Thursday, June 20, 2013

’’ স্বাধীন দেশে বাস করি বলে মনেও হয় না। আমাদের চোখের জল দেখার কেউ নেই। ”

’’ স্বাধীন দেশে বাস করি বলে মনেও হয় না। আমাদের চোখের জল দেখার কেউ নেই। ”

কামদুনির পরে স্বরূপনগরের কৈজুড়ি।
বুধবার মাঝরাতে বাড়ির দরজা ভেঙে ঢুকে এক মহিলাকে ধর্ষণের চেষ্টা করল এক দুষ্কৃতী। বাধা পেয়ে প্রথমে মহিলার মাথায় এবং হাতে বাঁশ দিয়ে মারল। মধ্য তিরিশের ওই মহিলা মাটিতে ছিটকে পড়ে চিৎকার করতেই ভোজালি দিয়ে তাঁর যৌনাঙ্গে উপর্যুপরি কোপ মেরে পালাল সে।

ঠিক সেই সময়েই গ্রামের আর কয়েকটা বাড়ি পরে আর এক দল দুষ্কৃতীর হাতে আক্রান্ত হচ্ছিলেন আর এক গৃহবধূ। বয়স ২৬-২৮-এর মধ্যে। দুষ্কৃতীরা তাঁকে অপহরণ করে নিয়ে যাচ্ছিল। গ্রামবাসীদের তাড়া খেয়ে শেষ পর্যন্ত ওই মহিলাকে একটি খানায় ফেলে পালায় তারা।

বাংলাদেশ সীমান্ত-লাগোয়া কৈজুড়ি গ্রামের অভিযোগের আঙুল ও-পার থেকে আসা গরু পাচারকারীদের দিকে।

গ্রামবাসীদের দাবি, বুধবার রাতের এই জোড়া হামলা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে বিএসএফের হাত থেকে গুলিচালনার ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর থেকেই পাচারকারীদের তাণ্ডব চলছে নিত্যদিন। খুন-জখম-যৌন নিগ্রহ এখন গ্রামের রোজকার ঘটনা। সন্ধের পর থেকেই এলাকার দখল চলে যায় সীমান্ত পারের দুষ্কৃতীদের হাতে। তাদের হাতে দা-বল্লম-শটগান, কী নেই! দশ কিলোমিটার দূরে থানা। ফলে পুলিশের সাহায্য মেলে না তেমন।

বিএসএফ-এর একটা ক্যাম্প আছে ঠিকই। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, জওয়ানরা এখন ঠুঁটো জগন্নাথ। কৈজুড়ি সমস্বরে জানাচ্ছে বিএসএফ-কে নালিশ জানাতে গেলে জওয়ানরা এখন বলে দেন, “গুলি চালানোর হুকুম নেই। গ্রামে ঢুকে পাচারকারীদের হাতে কি মার খাব?”

গ্রামের মেয়ের ধর্ষণ ও খুনের প্রতিবাদে সঙ্ঘবদ্ধ আন্দোলন গড়েছে বারাসতের কামদুনি গ্রাম। কৈজুড়ি সে রাস্তায় হাঁটতে পারে না? এলাকার অনেকেই কামদুনির আন্দোলনের কথা শুনেছেন। কিন্তু সকলেই এক বাক্যে স্বীকার করছেন, সীমান্তবর্তী এই গ্রামের সমস্যাটা আলাদা। এখানে দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করাই দায়। গ্রামের বাঁ-পাশ দিয়ে চলে গিয়েছে রাস্তা। গ্রামের পিছনে আট-দশ গজ চওড়া একটা খাল। খালের ও-পারেই বাংলাদেশ। কাঁটাতারের বেড়া পর্যন্ত নেই। ফলে এই গ্রাম কার্যত গরু পাচার এবং তার সঙ্গে নানা অপরাধের মুক্তাঞ্চলে পরিণত হয়েছে।

গত কয়েক মাসে বিএসএফ জওয়ান-সহ গ্রামের একাধিক নারী-পুরুষ খুন হয়েছেন, আহত হয়েছেন। বিএসএফ চৌকি ভাঙচুর করে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। সন্ধের পর থেকে তাই দরজায় খিল দিতেই অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে কৈজুড়ি। গ্রামের কামনা গাইন, সুবলা গাইনরা জানান, বিকেলের পর থেকে আতঙ্কে ঘরবন্দি থাকতে হয় তাঁদের।

যদিও এখন ঘরও আর নিরাপদ থাকছে না। কৈজুড়ি পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ বিশ্বনাথ সরকারও স্বীকার করেন, “ওরা মা-বোনেদের উপর সীমাহীন অত্যাচার শুরু করেছে।”

বৃহস্পতিবার সকালে গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ। স্বরূপনগরের তৃণমূল বিধায়ক বীণা মণ্ডল এলাকায় দাঁড়িয়ে স্বীকার করেন, পাচারকারীদের দাপটে কৈজুড়ি বিপন্ন। তিনি বলেন, “এই এলাকায় গরুপাচার বন্ধ করতে এবং পাচারকারীদের দৌরাত্ম্য রুখতে বিএসএফ যাতে আরও সক্রিয় হয়, সে জন্য কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ করব মুখ্যমন্ত্রীকে।”

গুরুতর জখম অবস্থায় বসিরহাট মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি ওই মহিলা পুলিশ ও চিকিৎসকদের জানিয়েছেন, তাঁর স্বামী কলকাতায় চাকরি করেন। ছেলে বেড়াচাঁপার একটি পেট্রোল পাম্পে কাজ করে। বুধবার রাতে স্বামী-ছেলে কেউই বাড়ি ফিরতে পারেননি। মাটির উপরে টালি ছাওয়া বাড়িতে তিনি একাই ছিলেন। বাড়ির পিছনেই বাঁশবাগান আর তার পিছনেই খাল। গ্রামবাসীরা জানান, রাতে ওই বাঁশবাগানে লুকিয়ে থাকে দুষ্কৃতীরা। বুধবার রাত আড়াইটে-তিনটে নাগাদ একটি লোক বেড়া ভেঙে বারান্দায় উঠে দরজায় ধাক্কা মারে। মহিলা দরজা খোলেননি।

তখন লাথি মেরে দরজা ভেঙে ফেলে ওই দুষ্কৃতী। চুলের মুঠি ধরে মহিলাকে বাইরে এনে মুখে হাত চাপা দিয়ে তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। মহিলা প্রাণপণে বাধা দিতে থাকেন। তখন তাঁকে বাঁশ দিয়ে ঘায়েল করে ভোজালি দিয়ে কোপায় সে।
আক্রান্ত অন্য বধূটির পরিবার সংবাদমাধ্যম এবং পুলিশকে সব ঘটনা খুলে বললেও লিখিত অভিযোগ এখনও করেনি। বধূর কাকা জানান, রাতে মেয়েটি শৌচাগারে যেতে ঘর থেকে বেরিয়েছিলেন। তখনই পাঁচ-ছ’জন দুষ্কৃতী তাঁকে তুলে নিয়ে সীমান্তের দিকে এগোয়।

কিন্তু বধূর চিৎকারে গ্রামের লোকজন বেরিয়ে পড়েন। তাই শেষ পর্যন্ত তাঁকে ফেলেই পালাতে বাধ্য হয় দুষ্কৃতীরা। কৈজুড়ির মেয়েরা বলছেন, “কামদুনির ঘটনার পরে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, দোষীদের ফাঁসি দেওয়া হবে। সীমান্তে আমরা ভয়ে জেগে রাত কাটাচ্ছি। কেউ আমাদের খবর রাখে না। স্বাধীন দেশে বাস করি বলে মনেও হয় না। আমাদের চোখের জল দেখার কেউ নেই।”

-------------------------
http://www.anandabazar.com/21pgn3.html

Tuesday, June 4, 2013

এই উপমহাদেশের পূর্বভাগ, অর্থাৎ বাংলাদেশ, আসাম আর পশ্চিমবঙ্গ মিলে একটা আফগানিস্তান, কি একটা কাশ্মীর তৈরি হবে

যদি আগামী পঁচিশ বছরের কথা মাথায় রেখে আমরা একটা মাস্টার প্ল্যান না তৈরি করি, এই উপমহাদেশের পূর্বভাগ, অর্থাৎ বাংলাদেশ, আসাম আর পশ্চিমবঙ্গ মিলে একটা আফগানিস্তান, কি একটা কাশ্মীর তৈরি হবে।

