Friday, March 8, 2013

বিশ্বজিতকে মারল যারা










নিরীহ পথচারী বিশ্বজিৎ দাসকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কর্মীরাই। মূল হামলাকারী পাঁচজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।তাঁরা হলেন—মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে শাকিল, মীর মো. নূরে আলম ওরফে লিমন, মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান ওরফে নাহিদ, মো. ইমদাদুল হক ও মো. ওবাইদুল কাদের। এর মধ্যে চাপাতি দিয়ে প্রথমে কুপিয়েছেন শাকিল। বাকিরা রড আর লাঠি দিয়ে পিটিয়েছেন বিশ্বজিৎকে। ছবিতে ঘড়ির কাটার দিকে


১। ওবাইদুল কাদের মনোবিজ্ঞান বিভাগের ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। বর্তমানে তিনি মাস্টার্সের ছাত্র। তাঁর বাবার নাম মো. মহিউদ্দিন। গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর হাতিয়ার চর কৈলাশে।

২। ইমদাদুল হক দর্শন বিভাগ থেকে মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়েছেন। তাঁর বাবার নাম মো. আকরাম আলী। গ্রামের বাড়ি যশোরের শার্শা উপজেলার পাঁচ কায়রায়।

৩। ছবিগুলোতে যে চারজনকে স্পষ্টভাবে বিশ্বজিৎকে চাপাতি, রড ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে আঘাত করতে দেখা যায় তারা হলো-
মাহফুজুর রহমান নাহিদ। কালো হাতা কাটা স্যুয়েটার ব্লু-জিন্স পরে ছিলেন তিনি।ছবিতে নাহিদ যখন বিশ্বজিৎকে পেটাচ্ছিলেন তখন তাদের দুজনের হাতের নিচ দিয়ে মাঝ বরাবর যে মুখটি দেখা যায় তিনি নুরে আলম লিমন।রড হাতে ফুল হাতা গেঞ্জি পরিহিত আরেকজনকে দেখা যায় নাহিদের পাশে থেকে বিশ্বজিৎকে আঘাত করছেন। তিনি আলামিন।জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ৪র্থ ব্যাচের ছাত্র। সূত্র জানায়, আলামিনের পরিবাররের সবাই বিএনপির সমর্থক। তিনি প্রথম দিকে ছাত্রদলের কর্মী ছিলেন। কিন্তু পরে ছাত্রলীগেই নিজের ভাগ্যসন্ধানে নেমেছেন। এই আলামিনও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামের কর্মী বলেই অনেকের কাছে পরিচিত। আলামিনের জন্মস্থান শরিয়তপুর। লিমনের ডান পাশ থেকে গলায় চাদর গায়ে যাকে বিশ্বজিৎকে ছুরি দিয়ে আঘাত করতে দেখা যায় তিনি আজিজ। আজিজও ছাত্র লীগের কর্মী। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২য় ব্যাচের ছাত্র। তিনি সভাপতি প্যানেলে ছাত্রলীগ করেন বলেই জানা গেলো ক্যাম্পাস সূত্রে। আজিজের জন্মস্থান খুলনায়।


৪। মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান ওরফে নাহিদ বাংলা বিভাগের ছাত্র। গত বছর মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়েছেন। তাঁর বাবার নাম আবদুর রহমান। ভোলার দৌলতখানের দক্ষিণ জয়নগরে তাঁর গ্রামের বাড়ি। বিশ্বজিতের বাম হাত শক্ত করে ধরে রড দিয়ে পেটাচ্ছিলেন তিনি। সূত্র জানায় এই মাহফুজুর রহমান নাহিদের আঘাতগুলোই বিশ্বজিতের মৃত্যু ত্বরান্বিত করেছে। নাহিদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ছাত্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাট চুকিয়ে ফেললেও এর ছাত্রলীগের মায়া কাটাতে পারেননি। পড়ালেখা শেষ করলেও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি শরিফুল ইসলামের ছত্রছায়ায় সন্ত্রাসি কর্মকা- চালিয়ে যাচ্ছেন। শরিফুলের সঙ্গে একই বিভাগের একই বর্ষের ছাত্র ছিলেন নাহিদ। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হলে এরই মধ্যে অছাত্রের খাতায় নাম লেখানো নাহিদ সহ-সভাপতির একটি পদ পেয়ে যাবেন এমনটা মনে করছেন ক্যাম্পাসের অনেকেই। নাহিদের জন্মস্থান ভোলা জেলায়।

৫। মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে শাকিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ছাত্র। বর্তমানে তিনি ষষ্ঠ সেমিস্টারে অধ্যয়নরত। তাঁর বাবার নাম আনসার আলী। পটুয়াখালী জেলার সদর উপজেলায় তাঁর বাড়ি। শাকিলের পরিবার বিএনপির ঘোর সমর্থক। জগন্নাথে প্রথম পর্যায়ে শাকিলও ছাত্রদল করতেন। পরে ছাত্র লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সিরাজুলের সাহচর্য পান। শাকিলও বিশ্বজিৎকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়েছেন সেই ছবি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। শাকিলের জন্মস্থান বরিশাল।

৬। মীর মো. নূরে আলম ওরফে লিমন ২০০৫-০৬ শিক্ষাবর্ষের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। বর্তমানে তিনি মাস্টার্সে অধ্যয়নরত। তাঁর বাবার নাম মীর মো. নূরুল ইসলাম। তাঁর গ্রামের বাড়ি রংপুরের পীরগাছার শুলিপাড়ায়। লিমন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রথম ব্যাচের ছাত্র। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষে ঢুকেই রাজনীতির কালো অঙ্গনটিকেই বেছে নেন লিমন। সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামের কর্মী এই লিমন। লিমনের জন্মস্থান রংপুর জেলায়।

