানুষ আল্লাহর রাস্তায় আসে নি। মত অবস্থায় একজন সাচ্চা মুসলমান যদি চুপ চাপ বসে থেকে মহানন্দে দিন কাটায় , সে কি বেহেস্তে যেতে পারবে ? তাহলে দুনিয়ার সব মুসলমানের দায়িত্বটা কি হওয়া উচিত ? মোহাম্মদের সুন্নাহ অনুসরণ করে সর্ব প্রকার জিহাদে ঝাপিয়ে পড়া উচিত নয় কি ? ২১ বছরের টগবগে তরুন নাফিস অতি অল্প বয়েসেই ইসলামের মাহাত্ম অনুধাবন করে তার সাধ্যমত জিহাদে ঝাপিয়ে পড়েছে। কারন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হলো একটা কাফের রাস্ট্র যারা সব সময় মুসলমানদের উপর অত্যাচার করে চলেছে, ইহুদিদেরকে মদদ দিয়ে চলেছে। এরা ইসলামের বড় শত্রু। এখন এদের অর্থনৈতিক মেরুদন্ড ভেঙ্গে দিতে পারলে, ইসলাম প্রচার প্রসারের অনেক সুবিধা হয়। বিষয়টা নাফিস খুব ভালমতো বুঝতে পেরেছিল।যেমনটা বুঝতে পেরেছিল ওসামা বিন লাদেন।নাফিস আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠার জন্য নবীর দেখানো পথে আমেরিকাকে ভয় দেখাতে চেয়েছিল।আর এটাই তো হলো একজন সাচ্চা মুসলমানের কাজ , তাহলে সে ভুলটা করল কি ? আজকে যারা নানা ভাবে প্রচার করার চেষ্টা করছে যে নাফিস কিছু উগ্রবাদি লোকের পাল্লায় পড়ে বিভ্রান্ত হয়েছিল- তারা কি ঠিক কথা বলছে? তারা কি ইসলামকে জেনে শুনে কথা বলছে নাকি স্রেফ কথার কথা বলছে? আমাদেরকে প্রকৃত সত্য জানতে হবে , না জেনে না বুঝে নিজেদের মতামতকে ইদানিং ইসলামি বিধান বলে চালানোর এক অপকৌশল ব্যপকভাবে দেখা যাচ্ছে। আসুন প্রথমে ভাল করে জানি ইসলাম কি বলছে, যদি মনে করি সেটাই সঠিক পন্থা , তাহলে আসুন সবাই জিহাদে ঝাপিয়ে পড়ি। যদি বুঝি যে এরকম মারামারি হত্যা খুন লুটপাট নাশকতামূলক কাজ কোন সৃষ্টি কর্তার আদেশ হতে পারে না ,তাহলে সঠিক রাস্তা অনুসন্ধান করত: তার অনুসরণ করি। মনের গভীরে পোষন করব ইসলাম হলো একমাত্র সঠিক সত্য রাস্তা , আবার ইসলামি বিধান অনুযায়ী জিহাদে ঝাপিয়ে পড়লে বলব এটা ইসলামি বিধান নয়, বিভ্রান্ত মতবাদের শিকার- ধরনের লুকোচুরি, আত্ম প্রবঞ্চনা আর স্ব বিরোধী আচরন কোন জাতিকে সামনের দিকে নিয়ে যেতে পারে না