খুবই সিম্পল ব্যাপার, একদম জলভাত। মমতা কলকাতাকে লণ্ডন বানাতে পারবেন না, উত্তরবঙ্গকে সুইজারল্যান্ডও না। কিন্তু ঘরে বসে বসে আমরা সবাই মিলে পশ্চিমবঙ্গকে ভূস্বর্গ কাশ্মীর বানিয়ে ফেলতে পারি। আসুন, সবাই ল্যাদ খেয়ে ফেসবুক করি। তাহলেই হবে। পঁচিশ বছর ধরে ঘরে বসে আমরা সবাই ফেসবুক করলেই বাংলা কাশ্মীর হয়ে যাবে। তারপর অবশ্য ঘর থেকে বেরতেই হবে, যেমন করে পণ্ডিতরা ঘরছাড়া হয়েছিল, যেমন করে পূর্ববঙ্গের/বাংলাদেশের হিন্দু ঘরছাড়া হয়ে যাচ্ছে আজও। আমাদেরও তেমনই হবে।

বাংলা তো কাশ্মীর হবে, কিন্তু ওরে পাগলা, কাশ্মীরে কি কাফির থাকতে পারে? ইয়াহাঁ কেয়া চলেগা? নিজাম এ মুস্তাফা (এখানে কি চলবে? মহম্মদের শাসন!) স্লোগানে আপনাদের শান্ত স্নিগ্ধ শান্তিনিকেতন, আঁতলামির ঠেক কলেজ স্ট্রিট, আবাপ নন্দিত যাদবপুর, মিত্তাল বন্দিত জেভিয়ার্স - সবই কম্পিত হবে, যেভাবে কাশ্মীর একসময় কেঁপেছিল। বাংলাদেশ শিগগিরিই আফগানিস্তান হবে, আর তার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গও মায়ের ভোগে যাবে। স্রেফ আরও তিনটে দশক। এমন আর কি, দেখতে দেখতে কেটে যাবে।
 
Source: Tamal Dasgupta
বাঙালি হিন্দু বার্তা

 
 বাঙালি হিন্দুদের অস্তিত্ব সংকটে  চাই লড়াই এবং সংগ্রাম

বাঙালি হিন্দু বার্তা

বাহিবা 

Sunday, April 7, 2013

TMC কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইকবাল কে গ্রেপ্তার করে কলকাতা পাঠানো হলো

কলকাতা ১০ মার্চ : সাব ইন্সপেক্টর তাপস চোধুরী হত্যা কেস এ অভিযুক্ত মোহামদ ইকবাল কে আজকে পেশ করা হলো কোলকাতা পুলিশ এর কাছে । মোহাম্মদ ইকবাল কে ফোন বুথ থেকে গ্রেপ্তার করা হই গয়া থেকে কাছে দেহরী অন সোনে নামক একটা জায়গা থেকে ৭ মার্চ । এই ইকবাল এর বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে যে সে পুলিশ সাব ইন্সপেক্টর তাপস বাবুকে গুলি করে হত্যা করে গার্ডেন রীচ এর হরিমোহন কলেজ এ TMC এবং CONGRESS এর চলাকালীন ঝামেলার সময় । বিবাদ এর কারণ ছিল ছাত্র ইউনিয়ন এর ফর্ম বিতরণ কে কেন্দ্র করে ১২ ফেব্রুয়ারী গত মাসে ।

এই ঘটনা মমতা বানের্জীর সরকারকে আবার একটা বড় প্রশ্নের সামনে উত্তীর্ণ করে , পশ্চিম বঙ্গের রাজ্যপাল এম কে নারায়ানান গত ১৪ই ফেব্রুয়ারী রাজ্য নগর উন্নয়ন মন্ত্রী ফির্হাদ ববি হাকিমের ওই অভিযুক্ত আসামী ইকবাল কে আড়াল করবার চেষ্টা কে সোজাসুজি নিন্দা করেন ।

সেই দিনই কলকাতা পুলিশ কমিশনার র ক পচনান্দা কে বদলি করে দেওআ  হই এবং এই কেস এর দায়িত্য দেওয়া হই CID ডিপার্টমেন্ট কে । প্রাথমিক ভাবে আসামী সন্দেহে শেখ শুভান সহ আরো ১২  জনকে কে গ্রেপ্তার করা হই পুলিশ অফিসার এর বিরুধ্যে গুলি চালানোর দায়ে ।

ইকবাল এর গ্রেপ্তার এর পর তৃনমূল কংগ্রেস এর সাধারণ সম্পাদক বলেন যে আমি আর কি বলব ,এখন আইয়ীন তার পথে কাজ করবে । CPIM লিডার সূর্য কান্ত মিশ্র বলেন পুলিশ একজন কে গ্রেপ্তার করেছে ঠিক ই কিন্তু এই হিংসা মূলক ঘটনার নেত্রীতে  থাকা আসল লোক কে তো ধরা হচ্ছে না । মুখ্যমন্ত্রী  মমতা বন্দপাধাই এই সকল প্রশ্ন কে উপেখ্হা করে বলেন যে মিশ্রবাবু লেফ্ত্রন্ট এর ইচ্ছা অনুসারে যাতে ফির্হাদ হেকিম কে সরানো যাই তার চেষ্টা  করছেন ।

পশ্চিম বঙ্গ কি বৃহত্তর বাংলাদেশের একটা অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হতে চলেছে আগামী দিনে


কলকাতা ১০ মার্চ : পশ্চিম বঙ্গ এখনো পর্যন্ত বাঙালি হিন্দুর একমাত্র সংখ্যা গরিষ্ঠ বাসভূমি কি বাংলাদেশের অংশ হতে চলেছে এইটা এখন একটা লক্ষ টাকার প্রশ্ন ? পশ্চিম বঙ্গ তথা গোটা পূর্ব ভারতের অবস্থা এখন আর আগের মত নেই ।   পূর্ব ভারত এর রাজ্য গুলির মধে অসম , পশ্চিম বঙ্গের  সাথে বাংলাদেশ ইসলামিক রাষ্ঠ্র এর সীমান্ত আছে । সীমান্ত পার করে দিনের পর দিন বাংলাদেশ এর লোকেরা বেঅয়িনী ভাবে ভারতে চলে আসে এবং ভারত ও বাংলাদেশ সীমান্তএর বেশির ভাগ অংশই এখনো পর্যন্ত খোলা খুব সামান্য অংশ তার দিয়ে ঘেরা । এই সুযোগে কে কাজে লাগিয়ে  বহূ বাংলাদেশী প্রতি বছর ভারতে চলে আসে । 

বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ঘুষ নিয়ে এই অনৈতিক কর্মকান্ড কে সমর্থন করে । আর এর সাথে চলছে বাংলাদেশ এবং ভারত সীমান্তে অবাধ গরু এবং গবাদি পশুর  কারবার । সাথে আছে জাল নোটের কারবার সরকার জেনেও না জানার ভান করে প্রাক্তন  বামফ্রন্ট  সরকার  এই বাপরে কোনো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেইনি যাতে এই বড় সমস্যা টা কে সমাধান করা যাই । তাদের কাছে দেশের সার্থের থেকে নিজেদের গদি বাচানোর চিন্তা বেশি ছিল তাই তারা মুসলমান ভোট হারাবার ভয়ে নিরব ভূমিকা  পালন করে এসেছে দীর্ঘ ৩৪ বছর , আর বর্তমান সরকার ও কিছু  করবে বলে মনে হইনা ।

ভারত বর্স এখন আক্রান্ত সন্ত্রাস এবং ষড়যন্ত্রের খুব সিঘ্রই DGFI এবং  ISI ভারত কে ভেঙ্গে পুরো পূর্ব ভারত কে এবং উত্তর প্রদেশ , বিহার ,  কাশ্মির , জম্মু  কে একসাথে নিয়ে বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান কে যুক্ত  করবার একটা পরিকল্পনা নিয়েছ