অপর একটি ছবিতে গালে কালো দাগ, রড দিয়ে আঘাত করেছেন বিশ্বজিৎকে। তিনি শাওন।তিনিও সাধারণ সম্পাদক প্যানেলের কর্মী। আর ইতিহাস বিভাগের ৩য় ব্যাচের ছাত্র। শাওনের গ্রামের বাড়ী খুলনা।
বিশ্বজিৎ হত্যায় জড়িত অপর একজন ইমরান। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম ব্যাচের ছাত্র।ফরিদপুরের ছেলে ইমরান ছাত্রলীগের নামধারী সন্ত্রাসী। ভিক্টোরিয়া পার্ক সংলঘœ মার্কেটের দোতলায় ইমরান ছুরি দিয়ে আঘাতে জর্জরিত করেন বিশ্বজিৎকে। ক্যাম্পাসে জানা গেলে ইমরানও সাধারণ সম্পাদক পক্ষের কর্মী।
বিশ্বজিৎকে মারধরের সুত্রপাত ও তাকে টার্গেট করার মূলে ছিলেন রাজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ৩য় ব্যাচের ছাত্র। রাজনের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলায় বলে জানায় ছাত্রলীগ সূত্র। তবে তার বিষয়ে বিস্তারিত আর কিছু জানা যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একাধিকবার সাময়িক বহিস্কার হওয়া ছাত্র তমালও ছিলেন এই হত্যাকা-ের একজন সক্রিয় অংশগ্রহণকারী। বিশ্ববিদ্যালয়ে ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২য় ব্যাচের ছাত্র তমালের বাড়ি বগুড়ায়। প্রথমে ছাত্রদল করলেও বিভিন্ন সময় ছাত্রলীগের বিভিন্ন গ্রুপের আশ্রয়ে অপকর্মে জড়িত হওয়া তার জন্য নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে এশাধিক সূত্র।বিশ্বজিৎকে মারধরে অংশ নেওয়ার আগে তমালের কোর্ট এলাকায় আইনজীবীদের মারধর করে মানিব্যাগ ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার দৃশ্যও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। যে কোন নাশকতাকে আশ্রয় করে জিনিসপত্র লুটে নেওয়া তার অভ্যাসগত বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ছাত্র। তমালও বর্তমানে সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামের কর্মী।
আইন বিভাগের চতুর্থ ব্যাচের ছাত্র মিলনও ছিলেন এই হত্যাকা-ে। ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায় মিলনও একাধিকবার রড দিয়ে আঘাত করেন বিশ্বজিৎকে। মিলনের গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ী।
হত্যাকারী দলের অপর সদস্য রুদ্র ইংরেজি বিভাগের ছাত্র। বিশ্বজিৎ পালিয়ে প্রাণে বাঁচার চেষ্টা করলেও তাকে রেহাই দেননি ছাত্রলীগ নামধারী এই সন্ত্রাসী। পেছন থেকে ছুটে গিয়ে বিশ্বজিৎকে আটকে ফেলেন রুদ্র। তার দেশের বাড়ি খুলনা।এছাড়া বিশ্বজিৎ হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন মোশাররফ। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ২য় ব্যাচের ছাত্র। মোশারফের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়। প্রথম পর্যায়ে মোশারফ ক্যাম্পাসে শিবিরের সক্রিয় কর্র্মী ছিলেন তিনি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ৪র্থ ব্যাচের ছাত্র কামরুলও বিশ্বজিৎকে হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে দাবি অনেকের। কামরুলের দেশের বাড়ি মাদারীপুর।বিশ্বজিৎ হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িত মুন্নাও প্রথমে ক্যাম্পাসে শিবিরের কর্মী ছিলেন। মুন্নার গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জ। তিনি জগন্নাথ বিশ্বিবিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২য় ব্যাচের ছাত্র।

সূত্রঃ
১) প্রথম আলো 

২) বাংলা নিউস ২৪






হিন্দু মেয়েদের মুসলিম আসক্তিঃ কারণ ও পরিণাম



 কোলকাতা ৯ মার্চ : উপমহাদেশে ইসলাম ধর্ম বিস্তারের প্রধান হাতিয়ার হিন্দু মেয়ে বিবাহ। ছলে-বলে-কৌশলে মুসলমানের সংখ্যা বৃদ্ধি করা তাদের সকল উদ্দেশ্য সাধনের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। অতীতে রাজ্যহারা পরাধীন হিন্দুগণ জান-মালের ভয়ে, অস্ত্বিত্ব ও জীবন রার্থে ইসলাম গ্রহণ করতে বাধ্য হত অথবা নির্যাতন, ধর্ষণ, লুণ্ঠন বা মৃত্যুকে স্বীকার করে নিত। বর্তমানে দ্বিতীয় ঘটনাটার পুনরাবৃত্তি মাঝে মাঝেই ঘটে। কিন্তু অবাক হতে হয়, হিন্দু ছেলে-মেয়েরা তাদের নিজেদের ধর্ম বা ইসলাম ধর্ম কোনটা সম্পর্কেই সুস্পষ্ট ধারণা না রেখেই স্বেচ্ছায় ধর্মান্তরিত হচ্ছে। কি সেই আকর্ষণ আর কেনই বা হিন্দু মেয়েরা মুসলিম ছেলেদের প্রতি এত আকৃষ্ট হচ্ছে?

কারণঃ কেন আসক্ত হচ্ছে?

১. সনাতন ধর্মীয় মূল্যবোধ ও জ্ঞান শূন্যতা
নিজের ধর্ম সম্পর্কে হিন্দু যুবক-যুবতীগণ একেবারেই অজ্ঞ। তাদের পরিবার থেকে যথাযথ ধর্মীয় জ্ঞান তাদের দেওয়া হয় না। সনাতন ধর্মীয় শুদ্ধ জ্ঞান লাভের উৎসেরও অভাব রয়েছে। নিজের ধর্ম সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে বিধর্মীদের সমালোচনার কোন সদুত্তর তারা দিতে পারে না। একসময় সত্যিই নিজের ধর্মকে ভ্রান্ত বা অর্থহীন মনে করতে দ্বিধা করে না।