হযরত মোহাম্মদ কেন কল্কি অবতার ননঃ ইসলামী অপপ্রচারের জবাব




মুহম্মদ কি কল্কি পুরান এর কল্কি অবতার?এ নিয়ে ইসলামিক অপপ্রচার আর প্রকৃত সত্যের তফাত টা নিজেরাই দেখে নেই-
1. কল্কি পুরান এ বলা আছে কল্কি অবতার এর পিতা মারা যাবে তার জন্মের পর কিন্তু মুহম্মদ এর ক্ষেত্রে উল্টো হয়েছিল। (1:2:15 Kalki Purna)
2.//কল্কি পুরান 2nd অধ্যায় ১৫নং অনুচ্ছেদে আছে যে
তিনি জন্ম নিবেন মাসের এক ১২ তারিখে ( মোহাম্মাদ (সঃ) ১২ ই রবিউল আউয়াল মাসের ১২তারিখে জন্ম গ্রহন করেছিলেন)//
এই দাব
3.//আর বলা আছে তার বাবার হবে বিষ্ণুইয়াসি যার অর্থ সৃষ্টিকর্তার গোলাম। আব্দুল্লাহ শব্দের অর্থ ও সৃষ্টিকর্তার গোলাম।//আসলে নামটা হবে বিষ্ণুযশ যার অর্থ "ঈশ্বরের গর্ব",সৃষ্টিকর্তার গোলাম নয়4.//সুমতিঃ “সু” অর্থ শান্ত এবং “মতি” অর্থ আত্মা বা হৃদয়। অর্থাৎ “সুমতি” শব্দের অর্থ পরিতুষ্ট আত্মা। আবরীতে “আমিনা” শব্দের অর্থও শান্ত বা পরিতুষ্ট আত্মা। (আমিনা নবীহযরত মুহাম্মদের মাতার নাম)//মতি অর্থ আত্মা তা এই প্রথম শুনলাম।হাহাহা4.//এবার আসুন সংস্কৃত “শম্ভুল” শব্দ কি বুঝানো হয়েছে?ভারতের বৈদিক যুগের পন্ডিতরা পৃথিবীর স্থলভাগকে সাতটি অঞ্চলে ভাগ করেছিলেন।১.জম্বুঃ ভারত, তিব্বত ও চীনঅঞ্চল২.শাকঃ পারস্য ও ইরাক অঞ্চল৩.কুশঃ আফ্রিকা অঞ্চল৪.ক্রৌঞ্চঃ ইউনান বা গ্রীস৫.প্লক্ষ৬.পুষ্করঃ স্পেন ও ইতালী অঞ্চল৭.শম্ভুলঃ আরব অঞ্চল//৫.এই তথ্যটি জাকির কোথাথেকে পেলেন তা জানিনা।তবে শম্ভুল কোন অঞ্চল নয় বরং কল্কির জন্ম নেয়া গ্রামের নাম।আর এই গ্রামটি আরব এ নয় বরং যমুনা ও গঙ্গার মাঝামাঝি অবস্থিত।(Kalki purana 3/39)6.//সাধারণত সব হিন্দু বিশ্লেষক রা মানেন যে বেদে মোহাম্মাদ (সঃ) এর কথা বলা হয়েছে। কিন্ত সাধারন হিন্দুরা কেন জানি মানতে চায় না জানি না।//আরেকটা বড় মিথ্যা।কোন হিন্দু গ্রন্থবিশারদ ই এটা বলেননি।7.আরো কয়েকটি ব্যাপার যেমন কল্কি পুরান(3/43) এ লেখা হয়েছে তাকে তার গুরু রামদেব বেদ শেখাবেন।এখন কথা হল মুহম্মদ কি বেদ শিখেছিলেন?8.Brahmanda purana(1/2/31/76-106),vayu purana(58/75-110) হতে যানা যায় যে কল্কি পৃথিবীর প্রত্যেকটি প্রান্তে যাবেন এবং সেখানকার খারাপ লোকদের হত্যা করবেন,এতে আর খুব কম লোক ই অবশিষ্ট থাকবে এবং তাদের মাধ্যমে আবার সত্যযুগ শুরু হবে।এগুলো কি মুহম্মদ এর সাথে মেলে।9.কল্কি পুরান 3/43 এ দেয়া হয়েছে কল্কি এবং তার স্ত্রী নিরামিষভোজী ছিলেন।মুহম্মদ ও তার স্ত্রী ছিলেন কি?তাই এসব অপপ্রচার এর বিরুদ্ধে সজাগ থাকুন(চলবে)
 সোর্স : বাঙালি হিন্দু পোস্ট 

বেদে হযরত মোহাম্মদের সম্পর্কে কোন ভবিষৎবাণী নেই


বেদ হিন্দুদের সর্ব্বোচ্চ ধর্মগ্রন্থ এবং অলঙ্ঘনীয়।কোন কিছু বেদে থাকলেই যে কোন হিন্দু তা মেনে নেবে আর এই সুযোগটাই কিছু দিন ধরে নিচ্ছে কতিপয় ইসলামিক মিথ্যাবাজ যারা প্রচার করছে বেদে মুহম্মদ এর কথা উল্লেখিত আছে এবং তাকে ঋষি ও স্বর্গীয় বার্তাবাহক বলা হয়েছে।তাদের এহেন দাবী পর্যালোচনা করে দেখা যাক-


অথর্ববেদ ২০/১২১/১-৩//(১)তিনি নরসংশ যার অর্থ প্রশংসিত,তিনি কৈরামা অর্থাত্‍ শান্তির রাজপুত্র,যিনি ৬০০৯৯ জন শত্রুর মধ্যেও নিরাপদ ছিলেন-যেহেতু মুহম্মদ শব্দের অর্থও প্রশংসিত আর তখনকার সময়ে মক্কার অধিবাসী সংখ্যাও ছিল প্রায় ৬০০০০ সেহেতু এটা মুহম্মদ কেই ইঙ্গিত করা হয়েছে//



ANALYSIS-নরসংশ শব্দের অর্থ কোনভাবেই 'প্রশংসিত' নয় বরং প্রশংসাকারী,তাই এটার অর্থ মুহম্মদ এর সমার্থক নয়।আর যদি হতও তারপরও নামের অর্থ মিল দিয়েএরুপ বলাটা হাস্যকর।যেমন ধরুন'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' যার অর্থ সংস্কৃত তে 'দয়ানন্দ কি জয়'।তার মানে কি এই যে কোরানস্বামী দয়ানন্দ স্বরস্বতী এর জয় ঘোষনা করছে?কৈরামা শব্দের অর্থ আসলে হচ্ছে যিনি শান্তির সাথে পৃথিবী তে বসবাস করে।সারাজীবন অসংখ্য রক্তহ্ময়ী যুদ্ধে লিপ্ত থাকা মুহম্মদ তাই ছিলেন কি?পরন্তু মক্কার অধিবাসী কত ছিল তা কোন জায়গায় ই লিপিবদ্ধ নেই।এটা সম্পুর্নমনগড়া কল্পনা।



//(২)তিনি উট আরোহনকারী ঋষি যার রথ স্বর্গ স্পর্শ করে-যেহেতু উটের কথা বলা হয়েছে সেহেতু এটা মরুভুমির কথা।এছাড়া মনুসংহিতা(11/ 202)মতে একজন ব্রাক্ষ্মন এরউটে চরা নিষিদ্ধ সেহেতু এটাকোন ভারতীয় এর কথা বলা হয়নি//


ANALYSIS-Manusa mhita(11/202) এ বলা হয়েছে ব্রাক্ষ্মন এর নিষিদ্ধ কিন্তু বেদের এই সুক্তটি একজন রাজর্ষি বা ক্ষত্রিয় ঋষির জন্য।অপরদিকে মরুভুমিশুধু আরবে নেই ভারতেও আছে(রাজস্থান)।



// (৩)তিনি একজন 'MAMAH' ঋষি যাকে দেয়া হয়েছে ১০০ টি স্বর্নমুদ্রা,১০ টি হার,৩০০টা অশ্ব,১০০০০ গাভী-এখানে MAMAH অর্থ উচ্চ শ্রদ্ধাযুক্ত,১০ ০ টি স্বর্নমুদ্রা দিয়ে মুহম্মদএর ১০০ জন অনুসারী এবং ১০ টি হার দিয়ে ১০ জন সাহাবীকেবোঝানো হয়েছে।এছাড়া গো অর্থ গরু ছাড়াও GAW or Go to war এবং এর মাধ্যমে যুদ্ধে যাওয়া ১০০০০ সাহাবী কে বোঝানো হয়েছে।তাছাড়া গরু খুবই দয়াশীল ও শান্ত প্রানী,ঠিক যেমন ছিলেন মুহম্মদ এর ওই সৈন্যরা//


ANALYSIS-এখানে শব্দটি MAMAH নয় বরং MAMAHE(MAMA-আমি,AHE-দেই),কোনভা বেই যার অর্থ উচ্চ শ্রদ্ধাশীল নয়।এছাড়া কোনখানেই পাওয়া যায়না যে গো অর্থ GO TO WAR হতে পারে।গোপথ ব্রাক্ষ্মন এ গো অর্থ দেয়া হয়েছে-গরু,পৃথিব ী।কিন্তু যখনই কোন উপহার অথবা দানের কথা(যেটা এখানে বলা হচ্ছে) বলা হয় তখন গরু অর্থটা প্রযোজ্য।আর গরু অর্থ দয়াশীল এবং শান্তই হয়ে থাকেতবে মুসলমানরা গরু মারে কেন?এখন আবার ১০টি হার ১০জনসাহাবী হয়ে গেছে।হাহাহা।মুস া এরও তো ১০ জন অনুসারী ছিল।তাহলে এখন ইহুদিরা যদি দাবী করে এটা MOSES এর কথা বলেছে?


তাহলে মন্ত্র ৩টির প্রকৃত অর্থ দাড়ায়-
1/He who praises,dwells peacefully is kept away from 60090 types of ANTAAHINDRIYA enemy

2/ He(the rishi of this suktam)has 20 camel riding chariot(
রথ,কিন্তু মুহম্মদ কখনও রথে চড়েননি) whose chariot are reachable to heaven.

3/He who is such virtuous,I give him wealth as like as 100 gold coins,10 chaplets,300 horses,10000 cow.
অর্থাত্‍ এখানে কোথাও মুহম্মদ সম্পর্কিত কিছু নেই।

//ঋগবেদ ১/৫৩/ ৯ এ ঋষিকে বলা হয়েছে SUSHRAMA যার অর্থ প্রশংসিত,মুহম্মদ শব্দের অর্থও একই//
আবার ও শব্দের বিকৃতি।এখানে শব্দটি হচ্ছেSUSHRAVASA যার অর্থGOOD LISTENER/ RELIABLE FRIEND

//অথর্ববেদ ২০/২১/৬এখানে একটি শব্দ আছে Karo যার অর্থ Praying oneআরবীতে যার অর্থ আহমদ,মুহম্মদ এর অপর নাম//
প্রথমত KARO শব্দের অর্থ Ofwhom,praying one নয়।উপরন্তু এখানেKARO বলতে কোন শব্দই নেই।এখানে শব্দটি হচ্ছে KARAVE যার অর্থAction oriented।সাধারন হিন্দুদের অজ্ঝানতার সুযোগনিয়ে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে তারা।তাই আমাদের সকলের ই বেদ শিক্ষা অত্যন্তজরুরি।

By-Niloy Arya

দীর্ঘ একমাস ভিবিন্ন কারণবসত বাঙালি হিন্দু বার্তা সাইট আপডেট করা হইনি

গত একমাসে  যথারীতি  ঘটে  গেছে বহু ঘটনা  তার আপডেট এখানে পোস্ট করা হলো 

১)  হিন্দু   সমহতি নেতা তপন কুমার ঘোষ কে গ্রেপ্তার করে প্রায় ১৯ দিন   জেল  হেফাজতে  বন্ধ করে  রেখেছিল কলকাতা পুলিশ । কিন্তু ভিবিন্ন আন্তর্জাতিক এবং ভারতীয় মানবাধিকার সংঘঠনের যৌথ উদোগে শেষ পর্যন্ত নির্দোষ তপন ঘোষ কে  পশ্চিম বঙ্গ  সরকার ছাড়তে বাধ্য হলো । 

২) এদিকে অপার বাংলায় মানে তথাকথিত বাংলাদেশ এ অন্নায় ভাবে এক অসাংবিধানিক মৌলবাদী মুসলমান দাবির কাছে মাথা  নত করলো বাংলাদেশ সরকার । বাংলাদেশে ৮৪ জন  নাস্তিক ব্লগার এর তালিকা বের করে সরকারি ভাবে ঘোষণা করা হই যে  প্রতেকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে ।  ইতিমধেই ৩ জন ব্লগার কে  গ্রেপ্তার  করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা কার্যকারী করা হয়েছে । 

Monday, March 11, 2013

Saturday, March 9, 2013

বেদে কোনো বর্ণভেদ নেই

এটা ভীষণ দুর্ভাগ্যজনক যে, যে বিশ্বের হিন্দু সম্প্রদায়ে বেদ হলো সমাজের মূল ভিত্তি, সেখানে আমরা ভুলেই গেছি বেদের মূল শিক্ষাগুলো এবং নিজেদেরকে নানা ভুল-ভ্রান্তিসমূহের ধারণায় জড়িয়ে ফেলেছি যেমন, জন্মগত caste system-সহ নানারকম বৈষম্য। এরকম বিপথগামী চিন্তা-চেতনা, ধ্যান-ধারণা আমাদের সমাজকে ভীষণ ক্ষতিসাধন করেছে এবং বৈষম্যের সূত্রপাত ঘটিয়ে দিয়েছে। দলিত নামক জাতিচ্যুত ব্যক্তিদের আমরা দূরে ঠেলে দিয়েছি এবং এর ফলে আমাদের উন্নতি ও প্রগতির বিকাশ স্থবির হচ্ছে। এর একমাত্র সমাধান হচ্ছে হিন্দু সমাজের মূলে গিয়ে বেদকে জানা - যার ফলে আমরা আমাদের মধ্যে ভাঙা সম্পর্কগুলো পুনরায় স্থাপণ করতে পারব।  

এই লেখায় আমরা চেষ্টা করব বেদ অনুযায়ী আমাদের caste system সম্পর্কে প্রকৃত ইতিহাস উদঘাটন করার এবং শূদ্রের আসল অর্থ খোঁজার। 


১। 
প্রথমত, কোনো প্রকার হিংসা বা বৈষম্যের স্থাণ নেই বেদে যেকোনো ব্যক্তি সম্পর্কে - সে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, বা শূদ্র কিনা। 

২। 
Caste system প্রায় নতুন। বেদে কোনো শব্দ নেই যার অর্থ বর্ণ/জাতি হতে পারে। আসলে, caste, জাতি আর বর্ণ এগুলো এক একটি এক এক অর্থ বহন করে। 

Caste হলো একটি ইউরোপীয় নবধারা যার সাথে বৈদিক সংস্কৃতির কোনো সামঞ্জস্যতা নেই। 

জাতি 

'জাতি'র অর্থ হচ্ছে এক শ্রেণীভুক্তকরণ যার উৎস হচ্ছে জন্মে। ন্যায় সূত্র বলেছে "সমানপ্রসাভাত্মিকা জাতিহ্‌" অথবা তারা যাদের একইপ্রকার জন্মসূত্র যা এদেরকে একটি জাতিতে সমষ্টিবদ্ধ করে। 
একটি প্রাথমিক আরো বড় শ্রেণীভুক্তকরণ ঋষিদের দ্বারা করা হয়েছে চারভাবে: উদ্ভিজ (অর্থাৎ গাছপালা), আন্ডাজ (অর্থাৎ ডিম থেকে যার উৎপত্তি যেমন পাখি এবং সরীসৃপ), পিন্ডজ (স্তন্যপায়ী), উষ্মজ (তাপমাত্রা বা পরিবেষ্টনকারী আবহাওয়ার জন্য যার জন্ম যেমন ভাইরাস, ব্যাক্টেরিয়া ইত্যাদি)। 
তেমনিভাবে নানাপ্রকার পশুসমূহ যেমন হাতি, সিংহ, খরগোশ ইত্যাদি তৈরি করে এক ভিন্ন 'জাতি'। একইভাবে সমস্ত মানবকুল তৈরি করে একটি 'জাতি'। 
একটি নির্দিষ্ট জাতির থাকবে একই ধরনের বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য যারা সেই জাতি থেকে আরেক জাতিতে পরিবর্তিত হতে পারবে না এবং ভিন্ন জাতির বাচ্চা প্রসব করতে পারবে না। অর্থাৎ, জাতি হচ্ছে ঈশ্বরের সৃষ্টি। 
ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্রেরা কোনোভাবেই ভিন্ন জাতি নয় কারণ তাদের মধ্যে জন্ম সূত্রগত বা বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যগত কোনো পার্থক্য নেই যা তাদেরকে ভিন্ন করবে। 
পরবর্তীতে 'জাতি' শব্দটি ব্যবহৃত হতে শুরু করে যেকোনো প্রকার শ্রেণীভেদকরণের জন্য। তাই সাধারণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমরা ভিন্ন ভিন্ন সমাজকেও ভিন্ন ভিন্ন 'জাতি' হিসেবে আখ্যা দেই। কিন্তু এ শুধু ব্যবহারের সুবিধার জন্য। আসলে আমরা মানবকুল এক জাতিরই অংশ। 



বর্ণ 

প্রকৃত যে শব্দ ব্যবহার করা হয়েছিল ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র বোঝাতে তা হলো 'বর্ণ' ('জাতি' নয়)। 
'বর্ণ' শব্দটি
যবহৃত হয়েছে এই চারকে বোঝাতেই নয়, বরং দস্যু ও আর্যদেরকেও। 

'বর্ণ' অর্থ হচ্ছে তাহাই যাহা গ্রহণ করা হয় পছন্দের দ্বারা। তাই, যেখানে 'জাতি' ঈশ্বর দ্বারা প্রদত্ত, 'বর্ণ' হচ্ছে আমাদের নিজস্ব পছন্দগত। 