২. মানসিক ধর্ষনের স্বীকার
একটি হিন্দু ছেলে কিংবা মেয়ে নিজ পরিবারের মা-বাবা সহ পরিবারের সকল বয়েজ্যৈষ্ঠদের কাছ থেকে শিখে ভাল আর মন্দের পার্থক্য গুলি, যেমন ভাল মানুষ ও মন্দ মানুষ। শিখে সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই। কিন্তু শিখে না যেটা বেশী দরকার তাহল এরা প্রথমে হিন্দু ও তারপর মানুষ। শিখে না এরা সংখ্যা লগু সম্প্রদায়ে জন্ম এবং বড় হয়ে প্রতিটি পদে পদে বঞ্চনা ও বিড়ম্বনার শিকার হতে হবে। অপর দিকে একটি মুসলিম সম্প্রদায়ের শিশু শিখে সে প্রথমে মুসুলমান পরে মানুষ। সে আরো শিখে সে নিজে মুসুলমান আর অন্যেরা বিধর্মী এ ধরনের পার্থক্যগুলি। ফলে যে কোন হিন্দু শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকে সহসাথীদের নিকট শুনতে হয় ঐ হিন্দু, শিকদের নিকট শুনতে হয় তোমরা হিন্দু এবং হিন্দুদের কোন ধর্ম নাই ইত্যাদি ইত্যাদি। এভাবে হিন্দু শিশুরা মানসিক ধর্ষনের শিকার হতে থাকে এবং ধর্ষনের এধারা কোন হিন্দু শিশুর বয়ঃ বৃদ্ধির সাথে ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে। পাশাপাশি পাঠ্য বইয়ে হিন্দু রাজা মহারাজা ও বীরদের কর্তৃত্ব খর্ব করে প্রকারান্তরে মুসলিম রাজা বাদশা ও লুটেরাদেরকে বীর হিসাবে উল্লেখ্য করায় এগুলো পড়ে হীনমন্যতায় ভোগে। একই সাথে তাবলীগ জামাত ও ইসলাম ধর্মের দাওয়াতকারীদের গুনকীর্তন হিন্দু শিক্ষার্থীদের মানসিক ধর্ষনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। একসময় হিন্দু ছেলে মেয়েরা ভুলে যায়ে।

৩. মিডিয়ার প্রভাব
হিন্দুদের কাছে মুসলিম সংস্কৃতি একেবারেই ভিন্নতর ও অজানা। অজানার বাহ্যিক চাকচিক্যের আকর্ষণ রয়েছে। সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের কারণে পাশাপাশি বাস করা হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি তাদের একটা প্রভাব তৈরি হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন সেক্যুলারবাদী খুল্লাম খুল্লা টিভি চ্যানেল ও ইসলামপন্থী টিভি চ্যানেল, সংবাদপত্র ও চলচ্চিত্রের কাহিনীতে মুসলমান চরিত্রগুলোকে বীর ও মহৎ গুণের অধিকারী রূপে দেখানো হয়। সাধারণ হিন্দুদের সাধারণ হিসেবেই দেখানো হয়। এই মিডিয়াগুলো উঠতি বয়সী যুবক-যুবতীদের মনে দারুন প্রভাব ফেলে। মুসলিমদের মানবাধিকারের কথা যতটা ফলাও করে প্রচার করা হয় হিন্দুদের সেই সাপেে উল্লেখ নেই বললেই চলে।

৪. যৌন চাহিদা
হিন্দু মেয়েরা বিশেষত: টিনেজারদের কাছে সাধারণত সেক্স একটা অজানা জগত। আমাদের দেশে কিশোর-কিশোরীদের যৌন শিক্ষা প্রচলিত না থাকায় তারা এই অজানা বিষয়ে খুবই আকর্ষণ বোধ করে। মুসলমান পরিবারে একটি মেয়ে অল্প বয়স থেকেই খুব ভালভাবে বুঝতে শেখে যে- সে একটা মেয়ে। তার কাছের ও দূরের আত্মীয় সম্পর্কের পুরুষদের কাছ থেকে পুরুষ মানুষ কি জিনিস তার খুব ভাল পরিচয় পেয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় চাচাতো, খালাতো, মামাতো, ফুফাতো ভাই অথবা কাছের বা দূরের সম্পর্কের আত্মীয়ের সাথে সেক্স করার সুযোগ তাদের ঘটে। তাদের রাজসিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবন প্রণালী এই কর্মে উৎসাহী করে। অন্যদিকে সাধারণত হিন্দু সমাজে দূর সম্পর্কের ভাই হলেও সে একটা মেয়েকে আপন বোনের মতই দেখে ও শ্রদ্ধা করে। হিন্দু ছেলে ও মেয়ে উভয়ের মধ্যেই তুলনামূলক বেশি নৈতিক মূল্যবোধ কাজ করে। ফলে হিন্দু পরিবারের মেয়েগুলো সেক্স বিষয়ে মুসলিমদের তুলনায় অজ্ঞ থাকে। আর কোন মেয়ে যদি তার উঠতি বয়সে বা যৌবনে বিবাহের পূর্বে সেক্স বিষয়ে আগ্রহী হয়, তবে তার চাহিদা পূরণের জন্য সাধারণত কোন সুযোগ থাকে না। এই সুযোগটা অনেকেত্রেই গ্রহণ করে মুসলিম যুবকগণ। আর যেখানে মুসলিমদের সংখ্যাই অধিক সেখানে এই ঘটনা আরও বেশি ঘটে।

৫. প্রেম: মরণ ফাঁদ
হিন্দুদের ধর্মান্তরের প্রধান মাধ্যম হলো প্রেম। মুসলিম যুবকগণ হিন্দু মেয়েদের প্রতি যেন একটু বেশিই আকর্ষণ বোধ করে। আর অজ্ঞান মেয়েগুলোও খুব সহজেই এই মোহে আক্রান্ত হয়। তাছাড়া মুসলিম বন্ধুর সাথে মিশতে মিশতে ভাল সম্পর্ক তৈরী হয়ে গেলে বা কারও প্রতি মুগ্ধ হয়ে গেলে মেয়েরা ফাঁদে পড়ে যায়। এই সুযোগের অপোয় থাকা যুবকের অনুরোধ উপো করা অনেক ক্ষেত্রেই আর সম্ভব হয়ে ওঠে না।

৬. খৎনাকরণ:
লেজকাটা শিয়ালের দর্শন অনেকের ধারণা খৎনা করলে পুরুষাঙ্গের যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় ও অনেক মরণঘাতী রোগ হতে সুরক্ষা হয়। এ বিষয়ে হিন্দু মেয়েরা অনেকেই আকর্ষণ বোধ করে। মুসলিম পরিবারের এত বেশি ভাঙন কেন? খৎনা করা পুরুষের যদি এতই ক্ষমতা থাকে তবে মুসলিম স্ত্রীদের অভিসার ও ব্যভিচারের কেন এই আধিক্য? পরপুরুষের হাত ধরে স্বামীসন্তানের মায়া ফেলে পালায় কেন? এ সংক্রান্ত প্রশ্ন গুলি উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেনা।