যারা আর্য হতে পছন্দ করে তাদের বলা হয় 'আর্য বর্ণ'। তেমনি যারা দস্যু হতে পছন্দ করে, তারা হয় 'দস্যু বর্ণ'। একইভাবে হয় ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র। 

এই কারণেই বৈদিক ধর্মকে বলা হয় 'বর্ণাশ্রম ধর্ম'। বর্ণ শব্দটি ইঙ্গিত করে যে এটির ভিত্তি হচ্ছে নিজ পছন্দকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়া ও যোগ্যতা অনুসারে পরিচালিত ব্যবস্থাকে অনুমোদন দেয়া। 

৩। 
যারা বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মকান্ডে নিয়োজিত, তারা পছন্দ করেন 'ব্রাহ্মণ বর্ণ'। যারা প্রতিরক্ষা, যুদ্ধ-বিগ্রহ পছন্দ করেন, তারা হন 'ক্ষত্রিয় বর্ণ'। যারা অর্থনীতি ও পশুপালনাদি পছন্দ করেন তারা হন 'বৈশ্য বর্ণ' এবং যারা নিয়োজিত আছেন অন্যান্য সেবামূলক কাজ-কর্মে, তারা হন 'শূদ্র বর্ণ'। এসব শুধু বোঝায় নানা ধরনের পছন্দ যেসব মানুষজন তাদের কর্মের জন্য নির্বাচন করেন এবং এর সাথে 'জাতি' বা জন্মের কোনো সম্পর্ক নেই। 

৪। 
পুরুষ সুক্তের অন্যান্য মন্ত্রসমূহ উদ্ধৃতি দিয়ে প্রমাণ করেছে যে, ব্রাহ্মণ এসেছে ঈশ্বরের মুখ থেকে, ক্ষত্রিয় হাত থেকে, বৈশ্য উরু থেকে এবং শূদ্র পা থেকে। সেইভাবে এইসব বর্ণসমূহ জন্মগত। কিন্তু কোনোকিছুই এর চেয়ে বেশী ভ্রান্তিজনক হতে পারে না। আসুন দেখি কেন: 

(অ) 
বেদ ঈশ্বরকে বর্ণনা করে আকারহীন ও অপরিবর্তনশীল হিসেবে। এমন ঈশ্বর কিভাবে বিশাল আকৃতির মানুষের রূপ ধারণ করতে পারে যদি তিনি আকারহীনই হন? (যজুর্বেদ ৪০.৮) 

(আ) 
যদি ইহা সত্যিই হয়, তাহলে তাহা বেদের কর্মতত্ত্বের বিরোধীতা করবে। কারণ কর্মতত্ত্ব অনুযায়ী, একজন ব্যক্তির জন্মগত পরিবার পরিবর্তিত হতে পারে তার কর্ম অনুসারে। সুতরাং একজন ব্যক্তি যে শূদ্র পরিবারে জন্ম নেয়, পরের জন্মে এক রাজার পরিবারে জন্ম নিতে পারে। কিন্তু যদি শূদ্রেরা ঈশ্বরের পা থেকে এসে থাকে, তাহলে সেই একই শূদ্র ঈশ্বরের হাত থেকে কিভাবে জন্ম নেয়? 

(ই) 
আত্মা হলো সময়হীন এবং কখনো জন্ম নেয় না। সুতরাং আত্মার কখনোই কোনো বর্ণ হতে পারে না। এ শুধুমাত্র যখন আত্মা জন্ম নেয় মনুষ্য হিসেবে তখনই এর সুযোগ থাকে বর্ণ বেছে নেবার। তাহলে বর্ণ দ্বারা কি বোঝানো হয় যা ঈশ্বরের একাংশ হতে আসে? যদি আত্মা ঈশ্বরের দেহ থেকে জন্ম না নিয়ে থাকে,
তাহলে কি এই বোঝায় যে আত্মার দেহ তৈরি হয়েছে ঈশ্বরের দেহের অংশ থেকে? কিন্তু বেদ অনুযায়ী, এমনকি প্রকৃতিও চিরন্তন। এবং এই একই অনু-পরমানু পুনর্ব্যবহৃত হচ্ছে নানা মনুষ্যের মধ্যে। তাই কৌশলগতভাবে ঈশ্বরের দেহ থেকে জন্ম নেয়া কারো পক্ষে অসম্ভব, এমনকি আমরা যদি ধরেও নেই ঈশ্বরের দেহ আছে। 


(ঈ) 
উপরে উল্লেখ করা পুরুষ সুক্ত রয়েছে যজুর্বেদের ৩১তম অধ্যায়ে (এবং ঋগবেদ ও অথর্ববেদ বাদে যেগুলোতে কিছু ভিন্নতা রয়েছে। যজুর্বেদে এ হচ্ছে ৩১.১১)। প্রকৃতভাবে এর অর্থ কি তা বোঝার জন্য, আসুন দেখি এর আগের মন্ত্রের দিকে লক্ষ্য করি ৩১.১০। 
এতে প্রশ্ন করা হয়েছে - কে মুখ? কে হাত? কে উরু আর কেই বা পা? 
এর পরের মন্ত্র এর উত্তর দিয়েছে - ব্রাহ্মণ হলো মুখ, ক্ষত্রিয় হলো হাত, বৈশ্য হলো উরু এবং শূদ্র হলো পা। 
লক্ষ্য করুন, মন্ত্রটি কিন্তু বলছে না ব্রাহ্মণ "জন্ম নেয়" মুখ থেকে...এটি বলছে ব্রাহ্মণ "হলো" মুখ। 
কারণ যদি মন্ত্রটির অর্থ হতো "জন্ম নেওয়া" তাহলে এটি উত্তর দিত না আগের মন্ত্রের প্রশ্নটির "কে মুখ?" 
যেমন, যদি আমি প্রশ্ন করি "দশরথ কে?" উত্তরটি যদি হয় "রাম জন্ম নেন দশরথের ঘরে" তাহলে তা হবে অর্থহীন। 

প্রকৃত অর্থ হচ্ছে: 
সমাজে ব্রাহ্মণ বা বুদ্ধিজীবিরা তৈরি করে মস্তিষ্ক বা মাথা বা মুখ যা চিন্তা করে এবং বলে। ক্ষত্রিয় বা রক্ষণকর্মীরা তৈরি করে হাত যা রক্ষা করে। বৈশ্য বা উৎপাদনকারীরা এবং ব্যবসায়ীরা তৈরি করে উরু যা ভার বহন করে এবং যত্ন করে (লক্ষ্য করুন উরুর হাড় অথবা উর্বাস্থি তৈরি করে রক্ত এবং এ হচ্ছে দেহের সবচেয়ে শক্ত হাড়)। অথর্ববেদে উরুর বদলে "মধ্য" শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে যার অর্থ বোঝায় পাকস্থলী এবং দেহের মধ্যের অংশ। 

শূদ্র বা শ্রমিকেরা তৈরি করে পা যা কাঠামোটিকে দাঁড় করায় এবং দেহকে চলতে সক্ষম করে। 
পরবর্তী মন্ত্রগুলো আলোচনা করেছে অন্যান্য দেহের অংশ সম্পর্কে যেমন - মন, চোখ ইত্যাদি। পুরুষ সুক্ত বর্ণনা করেছে সৃষ্টির সূত্রপাত এবং তার স্থায়ী থাকা সম্পর্কে যার মধ্যে অন্তর্গত মানব সমাজ এবং বর্ণনা করেছে অর্থপূর্ণ সমাজের উপাদানসমূহকে। 
তাই এ ভীষণ করুণ অবস্থা যে এমন সুন্দর সমাজ সম্পর্কে রূপক বর্ণনা এবং সৃষ্টি সম্পর্কিত বর্ণনা বিকৃত হয়েছে যা সম্পূর্ণভাবে বৈদিক মূল্যবোধের বিরুদ্ধে। 
এমনকি ব্রহ্ম গ্রন্থগুলো, মনুস্মৃতি, মহাভারত, রামায়ণ এবং ভগবদগীতা বলে নাই কোনোকিছুই যার কাছাকাছি উপপ্রমেয় হতে পারে এমন অদ্ভূত যে ঈশ্বর তৈরি করেছেন ব্রাহ্মণদের তাঁর মুখ হতে মাংস ছিঁড়ে কিংবা ক্ষত্রিয়দের তাঁর হাতের মাংস থেকে বা অন্যান্যসমূহ।


৫। 
তাই এটি স্বাভাবিক কেন ব্রাহ্মণরা বেদ অনুসারে সবচেয়ে বেশী সম্মান লাভ করেছে। এমনটিই হচ্ছে আজকের বর্তমান সমাজে। বুদ্ধিজীবিরা এবং অভিজ্ঞরা আমাদের সম্মান অর্জন করেন কারণ তারা তৈরি করেন দিক প্রদর্শনকারী সারা মানবতার জন্য। কিন্তু যেমনভাবে পূর্বে আলোচিত হয়েছে যে, বেদে শ্রমের মর্যাদা সমভাবে জোর দেওয়া হয়েছে এবং এই কারণেই কোনো প্রকার বৈষম্যের উপাদান নেই। 

৬। 
বৈদিক সংস্কৃতিতে সবাইকে ধরা হয় শূদ্র হিসেবে জন্ম। তারপর ব্যক্তির শিক্ষা-দীক্ষা দ্বারা সে পরিণত হয় ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্যতে। এই শিক্ষা-দীক্ষার পূর্ণতাকে ধরা হয় দ্বিতীয় জন্ম। একারণেই এই তিন বর্ণকে বলা হয় "দ্বিজ" বা দু'জন্মা। কিন্তু যারা রয়ে যায় অশিক্ষিত (যেকোনো কারণেই হোক) তারা সমাজ থেকে বিচ্যুত হয়। তারা চালিয়ে যায় শূদ্র হিসেবে এবং করে যায় সমাজের সেবামূলক কাজসমূহ। 

৭। 
এক ব্রাহ্মণের পুত্র, যদি সে তার শিক্ষা-দীক্ষা সম্পূর্ণ করতে অসমর্থ হয়, পরিণত হয় শূদ্রে। তেমনিভাবে শূদ্রের পুত্র অথবা এমনকি দস্যু, যদি সে তার শিক্ষা-দীক্ষা সম্পূর্ণ করে, তাহলে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় কিংবা বৈশ্য হতে পারে। এ হচ্ছে নির্ভেজাল যোগ্যতা অনুযায়ী ব্যবস্থা। যেমনভাবে এখনকার সময়ে ডিগ্রী প্রদান করা হয়, যজ্ঞপবিত দেয়া হতো বৈদিক নিয়ম অনুসারে। তাছাড়া, আচরণবিধির সাথে অসম্মতি ঘটলে যজ্ঞপবিত নিয়ে নেয়া হতো বর্ণগুলোর। 

৮। 
বৈদিক ইতিহাসে অনেক উদাহরণ রয়েছে বর্ণ পরিবর্তনের - 

(ক) 
ঋষি ঐতরেয়া ছিলেন দাস বা অপরাধীর পুত্র কিন্তু তিনি পরিণত হন শীর্ষ ব্রাহ্মণদের মধ্যে একজন এবং লেখেন ঐতরেয়া ব্রহ্ম এবং ঐতরেয়াপোনিষদ। ঐতরেয়া ব্রহ্মকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ধরা হয় ঋগবেদ বোঝার জন্য। 

(খ) 
ঋষি ঐলুশ জন্মেছিলেন দাসীর ঘরে যিনি ছিলেন জুয়াখোর এবং নিচু চরিত্রের লোক। কিন্তু এই ঋষি ঋগবেদের উপর গবেষণা করেন এবং কিছু বিষয় আবিষ্কার করেন। তিনি শুধুমাত্র ঋষিদের দ্বারা আমন্ত্রিতই হতেন না এমনকি আচার্য্য হিসেবেও অধিষ্ঠিত হন। (ঐতরেয়া ব্রহ্ম ২.১৯) 

(গ) 
সত্যকাম জাবাল ছিলেন এক পতিতার পুত্র যিনি পরে একজন ব্রাহ্মণ হন। 

(ঘ) 
প্রীষধ ছিলেন রাজা দক্ষের পুত্র যিনি পরে শূদ্র হন। পরবর্তীতে তিনি তপস্যা দ্বারা মোক্ষলাভ করেন প্রায়ঃশ্চিত্তের পরে। (বিষ্ণু পুরাণ ৪.১.১৪) 
যদি তপস্যা শূদ্রদের জন্য নিষিদ্ধ হতো যেমনভাবে উত্তর রামায়ণের নকল গল্প বলে, তাহলে প্রীষধ কিভাবে তা করল? 



(ঙ) 
নবগ, রাজা নেদিস্থের পুত্র পরিণত হন বৈশ্যে। তার অনেক পুত্র হয়ে যান ক্ষত্রিয়। (বিষ্ণু পুরাণ ৪.১.১৩) 

(চ) 
ধৃষ্ট ছিলেন নবগের (বৈশ্য) পুত্র কিন্তু পরে ব্রাহ্মণ হন এবং তার পুত্র হন ক্ষত্রিয়। (বিষ্ণু পুরাণ ৪.২.২) 

(ছ) 
তার পরবর্তী প্রজন্মে কেউ কেউ আবার ব্রাহ্মণ হন। (বিষ্ণু পুরাণ ৯.২.২৩) 

(জ) 
ভগবদ অনুসারে অগ্নিবেশ্য ব্রাহ্মণ হন যদিও তিনি জন্ম নেন এক রাজার ঘরে। 

(ঝ) 
রাথোটর জন্ম নেন ক্ষত্রিয় পরিবারে এবং পরে ব্রাহ্মণ হন বিষ্ণু পুরাণ ও ভগবদ অনুযায়ী। 

(ঞ) 
হরিৎ ব্রাহ্মণ হন ক্ষত্রিয়ের ঘরে জন্ম নেয়া সত্ত্বেও। (বিষ্ণু পুরাণ ৪.৩.৫) 

(ট) 
শৌনক ব্রাহ্মণ হন যদিও ক্ষত্রিয় পরিবারে জন্ম হয়। (বিষ্ণু পুরাণ ৪.৮.১) 
এমনকি বায়ু পুরাণ, বিষ্ণু পুরাণ ও হরিবংশ পুরাণ অনুযায়ী শৌনক ঋষির পুত্রেরা সকল বর্ণের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। 
একই ধরনের দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় গ্রীতসমদ, বিতব্য ও বৃৎসমতির মধ্যে। 

(ঠ) 
মাতঙ্গ ছিলেন চন্ডালের পুত্র কিন্তু পরে ব্রাহ্মণ হন। 

(ড) 
রাবণ জন্মেছিলেন ঋষি পুলৎস্যের ঘরে কিন্তু পরে রাক্ষস হন। 

(ঢ) 
প্রবৃদ্ধ ছিলেন রাজা রঘুর পুত্র কিন্তু পরে রাক্ষস হন।


 (ণ) 
ত্রিশঙ্কু ছিলেন একজন রাজা যিনি পরে চন্ডাল হন। 

(ত) 
বিশ্বামিত্রের পুত্রেরা শূদ্র হন। বিশ্বামিত্র নিজে ছিলেন ক্ষত্রিয় যিনি পরে ব্রাহ্মণ হন। 

(থ) 
বিদুর ছিলেন এক চাকরের পুত্র কিন্তু পরে ব্রাহ্মণ হন এবং হস্তিনাপুর রাজ্যের মন্ত্রী হন। 

৯। 
"শূদ্র" শব্দটি বেদে দেখা গেছে প্রায় ২০ বারের মতো। কোথাও এটি অবমাননাকরভাবে ব্যবহৃত হয়নি। কোথাও বলা হয়নি শূদ্রেরা হলো অস্পর্শযোগ্য, জন্মগতভাবে এই অবস্থাণে, বেদ শিক্ষা হতে অনুনোমোদিত, অন্যান্য বর্ণের তুলনায় নিম্ন অবস্থাণের, যজ্ঞে অনুনোমোদিত। 

১০। 
বেদে বলা হয়েছে শূদ্র বলতে বোঝায় কঠিন পরিশ্রমী ব্যক্তি। (তপসে শূদ্রম্‌ - যজুর্বেদ ৩০.৫) 
একারণেই পুরুষ সুক্ত এদের বলে পুরো মানব সমাজের কাঠামো। 

১১। 
যেহেতু বেদ অনুযায়ী চার বর্ণসমূহ বলতে বোঝায় চার প্রকারের কর্মকান্ড যা পছন্দের উপর ভিত্তি করে, একই ব্যক্তি প্রকাশ করতে পারে চার বর্ণের বৈশিষ্ট্য চার ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতিতে। এইভাবে সকলেই চার বর্ণের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু সারল্যতার জন্য, আমরা বলি প্রধান পেশাকে বর্ণের পরিচয় হিসেবে। এবং এই কারণে সকল মানুষের উচিত পূর্ণভাবে চার বর্ণ হবার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করা, যেমনভাবে বেদের জ্ঞান আমাদের বলে। এই হলো পুরুষ সুক্তের সারাংশ। 