৭. পবিত্রতা :
হিন্দু মেয়েরা নিজেদের দেহকে পবিত্র মনে করে। একবার মোহবশত: কোন মুসলিম ছেলের সাথে শারীরিক মিলন হলে তারা আর ফিরে আসতে চায় না। তারা নিজেদের তখন অপবিত্র মনে করে।

৮. প্রলোভন
পুণ্য ও বেহেশ্ত প্রাপ্তির আশায় মুসলিম নারী ও পুরুষ উভয়েই উদগ্রীব থাকে। যে কোন মুসলিম ছেলে অন্যধর্মের মেয়েকে বিয়ে করে ধর্মান্তরিত করলে পরিবারের সবাইতে তাকে এ কাজে সহায়তা করে এজন্যে যে এর সওয়াব পরিবারের সকলে ভোগ করবে। ফলে মুসলিম ছেলেটি উৎসাহ পায়। একই ভাবে মুসলিম মেয়ে হিন্দু ছেলে শিকার করতে উৎসাহী ও উদ্ধগ্রীব হয় । ফলে মুসলিম ছেলে ও মেয়েদের কুমন্ত্রণা ও প্রলোভনে হিন্দু মেয়ে ছেলেদের ধর্মান্তরের জন্য যথেষ্ট ভূমিকা রাখে।

৯. পারিবারিক হুমকি ও নীরব অত্যাচার
বিশেষত মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় হিন্দুদের জমি, সম্পত্তি ও নারীদের ওপর দুর্বৃত্তদের নজর পড়ে বেশি। হিন্দুদের ওপরে নীরব অত্যাচার একটি সাধারণ ঘটনা। জীবন, সম্পত্তি, সুখ-শান্তি ও সম্মান রার্থে অনেক সময়ই হিন্দু মেয়েদের উৎসর্গ করতে হয় মুসলিমের হাতে।

১০. সেক্যুলারইজমঃ
হিন্দুদের জন্য অভিশাপ এই শব্দটা যেন ব্যবহারিকভাবে হিন্দুদের জন্যই একমাত্র প্রযোজ্য। সবাই এর কথা বলে কিন্তু এর বলি হয় শুধুমাত্র হিন্দু সম্প্রদায়। হিন্দু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, মিডিয়া ও বুদ্ধিজীবীগণ নিজেদের সেক্যুলার, উদার ও ধর্মনিরপে হিসেবে প্রমাণ করতে মুসলিম তোষণ ও বিবাহকে উৎসাহিত করেন। যদিও তাতে ইসলামেরই জয় হয়। কারণ হিন্দুকেই তার ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করতে হয়। বিপরীতটা ঘটতে দেখা যায় না। এরই নাম তথাকথিত সেক্যুলারইজম।

১১. শিক্ষিত মেয়েদের অবস্থা বিশ্ববিদ্যালয় বা উচ্চ শিক্ষালয়ের হিন্দু ছাত্রীগণ প্রথমত কাসমেট হিন্দু ছেলেদের সাথে বন্ধুত্ব করতে বিব্রত বোধ করে। মনে করে, যদি প্রেম হয়ে যায়? হয়ত বর্ণবৈষম্যের কারণে মা-বাবা মেনে নেবেন না- এই ভয় কাজ করে। ফলে অন্যান্য ছেলেদের সাথে ভাল বন্ধুত্ব গড়ে তোলে। একসময় নিজের অজ্ঞাতেই প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে; মনে করে, এই সম্পর্ক হতে সে বেরিয়ে আসতে পারবে এবং বিয়ে পর্যন্ত গড়াবে না। কিন্তু যখন বা¯Íবতা বুঝতে পারে ততÿণ অনেক দেরি হয়ে যায়, ফেরার উপায় থাকে না। আর মুসলিম বন্ধুর উদার বাণীগুলোও তাকে মুগ্ধ করে রাখে। তাদের অভিসন্ধি বোঝার মতা থাকে না। তখন মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজন কারোর বন্ধনই আর আটকে রাখতে পারে না।

১১. তথাকথিত স্মার্টনেস

স্মার্ট ও সুন্দরী হিন্দু মেয়েগুলো তাদের যোগ্য হিন্দু বন্ধু অনেক ক্ষেত্রেই খুঁজে পায় না। মুসলিম ছেলেদের মধ্যে তাদের স্বপরে স্মার্ট গুণগুলোর উপস্থিতি দেখে তাদের চাকচিক্যের প্রতিই এরা বেশি আসক্ত হয়ে পড়ে। মুসলিম যুবকরাও এই সুযোগটার সদ্ব্যবহার করে।

পরিণতি
বিবাহের সুখ ও যৌনতার মোহ খুব বেশিদিন থাকে না। প্রেমঘটিত বিয়ের পর মুসলিম পরিবারে হিন্দু স্ত্রীগণকে বাস্তবব জীবনের কষাঘাতে পদে পদে লাঞ্ছিত ও অপমানিত হতে হয়। সঙ্গী হয় সারা জীবনের কানড়বা।

• মুসলমানের হিন্দু স্ত্রীদেরকে প্রথমত সাদরে গ্রহণ করা হলেও খুব শীঘ্রই তাদের উপর ইসলামী বিধানগুলো কাল হয়ে আসে। একাকী বের হওয়া যাবে না, ছবি তোলা ও চলচ্চিত্র নিষিদ্ধ, বোরখা পরতে বাধ্য হওয়া, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, ব্যক্তি-স্বাধীনতার অনুপস্থিতি, পূর্বে নিরামিষ আহারী হলেও পিয়াজ-রসুন ও গরুর মাংসের নিয়মিত বিড়ম্বনা তখন নিত্য সঙ্গী হয়। শাশুড়ি বা ননদের এমনকি স্বামীর অত্যাচারের স্বীকার হলেও প্রতিবাদ করার উপায় থাকে না। কারণ স্বামী খুব সহজেই তাকে ‘তালাক’ দিতে পারে। এমনকি সন্তানসহ তালাকও দিতে পারে। তখন হিন্দু স্ত্রীর পায়ের নিচে আর কোন মাটি থাকে না। এককথায় স্বামীর সংসারে তাকে দাসী হয়ে জীবনটা কাটাতে হয়।

• হিন্দু মেয়েরা মুসলিম পুরুষ বিয়ে করলে সাধারণত তার নিজের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজন হতে ত্যাজ্য হয়ে যায়। একমাত্র স্বামী ছাড়া সে নিরাশ্রয় হয়ে পড়ে। তাই বাধ্য হয়ে সকল অত্যাচার মুখ বুজে সহ্য করতে হয়।