ঋষি বশিষ্ঠ, বিশ্বামিত্র, অঙ্গীরা, গৌতম, বামদেব ও কন্ব - এরা সকলেই চার বর্ণের বৈশিষ্ট্যের দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। তারা বৈদিক মন্ত্রের অর্থ উদ্ভাবন করেছেন, দস্যু দমন করেছেন, দৈহিক শ্রমের কর্ম করেছেন এবং নিজেদেরকে যুক্ত করেছেন সমাজ কল্যাণের জন্য সম্পদ ব্যবস্থাপনায়। 
আমাদেরও উচিত এমনটিই হওয়া। 


অবশেষে আমরা দেখলাম বৈদিক সমাজ সকল মানুষকে একই জাতি বা গোষ্ঠী হিসেবে গণ্য করে, শ্রমের মর্যাদা বহাল রাখে, এবং সকল মানুষের জন্য সমান সুযোগ প্রদান করে যাতে তারা নিজ নিজ বর্ণ গ্রহণ করতে পারে। 
বেদে কোনো প্রকার জন্মগত বৈষম্যের উল্লেখ নেই। 
আমরা যেন সকলে একযুক্ত হয়ে একটি পরিবারের ন্যায় একতাবদ্ধ হতে পারি, প্রত্যাখান করতে পারি জন্মগত সকল বৈষম্যকে এবং একে অপরকে ভাই-বোন হিসেবে সদ্ব্যবহার করতে পারি। 
আমরা যেন সকল পথভ্রষ্টকারীদের ভুল পথে এগুনো ব্যাহত করতে পারি যারা বেদে বর্ণভেদ সম্পর্কে ভিত্তিহীন দাবী করে এবং দমন করি সকল দস্যু, অসুর, রাক্ষসদের। 
আমরা যেন সকলে আসতে পারি বেদের আশ্রয়ে এবং একত্রে কাজ করে মানবতার বন্ধনকে আরো দৃঢ় করতে পারি এক পরিবার হিসেবে। 

সুতরাং বেদ অনুযায়ী কোনো বর্ণভেদ নেই।



সোর্স : বাঙালি হিন্দু পোস্ট

বেদে গোহত্যা এবং গোমাংস খাওয়া সম্পূর্ণ ভাবে নিষিদ্ধ

বেদে গোহত্যা এবং গোমাংস খাওয়া সম্পূর্ণ ভাবে নিষিদ্ধ।
বেদ হিন্দুদের আদি ধর্ম গ্রন্থ । বেদে গোহত্যা এবং গোমাংস খাওয়া সম্পূর্ণ ভাবে নিষিদ্ধ। এটা হিন্দু সমাজ মেনে চলে কঠোর ভাবে। 
কিন্তু কিছুদিন ধরে ইন্টারনেট ফোরাম গুলো তে হিন্দুদের বিরুদ্ধে প্রপোগান্ডা চলছে। এরা চায় ১০০ কোটি হিন্দু নিজের বিশ্বাস ত্যাগ করে তাদের ধর্মে ধর্মান্তরিত হোক যেটা তাদের মতে সর্বশেষ পথ । বেশির ভাগ হিন্দুই নিজের ধর্ম সম্পর্কে জ্ঞানী নয় তাই তারা এই শিকারীদের সহজ শিকারে পরিনত হচ্ছে । দেখা যাক বেদ গোহত্যা নিয়ে কি বলে?
১. Ghrtam duhaanaamaditim janaayaagne maa himsiheeh
Yajurveda 13.49
Do not kill cows and bulls who always deserve to be protected.
২. Aare gohaa nrhaa vadho vo astu
Rigveda 7.56.১৭ 
 
ঋগবেদে গোহত্যা কে মানুষ হত্যার সমকক্ষ বলা হয়েছে ও এর সাথে জড়িতদের শাস্তি দিতে বলা হয়েছে । 
৩. Sooyavasaad bhagavatee hi bhooyaa atho vayam bhagvantah syaama
Addhi trnamaghnye vishwadaaneem piba shuddhamudakamaacharantee
Rigveda 1.164.40 or Atharv 7.73.11 or Atharv 9.10.২০
The Aghnya cows – which are not to be killed under any circumstances– may keep themselves healthy by use of pure water and green grass, so that we may be endowed with virtues, knowledge and wealth.
বেদে আঘ্ন্যা . অহি , ও অদিতি হচ্ছে গরুর সমপদ। 
আঘ্ন্যা মানে যাকে হত্যা করা উচিত নয় । 
অহি মানে যার গলা কাটা / জবাই করা উচিত নয় । 
অদিতি মানে যাকে টুকরো টুকরো করা উচিত নয় । 
(Source: Yaska the commentator on Nighantu )
৪. Aghnyeyam saa vardhataam mahate soubhagaaya
Rigveda 1.164.27
 
আঘ্ন্যা গরু আমাদের সুসাস্থ্য ও উন্নতি আনে । 
৫. Suprapaanam Bhavatvaghnyaayaah
Rigveda 5.83.৮ 
আঘ্ন্যা গরুর জন্য সুপেয় জলের উন্নত ব্যবস্থা থাকা উচিত । 
৬. 
Yah paurusheyena kravishaa samankte yo ashwena pashunaa yaatudhaanah
Yo aghnyaayaa bharati ksheeramagne teshaam sheershaani harasaapi vrishcha
Rigveda 10.87.16
Those who feed on human, horse or animal flesh and those who destroy milk-giving Aghnya cows should be severely punished.
এখানে মানুষ,ঘোড়া ও গোমাংস আহারকারিদের শাস্তির কথা বলা আছে । 
৭. Vimucchyadhvamaghnyaa devayaanaa aganma
Yajurveda 12.73
The Aghnya cows and bulls bring you prosperity.
৮. Maa gaamanaagaamaditim vadhishta
 
Rigveda 8.101.15
Do not kill the cow. Cow is innocent and aditi – that ought not to be cut into pieces .
৯. Antakaaya goghaatam
Yajurveda 30.18
Destroy those who kill cows .
১০. 
Yadi no gaam hansi yadyashwam yadi poorusham
Tam tvaa seesena vidhyaamo yatha no so aveeraha
Atharvaveda 1.16.4
If someone destroys our cows, horses or people, kill him with a bullet of lead.
১১. Vatsam jaatamivaaghnyaa
Atharvaveda 3.30.1
Love each other as the Aghnya – non-killable cow – loves its calf.
কিছু কি আর বলা লাগবে বেদ গো হত্যার পক্ষে নাকি বিপক্ষে ?
১২. Dhenu sadanam rayeenaam
Atharvaveda 11.1.34
Cow is fountainhead of all bounties .
 
ঋগ্বেদের ৬ মন্ডলের ২৮ সুক্ত গরুর প্রশংসা করেছে। 
Aa gaavo agnamannuta bhadramakrantseedantu
Bhooyobhooyo rayimidasya vardhayannabhinne
Na taa nashanti na dabhaati taskaro naasaamamitro vyathiraa dadharshati
Na taa arvaa renukakaato ashnute na samskritramupa yanti taa abhi
Gaavo bhago gaava indro me achhaan
Yooyam gaavo medayathaa
Maa vah stena eeshata maaghanshasah
1. Everyone should ensure that cows are free from miseries and kept healthy.
2. God blesses those who take care of cows.
3. Even the enemies should not use any weapon on cows
4. No one should slaughter the cow
5. Cow brings prosperity and strength
6. If cows keep healthy and happy, men and women shall also keep disease free and prosperous
7. May the cow eat green grass and pure water. May they not be killed and bring prosperity to us.
তারপরও কিছু স্বঘোষিত Scholar হিন্দু বিরোধী Site থেকে copypaste করে যাচ্ছে। এদের উদ্দেশ্যে বলব “অল্পবিদ্যা ভয়ঙ্করী “।
 
বেদে গোহত্যা এবং গোমাংস খাওয়া সম্পূর্ণ ভাবে নিষিদ্ধ এটা কমুনিস্ট এবং মিশনারীরা মানতে পারে না। আমাদের বৈদিক সমাজ ব্যবস্থা তাদের সমাজ এর চেয়ে আদর্শিক ভাবে উন্নত। এদের সাথে যোগ হয়েছে একদল ধর্ম ব্যবসায়ী। তারা বেদ ও মনুসংহিতা থেকে গরুর মাংস খাওয়ার Reference খুঁজে বের করতে চায় একটি এদের সহজ Trick হচ্ছে ‘মানসা‘ কে meat / মাংস হিসেবে অনুবাদ করা । ‘মানসা‘ মানে ডাল জাতীয় খাবার । 
আজ বেদ হতে কিছু অপপ্রচার এর জবাব দিব। 
১. অপপ্রচার: 
Rigveda (10/85/13) declares, “On the occasion of a girl’s marriage oxen and cows are slaughtered.”
জবাব: প্রকৃতঅর্থে মন্ত্র টি বলে সূর্যের আলো শীতকালে ম্লান হয়ে যায় এবং বসন্ত কালে শক্তি ফিরে পায় । (the rays of sun get weakened and then get strong again in spring.)
The word used for sun-rays in ‘Go’ which also means cow and hence the mantra can also be translated by making ‘cow’ and not ‘sun-rays’ as the subject. The word used for ‘weakened’ is ‘Hanyate’ which can also mean killing. But if that be so, why would the mantra go further and state in next line (which is deliberately not translated) that in spring, they start regaining their original form.How can a cow killed in winter regain its health in spring? This amply proves how ignorant and biased communists malign Vedas.
সমপদ জিনিস তা এরা বুজে না। 