• মেয়েরা শ্বশুরবাড়ি এসে বাবার বাড়ির অহংকার করে থাকে। গল্প করে থাকে। তার বিপদে-আপদে বাবা-ভাইয়েরা এগিয়ে আসবে -এই বিশ্বাসটুকু তাদের থাকে। কোন কারণে শ্বশুরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হলে মাথা গোঁজার ঠাই বা আশ্রয়টুকু তার থাকবে- এই ভরসা থাকে। কিন্তু কেউ ধর্মান্তরিত হলে তার পরিণতি সরস্বতী দাসের মতই হতে পারে।

• শ্বশুরবাড়িতে শ্বশুর-শাশুরি, ননদ, জা এবং আত্মীয়-স্বজন কর্তৃক প্রায়শ: ‘মালাউনের মেয়ে’ বলে গালি শুনতে হয়। এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী সে ‘মালাউনের মেয়ে’ গালী শুনতে হয়। দুঃখের বিষয় মাঝে মাঝে আদরের সন্তানই ‘মালাউন মাগী’ বলে গালি দেয়। এটা স্বাভাবিক ঘটনা। আমি যে মুসলমান বন্ধুর সাথে একটু আগে হাসিমুখে কথা বললাম, আড়ালে হয়ত সেও আমাকে মালাউনের বাচ্চা বলে গালি দেয়।

• মুসলিম মতে তিন তালাক বললেই সম্পর্ক শেষ। যৌন আকর্ষণ বিয়ের পর খুব বেশিদিন থাকে না। তারপর শুরু হয় বাস্তÍবতা। একজন পুরুষের একইসাথে চারটি পর্যন্ত বিয়ে করা বৈধ। একজন স্ত্রীর প্রতি মোহ কমে গেলে বা নতুন কোন নারীর প্রতি আসক্ত হলে খুব সহজেই তিন তালাক দিয়ে নতুন বিয়ে করতে ইসলামে কোন বাধা নেই। মুসলিম পরিবারে নিজের পুত্রবধু থেকে শুরু করে দাসী পর্যন্ত যথাক্রমে নিকাহ্ বা ভোগ করা বৈধ। ইসলামে স্ত্রীদের শষ্যেক্ষেত্রের সাথে তুলনা করা হয় এবং পুরুষ সেখানে স্বেচ্ছাচারী যেমন খুশি গমন করতে পারে এবং স্ত্রীরা এক্ষেত্রে বাধ্য। প্রয়োজনে প্রহার করাও বৈধ। এক্ষেত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয় কি না?

• গ্রামের দিকে খোঁজ নিয়ে দেখুন, যে সকল মেয়ে মুসলিম হয়েছে, যৌবনের জৌলুস কমার সাথে সাথে তালাক হয়ে গেছে, ফলে ভিক্ষা করতে হয়। গ্রামের যথেষ্ট ভিক্ষুকের মধ্যে অনেক গুলিই কনভার্ট হওয়া হিন্দু মেয়ে পাওয়া যাবে। পতিতালয়ে গিয়ে দেখুন, ওখানে পাবেন কনভার্ট হয়ে যাওয়া হিন্দু মেয়ে যে যৌবনের প্রথম প্রতুষ্যে সুখের লাগিয়া বাঁধিয়াছে ঘর মুসলিম প্রেমিকের তরে, ঠাঁই হইয়াছে শেষে পতিতালের অন্ধকার ঘরে।

• সবচেয়ে বড় সত্য হলো মুসলিম পরিবারে ধর্মান্তরিত হিন্দু স্ত্রীগণ কেউই প্রকৃতপক্ষে সুখে নেই।

সুতরাং প্রত্যেক অবিবাহিত হিন্দু যুবক যুবতী ও নারী পূরুষের সর্তক হওয়া উচিত এবং পরিবারের সকল শিশু কিশোর কিশোরী সদস্যাদের প্রতিদিনই এতদ বিষয়ে সর্তক করা উচিত।

****অরুন মজুমদার, ঢাকা, ০৬/০১/২০১২ (বিঃদ্রঃ লেখাটির কিছু কিছু অংশ নিঃশব্দ সন্ত্রাস নামক একটি বই থেকে সংযুক্ত করে সংকলন করা হয়েছে।)

সুত্র : বাঙালি হিন্দু পোস্ট 



মৌলভী মেহবুব আলী কিভাবে পন্ডিত মহেন্দ্রপাল আর্য হলেন?



এই গল্প হচ্ছে ভারতের উওর প্রদেশের বাড়ুয়াত নামক কোন অঞ্চলের বাডি মসজিদের একজন বাঙ্গালী ঈমামের যার নাম মৌলভী মেহবুব আলী। এই গল্প কোন গল্প নয় চন্দ্র সুর্যের মতো সত্য ঘটনা। 
মৌলভী মেহবুব আলী সাহেব ঈমাম হিসেবে কুরানের শিক্ষা অনুযায়ী বিশ্বসীদের দিক নির্দেশনা দিতেন। তিনি তার এলাকার হিন্দু মুসলীম সব প্রতিবেশীদের মাঝেই প্রিয়জন ভাজন ছিলেন।দেরীতে ঘুম থেকে ওঠার জন্য তিনি অনেককে মৃদু ভৎসর্না করতেন এই বলে যে যেখানে প্রানীকূলের সামান্য পাখী যারা মানুষের চাইতে অনেক কম উন্নত মানে হয়েও ভোর সকালে ঘুম থেকে ঊঠেই কিচির মচির করে সেখানে তুমি আশরাফুল মাখলুকাত হয়েও এখনো ঘুমোচ্ছো। "মুসলীমদের এখন উচিত মসজিদে থাকা আর হিন্দুদের উচিত তাদের সৃষ্টি কর্তাকে ধন্যবাদ দেয়া। তিনি মানুষকে জীবন দান করেছেন তাদের সময় নষ্ট করার জন্য নয়।" উত্তর প্রদেশের বাঘপাত জেলার বাডিয়াতে ঐ মসজিদকে ঘিরে যত প্রতিবেশী ছিল সবাই মৌলভীকে সম্মান শ্রদ্ধা করত। 
এভাবেই অনেকগুলো বছর কেটে গেল। তিনি বেশ ধর্য্য ও নিষ্ঠার সাথেই তার দ্বায়িতগুলো পালন করছিলেন। ইসলামী শিক্ষার উপর তার ছিল স্নাতক ডিগ্রী যা তার জন্য এক বিশ্বস্ত বর্ম হিসেবেই কাজ করেছিল। তিনি পৃথিবীর অন্যন্যা মুসলীমদের মতো বিশ্বাস করতেন কুরানের সমস্ত উপদেশ ও আদেশগুলো স্বয়ং আল্লাহ্‌র। প্রত্যককে অবশ্যই তাদের নিজের জীবনকে কুরানের আলোকে চালিত করতে হবে এবং কুরানে সমস্ত নির্দেশগুলো মেনে চলতে হবে তাহলে কেউ আর ভূল করতে পারবে না।১৯৮৩ সালে শীতকালে এই মিষ্টভাষী ভদ্র ইমামের সাথে গুরুকুল ইন্দ্রপ্রসাদ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞান শিক্ষক শ্রী কৃষ্ণা পাল সিং এর সাক্ষাৎ হয়। যখন মৌলভী সাহেব কুরানের উপর উপস্থিত বক্তৃতা দিচ্ছিলেন তখন শ্রী কৃষ্ণা পাল সিং হাসছিলেন এবং তারপরেই বললেন "মৌলভী সাহেব আপনি কি আমার গুরুকুল ইন্দ্রপ্রসাদের আতিথ্য গ্রহন করবেন?" মৌলভী সাহেব তার নেমতন্ন গ্রহন করলেন কারন তিনি বেশীর ভাগ বাঙ্গালীদের মত গোঁড়ামী মুক্ত ছিলেন। সন্ধ্যে বেলা তিনি গুরুকুলে পৌঁছান। তার নিমন্ত্রনকারী গুরুকুলের একটি ছিমছাম পরিস্কার পরিছন্ন কামরায় তার থাকার ব্যাবস্থা করলেন। মাগরিবে আযানের ওয়াক্ত হয়ে গেল। তিনি অযু সেরে সেই কামরায় নামায আদায় করে কামরা থেকে বের হলেন। তিনি তখন দেখলেন গুরু, শিষ্য ও দর্শনার্থিরা বৈদ্যিক যোগাসন করছে আবার কেউ কেউ সান্ধ্যকৃত্য করছে। 
পরে বৈদ্যিক বিষয়ের উপর বক্তৃতা দেয়া হলো ও খাবার পরিবেশন করা হলো। নামায পড়ার প্রস্তুতির পূর্বে তিনি কৃষ্ণা পাল সিং এর সাথে রাতের খাবার খেলেন। কৃষ্ণা পাল সিং মৌলভী সাহেবকে গুরুকুলের অনেকের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন। তাকে গুরুকুলের মন্ত্রী ধর্মবীর এবং সন্যাসী স্বামী শক্তিভিবেসের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। "আপনার জীবনের উদ্দেশ্য কি মৌলভী সাহেব?" সন্ন্যাসী প্রশ্ন করলেন। "মানুষ যেন শয়তানের ফাঁদে পা না দেয় সেজন্য তাকেসর্তক করা এবং সঠিক পথে চলার নেয়ামত বাতলে দেয়া।" উওরে মৌলভী সাহেব বললেন। " আমরাও একই কাজ করছি এবং প্রকৃত পক্ষে আমাদের আর্যদেরও একই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।আপনার কি মনে হয়ে কেন আমরা এক সাথে কাজ করছি না?" স্বামীজী প্রশ্ন করলেন। উওরে মৌলভী সাহেব বললেন "আমি জানি না। আমাকে ভাবতে দিন।" তিনি পরেরদিন ভোর ৪টায় উঠলেন এবং যথারীতি তার নামায পড়লেন। ঘর থেকে বেরিয়েই তিনি দেখলেন ছাত্ররা শরীর চর্চা করছে। তিনি শিক্ষকদের সাথে দেখা করলেন। ইসলাম সহ আধ্যাত্মিকতার অনেক বিষয় নিয়ে তিনি তাদের সাথে আলোচনা করলেন। মৌলভী সাহেব ইসলাম ব্যতীত অন্যন্যা ধর্মের দর্শন গুলো চিন্তা করেননি এবগ তিনি উপসংহারে বললেন যে অন্যনা ধর্মের রীতিনীতি প্রথা যুক্ত করা ব্যাপারে কুরান কোন কিছুই বলেনি। " আমার জানা ছিল না আমার এই ছোট কুয়োর বাইরেও জগত আছে। স্বামী বিবেকানন্দ খুব সম্ভবত আমার মত লোকের কথা চিন্তা করে তিনি বলেছিলেন যে সমুদ্রের বিশালতা ব্যাঙ্গের মনের চাইতে অনেক বড়, যে ব্যাঙের চিন্তা ছোট্ট কুয়োর মধ্যেই সীমাবদ্ধ" -এতেই সমস্ত আর্যরা হেসে উঠলেন। 
গুরুকুল ছেড়ে যাবার সময় শ্রী ধর্মবীর তাকে স্বামী দয়ানন্ন্দ স্বরসতীর "সত্য প্রকাশ" এর একটি উর্দু সংকলন তাকে দিলেন। মৌলভী সাহেব বাড়ুয়াত গামী বাসে বসে বইটির পাতা উল্টাতে লাগলেন তখন তার চোখে পড়ল চৌদ্দতম অধ্যায়টির উপর যার বিষয় বস্তু হচ্ছে কোরান।গেরুয়া কাপড়ে মোড়ানো এই রকম এক সন্ন্যাসী তাঁর পবিত্র গ্রন্থের আয়াত লিপবদ্ধ করেছেন দেখে তিনি দারুন বিষ্মিত হলেন। "আমার জীবনে সেদিন আমি প্রচন্ড এক ধাক্কা খেয়েছিলাম। বইটির উপর কাফের সন্যাসীর ছবি ছিল আর ভেতরে কুরানের আয়াত" স্বামী দয়ানন্দের এই গ্রন্থটি কুরান এবং এর দাবীগুলো নিয়ে আলোকপাত করেছেন আমাদের সনাতন বৈদ্যিক প্রথার আলোকে। গ্রন্থটি ভারতের প্রায় সব ভাষাতেই অনুবাদ করা হয়েছে।