২. অপপ্রচার: Rigveda (6/17/1) states that “Indra used to eat the meat of cow, calf, horse and buffalo.”
জবাব: মন্ত্র টি বলছে মেধাবী পন্ডিতরা বিশ্ব কে আলোকিত করেন যেমন কাঠ যোগ্গের এর আগুন এর আলো বাড়ায় । 
৩. অপপ্রচার: ব্লগ এ ম জ বাসার নামে এক পন্ডিত বলছে(লিঙ্ক),”বৃষের মাংশ [বেদ:১/১৬৪/৪৩], মহিষের মাংস [বেদ: ৫/২৯/৮], অজের মাংস [বেদ:১/১৬২/৩] খাওয়া হতো।- আরও বলা হয়েছে পরস্বিনী গাভী মানুষের ভজনীয় [ বেদ:৪/১/৬]।- গো হত্যা স্থানে গাভীগণ হত্যা হতো [বেদ:১০/৮৯/১৪]। ইন্দ্রের জন্য গোবৎস উৎসর্গ করা হয়েছে। [ঋকবেদ:১০:৮৬:১৪]। এমনকি উপনিষদ বলছে: ‘বেদজ্ঞান লাভ করতে হলে, স্বাস্থ্যবাদ সন্তান লাভ করতে হলে ষাঁড়ের মাংস খাওয়া জরুরী।” 
জবাব: সমপদের অর্থ আর প্রয়োগ না জানলে এ রকম ই হবে । 
যেমন: 
�keshavaM patitaM dr^shtvA pandavAH harshsha nirbharAH 
rudanti kauravAssarve hA keshava hA keshava.� 
সোজা কথায় মন্ত্রের অর্থ হবে কেশব/কৃষ্ণ কে পরে যেতে দেখে পান্ডবরা উল্লসিত হলো আর কৌরবরা ও কৃষ্ণ, ও কৃষ্ণ বলে অর্থনাদ করে উঠলো। 
এখন এটার কোনো মানে হয় না । কারণ কৃষ্ণ ছিলেন পান্ডবদের পক্ষে। 
 
 
একই শব্দের নানা অর্থ থাকে। 
দেখুন: 
১. কেশব= জল 
২. পান্ডব= সারস পাখি 
৩. কৌরব= কাক 
৪. শব= মৃত দেহ 
এবার অর্থ দেখুন: 
�keshavaM patitaM dr^shtvA pandavAH harshsha nirbharAH
rudanti kauravAssarve hA keshava hA keshava.� 
মৃত দেহটিকে জলে পড়ে যেতে দেখে সারস পাখি খুশি হলো এবং কাক আর্তনাদ করে উঠলো- মৃত দেহটি 
জলে পড়ে গেছে, মৃত দেহটি জলে পড়ে গেছে। 
এখন আমাদের পন্ডিতরাকি বলবেন ‘ কৃষ্ণকে পান্ডবরা ঘৃনা করতেন?’
একই ভাবে বাসার ভাই চালাকি করেছেন । 
আমি দেখাচ্ছি: 
 
“বৃষের মাংশ [বেদ:১/১৬৪/৪৩], মহিষের মাংস [বেদ: ৫/২৯/৮], অজের মাংস [বেদ:১/১৬২/৩] খাওয়া হতো।- আরও বলা হয়েছে পরস্বিনী গাভী মানুষের ভজনীয় [ বেদ:৪/১/৬]।- গো হত্যা স্থানে গাভীগণ হত্যা হতো [বেদ:১০/৮৯/১৪]। ইন্দ্রের জন্য গোবৎস উৎসর্গ করা হয়েছে। [ঋকবেদ:১০:৮৬:১৪]। এমনকি উপনিষদ বলছে: ‘বেদজ্ঞান লাভ করতে হলে, স্বাস্থ্যবাদ সন্তান লাভ করতে হলে ষাঁড়ের মাংস খাওয়া জরুরী।” 
অপপ্রচার: ইন্দ্রের জন্য গোবৎস উৎসর্গ করা হয়েছে। [ঋকবেদ:১০:৮৬:১৪] 
জবাব: 
�ghastta indra ukshshaNaH priyam…..� _RigVeda 10.86.13 
�ukshshaNo hi me panchadasha sAkaM pachanti vimshatiM…� _RigVeda 10.86.14 
অর্থ : 
rik 10.86.13, IndrANi tells Indra, �please receive your favorite soma quickly..� 
In rik 10.86.14 Indra replies, �they are preparing soma for offering fifteen and twenty times..� 
এখানে ukshshNa মানে সোম, বৃষ নয়। 
অপপ্রচার: 
মহিষের মাংস [বেদ: ৫/২৯/৮] খাওয়ার কথা রয়েছে । 
 
 
জবাব: 
�trI yachChatA mahishshANAmag 
ho mastrI….� _ RigVeda 5.29.8
সঠিক অর্থ: 
oh Indra, when
you have recieved three hundred offerings of soma, you will be powerful to kill vr^tra.
অপপ্রচার: অজের মাংস [বেদ:১/১৬২/৩] খাওয়া হতো। 
জবাব: 
�eshshachChAgaH puro ashvena vAjinA…� _RigVeda 1.162.3 
সঠিক অর্থ: 
�the morning fire is lit before, thew sun, the giver of food rises� 
এখানে ছাগ মানে shr^ngarahita ajA / সিন্হীন ছাগল নয় বরং উষালোক। 
অপপ্রচার: বৃষের মাংশ [বেদ:১/১৬৪/৪৩] খাওয়া হতো। 
জবাব: 
 
�…ukshANaM pRshnimapachanta vIrAH…….�…_ RigVeda 1.164.43 
সঠিক অর্থ: I saw from far away the smoke of fuel with spires that rose on high o’er that beneath it.
The Mighty Men have dressed the spotted bullock. These were the customs in the days aforetime,
অপপ্রচার: পরস্বিনী গাভী মানুষের ভজনীয় [ বেদ:৪/১/৬]। 
জবাব: 
Excellent is the glance, of brightest splendour, which the auspicious God bestows on mortals-
The God’s glance, longed-for even as the butter, pure, heated, of the cow, the milch-cow’s bounty.
কোথাও বলা নেই গরু কে জবাই কর । 
অপপ্রচার: – গো হত্যা স্থানে গাভীগণ হত্যা হতো [বেদ:১০/৮৯/১৪]। 

জবাব: 
এখানে Grifith সাহেবের Translation করলে হবে না । Grifith হিন্দুদের খ্রিস্টিয়ান ধর্মে ধর্মান্তরিত করতে সেই Translation করেসিলেন এটা প্রমানিত । এখানে এই ধরনের কোনো কথা বলা হয় নি । এটি একটি প্রার্থনা সঙ্গীত । 
Indra- O glorious warrior!
Te- Your
Aghasya- destroyer of evil
Chetya- power
Kahrrisvit- when
Asat- will appear
Yat- with which you
Rakshah- monsters
Bhinadah- kill
Mitrkruvo- those who are cruel to our dear ones
Eshat- cast terror in them
Yat- so that
Shasne- in the battlefield
Na- just like
Aaryak- after death
Gaavah- animals
Prathivyah- on the field
 
Shayante- lay or sleep
O glorious soldier! Where is your valor with which you kill the devils and cast terror in the hearts of wrong-doer cruel criminals and due to which they will be lying dead just like animals lay on ground while sleeping.(Rig Veda 10.89.14)
আমি সকল কে বলব বেদ থেকে একটি মন্ত্র দেখান যেটাতে গোহত্যা এবং গোমাংস খাওয়া বৈধতা দেয়া হয়েছে তাহলে আমি আপনার কথা মত বিশ্বের যেকোনো ধর্ম গ্রহণ করব আর আপনি যদি না পারেন তবে আপনাকে হিন্দু ধর্মে ফিরে আসতে হবে ।