কুরানে লেখা আছে "যেখানেই তুমি ঘোর না কেন সেখানে আল্লাহ্‌র মুখ থাকবে (২:১০৯)" স্বামীজী "সত্য প্রকাশ" বইটিতে প্রশ্ন করেছেন " যদি এই কথাই সত্য হয়ে তাহলে মোহাম্মদ কেন কেবলার(মক্কার পবিত্র মসজিদ) দিকে যাত্রা করেছিলেন? এখন তর্কের খাতিরে বলা হলো তাকে সেটা করার আদেশ ছিল তাই তিনি সেটা করেছেন তাহলে এর প্রতিউত্তর আসবে তাকেতো যেকোন দিকে তার ইচ্ছে মত মুখ ঘুরাবার অনুমোতিও তো দেয়া হয়েছিল। এ বক্তব্য পরস্পর বিরোধী তাহলে কোনটাকে সত্য হিসেবে ধরে নেব। আবার যদি আল্লাহ্‌র মুখ থাকে তাহলে তিনি কেবল একই সময় এক দিকেই মুখ করে থাকতে পারবেন সব দিকে নয়।" "সত্য প্রকাশ" গ্রন্থে চৌদ্দতম অধ্যায়ে প্রায় ৩০,০০০ শব্দে বেদের আলোকে কুরানের সমস্ত দাবীগুলোকে গুড়িয়ে দিয়েছে এবং কোটি কোটি মুসলীমের পবিত্র গ্রন্থ কুরানের অধারাবাহিকতা, অতিরঞ্জন ও বৈজ্ঞানিক ভূলগুলোকে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন সেই গেরু কাপড়ে ঢাকা সন্ন্যাসটি।
বইটি মৌলভী মেহবুব আলীর মনে ব্যাপক নাড়া দিয়েছিল। তিনি বলেন " এই সকল প্রশ্নের কোন উওরই আমার কাছে ছিলনা। তাঁর যুক্তিগুলো কোন ভূলই আমি খুঁজে পাইনি। তাঁর প্রতিটি ক্ষুরধার যুক্তিগুলো আমার সমস্ত বিশ্বাসকে কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলছিল। স্বামী দয়ানন্দ স্বরসতীর রচিত "সত্য প্রকাশ" অন্ধকারের আমার হাত ধরেছিল এবং অন্ধকার থেকে আমাকে আলোতে নিয়ে এসেছিল যে অন্ধকার আমার মনকে ঘিরে রেখেছিল" বইটি পড়ার সময় মৌলভী সাহেব কতগুলো প্রশ্ন ও সন্দেহের তালিকা তৈরী করলেন যা তার মনকে পীড়া দিচ্ছিল। সেই সন্দেহের প্রশ্নগুলো তিনি সেই সময়কার ২৫ জন মুফতিকে(Islamic Scholar)চিঠির মাধ্যমের জানিয়ে ছিলেন। কুরান যদি যর্থাত দিক নির্দেশনা হয় তাহলে অবশ্যই এই উওরগুলিও আসবে। " আমি তাদের সবাইকে অনুরোধ করে বলেছিলাম যে আমার অভিপ্রায় নিয়ে প্রশ্ন না তুলে আমার জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন গুলির উত্তর দিয়ে আমার মনকে তৃপ্ত করবেন। আমি জানার জন্যই প্রশ্ন করেছি। " তিনি আরও বললেন "শুধু মাত্র সাতজন আমাকে চিঠির উওর দিয়ে বললেন যে তুমি এই সকল প্রশ্নের উওর আশা করতে পারি না কারন কুরানের সত্যতা ও প্রবিত্রতা নিয়ে প্রশ্ন করার মাত্রই তুমি আল্লাহ্‌ ও নবীজির চোখে ধর্ম ভ্রষ্ট হয়ে গেছো। " মৌলভী মেহবুব আলীর মনে যে সকল প্রশ্ন জেগে ছিল কোন মাওলানা বা কোন ইসলামিক বিশেষজ্ঞ তার কোন উওরই দিতে পারেনি। তারপরে আত্মার সন্ধানের জন্য তিনি বেদ সমগ্র অধ্যায়ন শুরু করলেন এবং সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি ধর্মত্যাগী হবে।তিনি ইসলামকে ছেড়ে বৈদ্যিক ধর্ম সনাতনকে আলিঙ্গন করলেন। "১৯৮৩ সালে আমি শুদ্ধি নিয়েছি এবং আমার পূর্বপুরুষের ধর্মীয় ঐতিহ্য আমি ফিরে পাই বৈদ্যিক আর্যাবত হিসেবে" তিনি এখন আমাদের সনাতন ধর্মের একজন অত্যন্ত জ্ঞানী পন্ডিত যার নাম পন্ডিত মহেন্দ্রপাল আর্য। 
গত ২৯ বছর ধরে তিনি অনেক পথহারা মুসলীমকে ঘরে ফিরিয়ে এনেছেন।তিনি বলেন " আমি প্রধানত ইসলামিক স্কলারদের লক্ষ্য করি এবং এ যাবতকাল সফলতার সহিত প্রায় ১৫,০০০ কে ফিরিয়ে এনেছি বৈদ্যিক বিশ্বাসে। আমি মহাঋষী দয়ানন্দ স্বরসতী ও বেদের শিক্ষায় সুসজ্জিত যা যুক্তি সঙ্গত, মানবিক, সকল বিতর্কের উর্দ্ধে এবং অবশ্যই বৈজ্ঞানিক ভাবে নির্ভূল।" হালের মুসলীমদের মাঝে জনপ্রিয় মৌলবাদী ওয়াহাবি প্রচারক জাকির নায়েককে তিনি ইসলামিক যেকোন বিষয় নিয়ে তার সাথে বিতর্ক (Debate) করার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন। " নায়েক নিজেকেComparative Religions-এর একজন ছাত্র মনে করে এবং সবর্দা বেদ ও বেদ সাহিত্যের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। তিনি মুম্বাইয়ের ডুংরিতে সুসজ্জিত একটি অফিস দক্ষ কর্মচারীদের দ্বারা চালান এবং যার একমাত্র লক্ষ্যই হচ্ছে সেসব অমুসলীম যাদের জ্ঞান একেবারেই কম তাদের Misleadকরা মানে ভূল পথে চালিত করে তাদের ধর্মান্তরিত করে মুসলীম বানানো "
একদা মৌলভী বর্তমানে বৈদ্যিক পন্ডিত বলেন হিন্দুরা এখন খুবই বিশৃংখল এবং কুসংস্কারে ডুবে আছে। যখন দুষ্টের দলেরা তাদের শঠ কৌশলের মাধ্যমে আমাদের আক্রমন করে তখনও তাদের ঘুমিয়ে থাকতে দেখা যায়।এখন সময় এসে গেছে জেগে উঠবার এবং সকল ভাই বোনদের বৈদ্যিক আশ্রয়ে ফিরে আসার সাদরের আমন্ত্রন জানার জন্য শুদ্ধিকে পুনর্জীবিত করতে হবে।"
এই মহৎ প্রানের বক্তব্য অনুযায়ী আমরা এতই বিশৃংখল যে এমন একজনকে আমরা খুবই কম সনাতনীরা চিনি বা জানি। অথচ এই রকম ব্যাক্তি অন্যের সম্প্রদায়ের থাকলে তাকে নিয়ে সবাই কতই না হৈ চৈ করত সেটা সামান্য জাকির নায়েককে নিয়ে মুসলীমদের লাফালাফি দেখেই বোঝা যায়। কিন্তু আর নয়, আমরা তরুন প্রজন্ম এবার জেগে উঠবোই। বাংলার প্রতিটি ঘরে সত্যকে পৌঁছে দেয়াই হচ্ছে আজকে আমাদের সনাতনের অঙ্গীকার। 
ধন্যবাদান্তে
হেমন্ত কুমার মজুমদার


সোর্স :  বাঙালি হিন্দু পোস্ট 

পশ্চিমবাংলাতে আবারও হিন্দুদের বিরুদ্ধে মুসলিমদের তাণ্ডবঃ অসহায় মানবতা


কলকাতা  ৮ মার্চ :  : ভারতে পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ বলছে, এক মুসলমান ধর্মপ্রচারক সন্দেহভাজন ছিনতাইবাজদের গুলিতে নিহত হওয়ার পরে কলকাতার আশেপাশের কয়েকটি এলাকায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে৻ দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার ক্যানিং, জয়নগর-কুলতলি, ভাঙ্গর এবং হাওড়া জেলার অনেক অঞ্চল থেকে হিংসাত্মক ঘটনার খবর পাওয়া গেছে৻ প্রায় ১৫০টি বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে৻ কয়েকটি এলাকায় ১৪৪ ধারা অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে৻ তবে রাজ্য মন্ত্রিসভার এক সদস্য বলছেন পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে৻ পুলিশ-প্রশাসনের স্থানীয় কর্মকর্তারা তো ঘটনাটা নিয়ে কথা বলতে চাইছেন না৻ তবে উর্দ্ধতন পুলিশ অফিসাররা জানিয়েছেন ক্যানিং এলাকায় ধর্মপ্রচার সেরে মোটরসাইকেলে চেপে বাড়ি ফেরার সময়ে সোম আর মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী গভীর রাতে সন্দেহভাজন ছিনতাইকারীরা আক্রমণ করে রুহুল কুদ্দুস ও তাঁর সঙ্গী সিরাজ ইসলামকে৻গুলিতে নিহত হন রুহুল কুদ্দুস৻ তাঁর বাসস্থান দক্ষিণ ২৪ পরগনার ঘুঁটিয়ারি শরিফ এলাকায় খবর পৌঁছলে সেখানকার মানুষ অশান্ত হয়ে ওঠেন৻ ধর্মপ্রচারের কারণে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে মুসলমানদের মধ্যে তিনি পরিচিত ছিলেন৻ সব জায়গাতেই উত্তেজনা ছড়াতে থাকে৻ ক্যানিং এলাকায় ৪ টি হিন্দু গ্রামের ১৫০টিরও বেশি ঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হয়৻ অথচ আহত ইমামকে প্রথম উদ্ধার করে হিন্দুরাই। প্রথমে প্রশাসন কাজে নামতে কিছুটা দেরি করে বলে অভিযোগ উঠেছে৻ কলকাতার মিনি পাকিস্তান অর্থাৎ মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা পার্ক সার্কাস আর মেতিয়া বুরুজ থেকে ট্রাকে ট্রাকে মুসলমান গিয়ে হিন্দুদের মারতে থাকে। বিশাল পুলিশবাহিনী, ৠাপিড অ্যাকশন ফোর্স,দমকলবাহিনী প্রভৃতি পৌঁছয় ক্যানিং অঞ্চলে৻ তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-মন্ত্রীরাও চলে যান৻ তবে ততক্ষণে কলকাতা আর হাওড়ার অনেক জায়গাতেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে৻ সবথেকে বেশি উত্তেজনা এখনও রয়েছে জয়নগর-কুলতলি এলাকায়৻ সেখানে উত্তেজনা যাতে আর না বাড়ে,সেজন্য আজ বুধবার ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে৻ জয়নগর এলাকায় কয়েকটি হিন্দু সংগঠন পথ অবরোধ করেছিল আজ সকালে। তাদের লাঠি চালিয়ে সরিয়ে দেয় পুলিশ৻ ভাঙ্গড় এলাকায় বিক্ষোভ দেখিয়েছেন মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষজন৻ তবে বাড়িতে অগ্নিসংযোগ বা অন্য কোনও হিংসাত্মক ঘটনা আজ আর নতুন করে কোথাও ঘটে নি৻ দমকল মন্ত্রী জাভেদ খান বিবিসিকে বলেছেন যে শেষমেশ বুধবার সকালের দিক থেকে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা গেছে, যদিও উত্তেজনা এখনও রয়েছে৻ মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী আজ মহাকরণে ধর্মঘট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে একাধিকবার ক্যানিংয়ের ঘটনাটার ইঙ্গিত দিয়েছেন৻ কোন্‌ এলাকায়, কী হয়েছে, সেসব কিছু না বললেও তিনি বলেছেন যে দাঙ্গার পরিস্থিতি কড়া হাতে মোকাবিলা করা হবে, যে কেউ, কোনও ইস্যুতে পথ অবরোধ, অগ্নিসংযোগ করবেন, দাঙ্গার পরিস্থিতি তৈরি হবে -- এটা প্রশাসন হতে দেবে না
 ১। https://www.facebook.com/media/set/?set=a.2979335299556.76261.1747135761&type=1

২।http://timesofindia.indiatimes.com/city/kolkata/Violence-after-villager-murder/articleshow/18584231.cms
৩।https://www.facebook.com/tapan.ghosh.1297/posts/418504664910659